somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

মৃত্যুর অপেক্ষা

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৩ রাত ৮:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজ পঁচিশ দিন ধরে আমি বাসা থেকে পলাতক।
কারণ, আমি বিয়ে করতে চেয়েছিলাম। আব্বা এই কথা শুনে বলল- হারামজাদা কামকাজ করো না, বিয়ে করবে? বউকে খাওয়াবি কি? আমি বললাম, রিজিকের মালিক আল্লাহ। আল্লাহ'ই একটা ব্যবস্থা করে দিবেন। মা বলল- তুই ভাদাইম্মা এবং অলস। তোকে কোনো মেয়ে বিয়ে করবে না। এযুগের মেয়েরা বোকা না।
আমি মাকে বললাম- মা, মেয়ে আমি ঠিক করে ফেলেছি। ইডেন কলেজ থেকে মাস্টার্স করেছে। দেখতে শুনতে ভালো। নানান ধরনের খাবার রান্না করতে জানে। এই কথা শুনে মা আমার দিকে 'হা' করে তাকিয়ে আছে। আব্বা বলল- তুমি আমার বাসা থেকে বের হয়ে যাও। আমি তোমার মুখ দেখতে চাই না। আমি এক বস্ত্রে এবং খালি পকেটে বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম।

কোরয়ান-হাদীস পড়ে জানতে পারলাম-
আল্লাহ্‌ কুরআনে বলেছেন, "লাক্বাদ কা-না ফী রাসুলুল্লাহি উসওয়াতুন হা'সানা" -"তোমাদের জন্য রাসুলের জীবনই হলো সর্বোত্তম আদর্শ"। সুতরাং বিয়ের অনুষ্ঠানে সেটুকুই কেবল আবশ্যক যা আমাদের নবীজি করতে বলেছেন। এর বাইরে কিছু পালন না করলে কেউ যদি অখুশী হয় তাহলে আমরা কেবল বলতে পারি, "দুঃখিত, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ঠ"। নবীজি বিয়েকে সুন্নত বলে উল্লেখ করেছেন। বিয়ে সওয়াবের কাজ। এটি খুবই দায়িত্বপূর্ণ পবিত্র ইবাদতও বটে।

আরও যা জানলাম- বিয়েতে রয়েছে বরকত।
পবিত্র কুরআনে সুরা নূর' এ অনেক গুরুত্বপূর্ন কথা বলা হয়েছে। তিরমিযী শরীফে লেখা আছে- ''তিনটি বিষয়ে দেরী নয়-
১। সময় হলে নামাজে,
২। লাশ এসে গেলে জানাযায়,
৩। সমমানের পাত্র পেলে বিয়েতে। বিয়ের শুরু হযরত আদম ও হাওয়া (আঃ) হতে। একজন সুপুরুষ ও সৎকর্মশীল নারী দেখে বিয়ের বন্ধন হওয়া উচিত। বরের আর্থিক স্বচ্ছলতা বিবেচনা করে মোহরানা ধার্য্য করা চাই। নবীজি বলেন, ''তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম''। স্ত্রীদের বলা হয়েছে, ''আল্লাহ ছাড়া কাউকে সেজদা করতে যদি বলতাম তবে স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে সেজদা করতে বলতাম''। সুতরাং স্বামী স্ত্রী উভয়েই একটি সংসার সুখের করতে দায়িত্ব নিতে হবে।

পথে পথে ঘুরে ঘুরে নানান চিন্তা ভাবনা করে দেখলাম-
এবং হাদীস অনুযায়ী এখন আমার বিয়ে করা উচিত না। কিন্ত নীলাকে যদি এখন বিয়ে না করি- তাহলে তার পরিবার তাকে অন্য কোথাও বিয়ে দিয়ে দিবে। নীলাকে ফোন করে বললাম- তুমি কোনো চিন্তা করো না। আমি সব ব্যবস্থা করছি। নীলাকে মিথ্যা আশ্বাস দিলাম। নীলা বলল- বিয়ে পরে করো, এখন বাসায় এসে আমাকে আংটি পরিয়ে যাও। বোকা মেয়েটা বুঝে না- একটা আংটি কেনার টাকাও এখন আমার কাছে নেই। পঁচিশ দিন পর বাসায় গেলাম। বাসার পরিস্থিতি স্বাভাবিক। ছোট বোন বলল- ভাইয়া কি পাগলামী শুরু করছে? আমি বললাম ভাত দে, অনেক ক্ষুধা লাগছে। বোন বলল- আগে সেলুনে যাও, তোমাকে দেখে তো মফিজ পাগলার মতন লাগছে।

মধ্যরাত্রে শরীর কাঁপিয়ে জ্বর আসলো।
সাথে তীব্র মাথা ব্যাথা। কাউকে যে ডাকব সেই শক্তিটুকুও শরীরে নেই। ফযরের আজানের পর জ্ঞান হারালাম। তারপর আমার আর কিছু মনে নেই। জ্ঞান ফেরার নিজেকে আবিস্কার করলাম হাসপাতালে। আমার পাশে সব প্রিয় মানুষেরা কিন্তু নীলা নেই। নীলাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে। মেয়েটা আমাকে এই অবস্থায় দেখলে খুব কষ্ট পাবে। মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম- আমার খুব কঠিন কোনো অসুখ হয়েছে। কি অসুখ ? আমি কি মরে যাবো ? মাথা ব্যাথা শুরু হলেই তখন চোখে কিছু দেখতে পাই না। মনে হয়, মাথার ভেতর কে যেন হাতুড়ি দিয়ে পিটাচ্ছে।

আমি হাসপাতালে যাওয়ার তিন দিন পর নীলা আমাকে দেখতে এলো।
আমার খুব অবনতি হয়েছে। এখন সারাক্ষনই চোখে ঝাপসা দেখি- প্রতিদিন মাথা থেকে থোকা থোকা চুল পরছে। গায়ের রঙ হঠাত করে খুব কালো হয়ে গেছে। নীলা আমার বুকের মাথা রেখে অনেকক্ষন কাঁদল। যাওয়ার আগে নীলা- শক্ত করে আমার হাত ধরে বলল- আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। তোমার কিচ্ছু হবে না। আল্লাহ এত নিষ্ঠুর হতে পারবেন না। আমি মনে মনে বললাম- আল্লাহ অনেক নিষ্ঠুর নীলা, আল্লাহ অনেক নিষ্ঠুর। গভীর রাতে আমার অবস্থা খুব খারাপ হলো। নার্স ডাক্তার'রা ছোটাছুটি শুরু করলো। আমাকে পরপর দু'টা ইনজেকশন দিল ডাক্তার। আমি গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম।

আমি এখন এক ধরনের ঘোরের মধ্যে আছি।
সব কিছুই স্বপ্ন স্বপ্ন লাগে। বাস্তব-অবাস্তব মিশে একাকার হয়ে গেছে। চোখ বন্ধ করলেও দেখি, খোলা রাখলেও দেখি। কোনটা স্বপ্ন কোনটা সত্যি বুঝতে পারটেছি। অন্য রকম একটা জগতে প্রবেশ করেছি। সে জগতে সময় বলে কিছু নেই, দিন-রাত বলে কিছু নেই। একটু পরপর এসে কে যেন এক আকাশ ভালোবাসা নিয়ে আমার কপালে হাত রাখছে হাতটা খুব ঠান্ডা। তার হাত ভর্তি চুড়ি। চুড়ির ঝন ঝন শব্দটা ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে- এই হাত ধরে ঢাকা শহরের অনেক পথ হেঁটেছি। এখনও হাঁটছি, অন্ধকার একটা পথে। একা একা। ঠান্ডা হাতের স্পর্শ এবং চুড়ির ঝনঝন শব্দ শুনতে পাচ্ছি না। আমার খুব ভয় ভয় করছে। অন্ধকার এবং অজানা পথটা একাএকা কিভাবে পাড়ি দিব। আমার চোখ থেকে দু'ফোটা পানি গড়িয়ে পড়লো।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৩ রাত ৮:২০
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩



ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

জীবনে অনেক কিছুই শেষ করেছি- কিন্তু ভেষজ চায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও শেষ হয়নি!
সবুজ চা, লেবু-আদা-তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ-লবঙ্গ, গোলমরিচ, পুদিনা-রোজেলা, জাফরান, জেসমিন থেকে শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আশা রাখি: কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হবেন

লিখেছেন অপলক , ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪০



আমার দেখা সকল রাষ্ট্রপতিগন ছিলেন ডায়াবেটিকস রোগীদের মত। যাদের রাজনৈতিক জীবনীশক্তি ছিল না বললেই চলে। প্রধানমন্ত্রীর অলিখিত আজ্ঞাবহ মাত্র। ফর্মালিটি আছে কিন্তু কাজের স্বকীয়তা ছিল না। কোন আইকোনিক ডিসিশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৫৬৩৫-৩৬

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

মন কথনিকা-৫৬৩৫
খেতে খেতে গেল জীবন, নজর যে নাই স্বাস্থ্যের পানে
খেয়ে গেছি যা পেয়েছি, যা পেয়েছি বামে ডানে
বাড়লো চর্বি, কমলো যে জোর, শান্তি হারাই পদে পদে
এই না জীবন পার করতে চাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত ৮ টায় বিপণিবিতান-দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ | দেশজুড়ে বইছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৩৫



দেশজুড়ে বহু বহু করে বয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস, চারিদিকে পতপত করে উড়ছে গণতন্ত্র নামক শান্তির পতাকা- সারা বংলায় এমন শান্তিময় পরিবেশ স্বাধীনতা পরবর্তীকালের ইতিহাসে আর দেখা যায়নি কখনো; এরই ধারাবাহিকতায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×