somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ডিঙ্গি

১৩ ই জুন, ২০২২ দুপুর ২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবিঃ আমার তোলা।

এক সপ্তাহ ধরে একটা নৌকা নদীতে ভাসছে।
দিনরাত ধরে ভাসছে। নৌকায় কেউ নেই। মাঝিহীন নৌকা। পানির স্রোতে ভেসে চলেছে অবিরাম, অজানায়। কোথায় গিয়ে থামবে সে, জানে না! কার নৌকা তা এখনও জানা যায় নি। নৌকাটা বেশ বড়। অবশ্যই মাছ ধরার নৌকা। তবে এ নৌকায় অনায়াসে পনের জন মানুষ বহন করতে পারবে। নৌকা যদি কথা বলতে পারতো তাহলে সে তার মালিকের কাছে ফিরে যেতে পারতো। ভাসতে ভাসতে এখন সে কার কাছে গিয়ে পড়বে সে জানে না। যে তাকে পাবে, সে কি তাকে নিয়ে মাছ ধরতে যাবে, না মানুষ পারাপার করবে? যত্ন নিবে তো তার? নদীর সবচেয়ে আপন হলো নৌকা। নদী আর নৌকা মিলেমিশে একাকার! মানুষের কাছে আপন হলো তার সন্তান। কবুতর কখনও হারায় না। সে তার মালিককে ঠিকই খুঁজে বের করে নেয়। নৌকার সেই ক্ষমতা নেই।

শফিক বাড়ির উঠানে বসে আছে।
তার মন মেজাজ প্রচন্ড খারাপ। তার ডিঙ্গি নৌকাটা হারিয়ে গেছে। অথচ এই নৌকাই তার আয় ইনকামের একমাত্র ভরসা। শফিকের ঘর সংসার আছে। পরিবারে চারজন মানুষ খাওয়ার। মা, স্ত্রী আর একমাত্র মেয়ে ফাতেমা। ফাতেমার বয়স চার বছর। শফিক ডিঙ্গিতে করে মাছ ধরে। কখনও সে ডিঙ্গিতে করে পাট, ধান বা মাটির হাড়ি পাতিল পৌঁছে দেয় দামুদার বাজারে। বিনিময়ে সে কিছু টাকা পায়। সেই টাকা দিয়ে কোনো রকমে বৃদ্ধা মা, স্ত্রী আর কন্যাকে নিয়ে খেয়েপড়ে বেঁচে আছে। আজ সাত দিন হলো তার ডিঙ্গি হারিয়ে গেছে। শফিকের স্পষ্ট মনে আছে সে তার ডিঙ্গি ঘাটে বেঁধে রেখেছিলো। নিশ্চয়ই কেউ তার ডিঙ্গির দড়ি খুলে দিয়েছিলো। এই কাজ কে করতে পারে তা শফিক অনুমান করতে পারে কিন্তু তার বলার সাহস নাই। ডিঙ্গি হারিয়ে শফিক চোখে অন্ধকার দেখছে। তার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। এখন নদীতে ডুবে মরা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।

রমিজ উদ্দিন আজ বড় খুশি।
অবশ্য একটু আগেও সে খুশি ছিলো না। তার স্ত্রী তার সাথে প্রচন্ড খারাপ ব্যবহার করেছে। স্ত্রী জাতি আজিব চিজ। দিতে পারলেই খুশি। না দিলেই গালমন্দ করে। বিয়ে করাই তার ভুল হয়েছে। রাত হয়েছে, স্বামী স্ত্রী দুজন মিলে যা আছে খেয়ে ঘুমাবে। তা না রমিলা শুরু করলো ঝগড়া। ঝগড়ার কারন রমিলা একটা চুন্ডি শাড়ির কথা বলেছিলো। রমিজের কাছে টাকা নাই সে শাড়ি আনতে পারে নি। এখন আনতে পারেনি পরে আনবে। সামান্য শাড়ির জন্য ঝগড়া করতে হবে! এ কেমন মেয়েছেলে! খুব ক্ষুধা লেগেছে রমিজের। সরিষার তেল, আর কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ দিয়ে রমিলা আলু ভর্তা করেছিলো। খাওয়া হলো না আরাম করে। রাগ করে রমিজ নদীর পাড়ে এসে বসেছে। নদীর পাড়েই তার বাসা। আজ রাত মনে হয় নদীর পাড়েই কাটাতে হবে। রমিলা কি তাকে ডেকে নিতে আসবে? হঠাত রমিজ একটা ডিঙ্গি নৌকা দেখতে পায়। ডিঙ্গি দেখে রমিজ খুশি। সে দৌড়ে রমিলার কাছে যায়। গিয়ে বলে, শাড়ি কিনি নি কিন্তু একটা ডিঙ্গি খরিদ করেছি। এখন তোমাকে প্রতিমাসে একটা করে চুন্ডি শাড়ি দিতে পারবো।

শফিকের ঘরে খাবার নেই।
বৃদ্ধা মা খুব অসুস্থ। তাকে ডাক্তার দেখানো দরকার। অথচ হাতে কোনো টাকা নেই। ঘরে এমন কোনো মূল্যবান জিনিস নেই যা বিক্রি করে দিলে কিছু টাকা পাওয়া যাবে। গ্রামে সাহায্য করার মতোন কেউ নেই। যদিও ইচ্ছা করলেই অনেকেই সাহায্য করতে পারে। কিন্তু এই ইচ্ছাটাই কেউ করে না। শফিক বাধ্য হয়ে চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েছিলো। চেয়ারম্যান বলেছেন, কিছু টাকা তোমাকে দিতেই পারি, কিন্তু সাদা কাগজে সাইন করে টাকা নিতে হবে। সফিক জানে সাদা কাগজে একবার সাইন করে টাকা নিলে, তাকে বসতভিটা হারাতে হবে। বহু লোক সাদা কাগজে সাইন করে টাকা নিয়ে বসতভিটা হারিয়েছে। এই ভুল শফিক করতে পারে না। তবে পরিবার নিয়ে তো আর না খেয়ে থাকতে পারে না। তার কন্যা ফাতেমার দিকে তাকালে বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে। অসুস্থ মা! কই যাবে সে? কার কাছে যাবে? কে তার মাথায় এক আকাশ ভালোবাসা নিয়ে হাত রাখবে!

রমিজের ভাগ্য ফিরে গেছে।
সে এখন চুরী চামারি এবং কুলিগিরি ছেড়ে দিয়েছে। তার স্ত্রী রমিলা খুব খুশি। রমিজ ভালো নৌকা বাইতে পারে। সে সারাদিন নৌকা বায়। পাট, ধান, মাটির হাড়ি পাতিল এবং লোক নিয়ে নদীর এপার ওপার যায়। প্রতিদিন তার অনেক টাকা আয় হচ্ছে। আবার জেলেরা তার কাছ থেকে নৌকা ভাড়া নিয়ে মাঝ নদীতে মাছ ধরতে যাচ্ছে। জেলেরা তাকে ফ্রি মাছও দিচ্ছে। একটা নৌকা রমিজের জীবন বদলে দিলো। রমিলা পোয়াতি হয়েছে। এই খুশিতে রমিজ তিনটা চুন্ডি শাড়ি কিনে ফেলেছে। শাড়ি দেখে খুশিতে রমিলা কেঁদে ফেলেছে। শাড়ি গুলো এত সুন্দর। এর মধ্যে একটা শাড়ি রমিলার এতই সুন্দর লেগেছে যে শাড়িটা সে বুকের কাছে জড়িয়ে ধরে রেখেছে। রমিজ বলল, বউ শাড়িটা পরো। দেখি তোমাকে কেমন লাগে! রমিলা যেন এই কথাটার অপেক্ষায়ই ছিলো মনে মনে। রমিজা শাড়ি পরলো, ঠোটে গাঢ করে লিপস্টিক দিলো, চোখে মোটা করে কাজল দিলো, কপালে টিপ আকলো। দুই গোছা কাঁচের চুড়ি পড়লো। রমিজ তার স্ত্রীকে দেখে মুগ্ধ! মাশাল্লাহ তার বউটা সুন্দর আছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুন, ২০২২ দুপুর ২:১৬
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

উথাল কিশোর

লিখেছেন আহমেদ রুহুল আমিন, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

উথাল কিশোর নদীর বুকে
কাঁদার বাঁধে
মাছের ঘেরে জল সেচে যায়
ভরবেলাতে,
সে কী জানে বর্ষা এলে
ঢেউ এর জলে
উথাল পাথাল নদীর বুকে
চর ফেলাতে ।

উথাল কিশোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পিটিভির আর্কাইভে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ দেখা

লিখেছেন অর্ক, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫



‘খুব ভালো জঙ্গ চলছে। একের পর এক নাপাক হিন্দু সেনা হালাক (মৃত্যু) হচ্ছে। রাজাকার আলবদরদের নিয়ে পাকিস্তানের বীর সেনা যুদ্ধ জয়ের দ্বারপ্রান্তে। দুয়েক দিনের মধ্যেই হিন্দুস্থান হাঁটু গেড়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

উপরোধের আগে

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



একটা ক্ষণ,
ক্ষীণ, তবুও অবয়,
আমাকে হাজার বছর বাঁচিয়ে রাখবে সবুজ অটবীর আলেখ্যে,
তুমি এলে,
সেই পুরোনো মায়া হয়ে।

কতকাল পরে সম্মুক্ষে দু জোড়া চোখ?
সে প্রশ্নের প্লাবনে আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি আধুনিক যুগের জন্য প্রস্তুত।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:২৩

২০০৯ সাল থেকে সম্ভবত সকল সরকারি কর্মচারীদের ব্যাংকে বেতন হয়। এবং এই বেতন দেওয়ার পক্রিয়া ১০০% কম্পিউটার বেইস। সরকারি কর্মচারীদের বেতন সিজিএ অফিস হ্যান্ডেল করে। আর সম্ভবত আইবিবিএএস+ সার্ভার বেতন... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫৫ বছরে কেন আরেকটা রিফাইনারি হলো না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৪


রাশিয়া থেকে তেল আনতে হলে আমেরিকার অনুমতি লাগবে। এই একটা বাক্য পড়লে অনেকে ভাববেন এটা কোনো রাজনৈতিক ভাষণের অংশ, কিংবা অতিরঞ্জন। কিন্তু এটা ২০২৬ সালের বাস্তবতা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ লেগেছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×