somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

একজন মহীয়সী নারী খাদিজা (রাঃ)

৩১ শে আগস্ট, ২০২৩ বিকাল ৫:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ।
আশা করি আল্লাহর রহমতে আপনারা সবাই ভাল আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় ভাল আছি, আলহামদুলিল্লাহ। আজকের এই পোষ্টে আলোচনা করব হযরত খাদিজা রাযিয়াল্লাহু আনহার জীবনের কিছু অংশ নিয়ে।


সময়টা তখন ৫৯৬ সাল।
আমাদের নবীজির প্রথম স্ত্রী ছিলেন খাদিজা রাঃ। উনি ব্যবসা করতেন। একজন সফল ব্যবসায়ী। ইয়েমেনে এবং সিরিয়ায় তার পণ্যের অনেক চাহিদা ছিলো। খাদিজা রাঃ একবার ব্যবসায়ীক কাজে সিরিয়া যাবার পথে নবীজিকে সাথে করে নিয়ে যান। এখানেই দুনজের সাথে প্রথম দেখা ও পরিচয় হয়। নবীজির কারনে খাদিজা রাঃ দ্বিগুন লাভ হয়। নবীজি ২৫ বছর বয়সে খাদিজা রাঃ কে বিবাহ করেন। খাদিজা রাঃ এর বাবা ছিলেন ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় নেতা। ৫২৫ সালে আমাদের নবী খাদিজাকে বিয়ে করেন। খাদিজা রাঃ সব সময় দরিদ্রদের সাহায্য সহযোগিতা করতেন। নবীজির মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করার পর খাদিজা তার ৭০% সম্পদ দান করে দেন হাসিমুখে। বিয়ের পর খাদিজার ব্যবসা দেখাশোনা করতেন আমাদের নবী।

নবীজিকে বিয়ে করার আগে খাদিজা (রাঃ) আরো দুটি বিয়ে করেন।
সেখানে খাদিজা (রাঃ) এর তিনটি এবং দুটি মোট পাঁচ সন্তান হয়। খাদিজার দুই স্বামী অল্প বয়সে রোগে ভূগে মারা যান। খাদিজা (রাঃ) তার বান্ধবীকে দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। নবীজি হাসিমুখে বিয়েতে রাজী হোন। তখন খাদিজার চল্লিশ বছর। মুহাম্মদ এর ঘরে খাদিজা ৬ জন সন্তানের জন্ম দেন। সন্তানদের দেখা শোনা করার জন্য খাদিজা (রাঃ) দাসী রেখেছিলেন দুইজন। নবীজির যখন ত্রিশ বছর তখন নবীজি বেশির ভাগ সময় ঘরে থাকতেন না। গুহায় থাকতেন। ধ্যান করতেন। খাদিজা (রাঃ) নবীজিকে খাবার দিয়ে আসতেন। নবীজি তার স্ত্রী খাদিজার সম্পদ দরিদ্রদের মাঝে দান করে দেন। তাতে খাদিজা (রাঃ) খুশি ছিলেন। খাদিজাকে বিয়ের পনের বছর পর নবীজি নবুয়াত প্রাপ্ত হোণ। মুসলিম বিশ্বে একজন আদর্শ স্ত্রী খাদ্দিজা রাঃ।

৫২ বছর বয়সে খাদিজা রাঃ মারা যান।
তখন রমজান মাস ছিলো। সেই সময় জানাজা পড়ার নিয়ম ছিলো না। নবীজি নিজে তার স্ত্রীকে কবরে নামিয়েছেন। পৃথিবীতে প্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন খাদিজা রাঃ। জাহেলী যুগের কোন প্রকার অন্যায় বা পাপ তাকে স্পর্শ করেনি। বিয়ের সময় খাদিজা রাঃ নবীজিকে ২০টি উট উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। সেই সাথে বেশ কিছু নগদ দিয়েছেন অর্থ শপিং করার জন্য। খাদিজা বুঝতে পেরেছিলেন, হযরত মুহাম্মদ সাঃ হচ্ছেন আরবের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ও সৎ একজন পুরুষ। পাড়াপ্রতিবেশীরা খাদিজাকে বলেছিলো- দরিদ্র একটা ছেলেকে কেন বিয়ে করছো? তখন খাদিজা তাদের দাওয়াত করে খাওয়ালেন আর বললেন- তার মতো সুন্দর ও সৎ মানুষ আরবে আর নাই। তার তুলনা হয়। তিনিই সেরা।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর যদি কোন কারনে মন খারাপ থাকতো-
খাদিজা রাঃ নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করতেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ও তাঁর মন ভালো করার। বিয়ে করার সময় নবীজির হাত একদম খালি ছিলো। বিয়ের সমস্ত খরচ বহন করেন খাজিদা। নবীজি নবুয়াত প্রাপ্ত হলেন। প্রথম বার তিনি এতই ভীত হয়ে পড়েন যে, হেরা গুহা থেকে কাঁপতে কাঁপতে নিজ গৃহে প্রবেশ করেই খাদিজাকে কম্বল দিয়ে নিজের গা জড়িয়ে দেওয়ার জন্য বলেন। যাইহোক, ৬১৯ সালে খাদিজা মারা যান। খাদিজার সাথে নবীজি ২৫ বছর সংসার করেছিলেন। খাদিজার মৃত্যুতে নবীজি ভেঙ্গে পড়েছিলেন। মূলত খাদিজা কিশোরী বয়সে স্বপ্নে দেখেছিলেন ইসলামের ধারক বাহক একজন সুপুরুষের সাথে তার বিবাহ হবে। চল্লিশ বছর বয়সে খাদ্দিজা নবীজির দেখা পান। তারপর আমৃত্যু তার হাত ছাড়েননি।

খাদিজা (রাঃ) এমনই এক নারী যে সকল ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ, বরকত ও সৌন্দর্য্যে ভরপুর।
খাদিজা আরবের ধনী নারী ছিলেন। তার উটের সংখ্যাই ছিলো ৭০ হাজার। রাসূল রাঃ যেভাবে ভাল মনে করতেন সেভাবে হযরত খাদিজার রাঃ সম্পদকে ব্যয় করতেন। এই মহীয়সী নারীর মৃত্যুর পর আল্লাহর পক্ষ কাফনের কাপড় এসেছিল। আমাদের প্রিয় নবী সাঃ বলতেনঃ ''আমি যখন কাফেরদের নিকট থেকে কোন কথা শুনতাম এবং আমার নিকট অসহনীয় মনে হতো তখন আমি তা খাদিজাকে রাঃ বলতাম। সে আমাকে এমনভাবে সাহস যোগাতো যে আমার অন্তর শান্ত হয়ে যেত। আর এমন কোন দুঃখ ছিল না যা খাদিজার রাঃ কথায় আসান এবং হাল্কা হতো না''। বর্তমান দুনিয়ায় নারীরা খাদিজা রাঃ কে ফলো করলে তাদের সংসার হবে দীর্ঘস্থায়ী ও আনন্দময়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে আগস্ট, ২০২৩ বিকাল ৫:১৫
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আশা রাখি: কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হবেন

লিখেছেন অপলক , ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪০



আমার দেখা সকল রাষ্ট্রপতিগন ছিলেন ডায়াবেটিকস রোগীদের মত। যাদের রাজনৈতিক জীবনীশক্তি ছিল না বললেই চলে। প্রধানমন্ত্রীর অলিখিত আজ্ঞাবহ মাত্র। ফর্মালিটি আছে কিন্তু কাজের স্বকীয়তা ছিল না। কোন আইকোনিক ডিসিশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৫৬৩৫-৩৬

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

মন কথনিকা-৫৬৩৫
খেতে খেতে গেল জীবন, নজর যে নাই স্বাস্থ্যের পানে
খেয়ে গেছি যা পেয়েছি, যা পেয়েছি বামে ডানে
বাড়লো চর্বি, কমলো যে জোর, শান্তি হারাই পদে পদে
এই না জীবন পার করতে চাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত ৮ টায় বিপণিবিতান-দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ | দেশজুড়ে বইছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৩৫



দেশজুড়ে বহু বহু করে বয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস, চারিদিকে পতপত করে উড়ছে গণতন্ত্র নামক শান্তির পতাকা- সারা বংলায় এমন শান্তিময় পরিবেশ স্বাধীনতা পরবর্তীকালের ইতিহাসে আর দেখা যায়নি কখনো; এরই ধারাবাহিকতায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বাষ্ট্রপতি নির্বাচন নাকি রাষ্ট্রীয় খরচে তামাশা!!!

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


বাংলাদেশে সম্মানিত রাষ্ট্রপতি (হবু)


নির্বাচন, এই শব্দটি শুনা মাত্র যে বিষয়টি আমাদের মাথায় আসে তা হচ্ছে ভোট প্রদানের যোগ্য ভোটারদের স্বাধীন ভোটের মাধ্যমে একজন যোগ্য ব্যাক্তিকে দায়িত্ব অর্পণের জন্য নির্বাচিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×