somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

মায়ের গল্প

২৫ শে মার্চ, ২০২৪ দুপুর ২:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গতকাল মা আমাকে মার্কেটে নিয়ে গেছে।
বলল, তোমার যা যা মন চায় কিনো। সাধারণত মায়ের সাথে আমার বাইরে যাওয়া হয় না। সবচেয়ে বড় কথা মায়ের সাথে আমার বনিবনা হয় না। মায়ের সাথে সবচেয়ে বেশি খাতির আমার ছোট ভাইয়ের। প্রায়ই ছোট ভাই মাকে নিয়ে মার্কেটে যায়। রেস্টুরেন্টে যায়। ডাক্তারের কাছে যায়। মায়ের সাথে শেষ কবে আমি ডাক্তার বা হাসপাতালে গেছি আমার মনে নেই। ছোটবেলা হয়তো মায়ের সাথে মার্কেটে গেছি। সেসব আজ আর মনে নেই। সেদিন মা নিজ থেকেই বলল, চল মার্কেটে যাই। যা যা কিনবে কিনে দিবো। জ্যাকপট!

গাড়ি গ্যারেজে। ডেন্টিং পেন্টিং করছে।
রিকশা করে গেলাম। মা আগেই বলে দিয়েছে ঢাকা শহরের সবচেয়ে বড় মার্কেটে চল। আমি বললাম, পর্যাপ্ত টাকা নিয়েছো? মা বলল, টাকা নিয়ে তোমার ভাবার দরকার নাই। প্রচুর ক্যাশ আছে। ক্যাশ শেষ হয়ে গেলে, কার্ড আছে। আমি বললাম, মা হঠাত আমাকে কেনাকাটা করে দিতে চাচ্ছো কেন? মা চুপ। আমি আর কিছু জানতে চাইলাম না। মা বেশি হাঁটতে পারে না। তবু আমার সাথে বেশ কয়েকটা মার্কেট ঘুরলো। একটুও বিরক্ত হলো না। বরং নিজে থেকেই বলল, চল এলিফ্যান্ট রোড যাই। সেখানে অনেক জুতোর দোকান আছে। বললাম, রাস্তায় ভয়াবহ জ্যাম। এত দূরে যাবো না।

কিনবো না, কিনবো না- করেও অনেক কিছুই কিনে ফেললাম।
কমদামী জিনিসপত্র মা পছন্দ করে না। ছোট দোকান থেকে কেনাকাটাও মা পছন্দ করে না। আমি দুটো জুতো কিনে নিলাম এপেক্স থেকে। সাড়ে সাত হাজার টাকা দিয়ে। মা বলল, তোমার মেয়ের জন্য কিছু নিয়ে নাও। আমি বললাম, ফারাজার ইদের কেনাকাটা শেষ। মা বলল, তবু কিছু কিনে নাও। ফারাজার জন্য জামা জুতো কিনে নিলাম। যাইহোক, মা জানে আমি রোজা রাখি না। বলল, দুপুর পার হয়ে যাচ্ছে- তুমি কিছু খেয়ে নাও। আমি লক্ষ্মী ছেলের মতো কোক আর বার্গার খেয়ে নিলাম। ঝামেলা বিহীন খাবার।

আমার নানা নানী ধনী মানুষ ছিলেন।
মা তার জন্মের পর থেকেই গাড়ী, বাড়ি, উন্নত জীবনযাপন সবই পেয়েছে। মাকে কোনো কিছুতেই নানা নানী বাঁধা দেয় নাই। আমার মা সিনেমা দেখতে খুব পছন্দ করতো। সেই সময়ের কোনো সিনেমা বাদ নেই, যা মা দেখে নাই। আমার মা দেখতে নায়িকা ববিতার মতো। কিন্তু এখন মা অসুস্থ। তার অনেক অসুখ। গত ত্রিশ বছর ধরেই মা ওষুধ খাচ্ছে। মায়ের কাছে শুনেছি, মা স্কুলে যখন পড়তো- তখন স্কুল থেকে পিকনিকে যেতো গুলশান। সেখানে নাকি অনেক গাছপালা আছে। আমরা চার ভাই ছাড়া দুনিয়াতে মার আর কেউ নেই। আব্বা তো করোনা'তে চলে গেল!

আমার মায়ের একটা ঘটনা বলি-
তখন আমার দেড় বছর বয়স। ঠিক করে হাঁটতে পারি না। আমাদের এলাকা থেকে কিছু দূরে আগুন লেগেছে। আমাদের বাসা থেকেই আগুনের ধোয়া দেখা যাচ্ছে। উঠানে আমার নানা নানী বসে আছেন। আমার মা দৌড়ে এসে আমাকে কোলে নিয়ে দূরে চলে যায়। আগুন পুরোপুরি নিভে যাওয়ার পর, মা আমাকে নিয়ে বাসায় আসে। তখন নানা নানী বললেন, পুষ্প নিজের ছেলেকে নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেলি। নিজের বুড়ো বাবা মায়ের কথা একবার ভাবলি না? মা বলল, আমার কাছে সবার আগে আমার ছেলে। আমিই সেই কুলাঙ্গার ছেলে। কুলাঙ্গার বলেই হয়তো মা আমাকে বেশি ভালোবাসে।

মা এখন সারাদিন টিভি দেখে।
মার ঘরে বিশাল এক টিভি। ইউটিউবে পুরোনো দিনের সাদা কালো সিনেমা গুলো দেখে। পুরোনো দিনের গান শুনে। টিভি দেখতে দেখতে বিরক্ত হয়ে গেলে, মোবাইলে গেমস খেলে। অথবা ফেসবুকিং করে। মা নীচ তলায় একা থাকে। আমি ছয় তলায় থাকি। সিড়ি ভেঙ্গে মা আমাদের সাথে গিয়ে দেখা করতে পারে না। সিড়ি দিয়ে উঠা নামা করলেই মায়ের পা ফুলে যায়। এজন্য আমরা বাইরে থেকে বাসায় গিয়েই আগে মায়ের সাথে দেখা করি। গল্প করি। তারপর নিজের ঘরে যাই। মা গল্প করতে পছন্দ করে। মা প্রতিটা গল্প হাজার বার করে আমাদের শোনা হয়ে গেছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০২৪ দুপুর ২:৪১
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ব্লগার ভাবনা: ব্লগ জমছেনা কেন? এর পেছনে কারণ গুলো কি কি? ব্লগাররা কি ভাবছেন।

লিখেছেন লেখার খাতা, ১৩ ই জুন, ২০২৪ রাত ৮:৩৫


সুপ্রিয় ব্লগারবৃন্দ,
আম পাকা বৈশাখে বৈশাখী শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি। কাঠফাটা রোদ্দুরে তপ্ত বাতাস যেমন জনপ্রাণে একটু স্বস্তির সঞ্চার করে, ঠিক তেমনি প্রাণহীন ব্লগ জমে উঠলে অপার আনন্দ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকার ২৭ নম্বর সমুদ্রবন্দর থেকে

লিখেছেন অপু তানভীর, ১৩ ই জুন, ২০২৪ রাত ১১:০০

চারটার দিকে বাসায় ফেরার কথা ছিল । তবে বৃষ্টির কারণে ঘন্টা খানেক পরেই রওয়ানা দিতে হল । যদিও তখনও বৃষ্টি বেশ ভালই পড়ছিল । আমি অন্য দিন ব্যাগে করে রেইনকোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুক্তিযুদ্ধা কোটা ব্যাবস্থা কাউকে বঞ্চিত করছে না।

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৩:৩২

কোটা ব্যাবস্থা কাউকে বঞ্চিত করছে না।
সকল যোগ্যতা জিপিএ-্র প্রমান দিয়ে, এরপর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, সেকেন্ডারি।
এরপর ভাইবা দিয়ে ৬ লাখ চাকুরি প্রার্থি থেকে বাছাই হয়ে ১০০ জন প্রাথমিক নির্বাচিত।

ধরুন ১০০... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউ জার্সিতে নেমন্তন্ন খেতে গিয়ে পেয়ে গেলাম একজন পুরনো ব্লগারের বই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৪ ই জুন, ২০২৪ দুপুর ১২:৩৭

জাকিউল ইসলাম ফারূকী (Zakiul Faruque) ওরফে সাকী আমার দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু; ডাঃ আনিসুর রহমান, এনডক্রিনোলজিস্ট আর ডাঃ শরীফ হাসান, প্লাস্টিক সার্জন এর। ওরা তিনজনই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের একই... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেনজীর তার মেয়েদের চোখে কীভাবে চোখ রাখে?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ১৪ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৩:০৬


১. আমি সবসময় ভাবি দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর যারা মিডিয়ায় আসার আগ পর্যন্ত পরিবারের কাছে সৎ ব্যক্তি হিসেবে থাকে, কিন্তু যখন সবার কাছে জানাজানি হয়ে যায় তখন তারা কীভাবে তাদের স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×