somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের শাহেদ জামাল- ৭৩

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ দুপুর ১২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এই ঢাকা শহরে একটা রেস্টুরেন্ট আছে।
এই রেস্টুরেন্টটা এক বছর পরপর তাদের রেস্টুরেন্টের নাম চেঞ্জ করে। বর্তমান নাম হচ্ছে- অটোমান। এর আগে নাম ছিলো মেলবোর্ন। শাহেদ জামাল প্রতিদিন এই পথ ধরে হেটে যায়। শুধু চেয়ে চেয়ে দেখে। বাংলামটরের দিকে একটা রেস্টুরেন্ট আছে। আগে নাম ছিলো অর্কিড। এখন নাম দিয়েছে- প্যারাডাইস। রেস্টুরেন্ট গুলোর নাম এক বছর পরপর কেন বদলে ফেলা হয়? মালিকানা বদল হয়, তাই নতুন মালিক এসে রেস্টুরেন্টের নাম বদলে দেয়? শাহেদ জামাল এরকম ফালতু বিষয় গুলো নিয়ে ভাবে। অতি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে শাহেদ জামাল মূল্যবান সময় অপচয় করে। রাস্তায় ম্যানহোলের ডাকনা ভোরবেলা কে বা কারা নিয়ে গেছে। মাসের পর মাস পার হয়ে যাচ্ছে, সিটিকরপোরেশনের কোনো খোজ নেই। কিন্তু অবাক ব্যাপার হচ্ছে ম্যানহোলের ডাকনা না থাকলেও গর্তে কেউ এখনও পড়ে যায়নি।

যাইহোক, রেস্টুরেন্টে ফিরে যাই।
শাহেদ জামালের ইচ্ছে করে একদিন এই রেস্টুরেন্টে যাবে। ওরা কি কি রান্না করে দেখে আসবে, খেয়ে আসবে। যেহেতু রেস্টুরেন্ট। তাহলে নিশ্চয়ই চায়নিজ খাবার করে। ফ্রাইড রাইস, চিকেন ফ্রাই, অনথন, স্যুপ, ভেজিটেবল, বীফ সিজলিং। মাঝে মাঝে চায়নিজ খাবার খেতে ভালৈ লাগে। অবশ্য রেস্টুরেন্টে একা যেয়ে আরাম নেই। সাথে করে কাউকে নিয়ে যেতে হবে। নীলাকে নেওয়া যেতে পারে। এই শহরে নীলার মতো সহজ সরল সুন্দর মেয়ে আর একটাও নেই। নীলার কথা মনে শাহেদ জামালের আর কিছু ভালো লাগে না। কেমন অস্থির অস্থির লাগে। পুরোনো সব সৃতি একে একে মনে পড়তে থাকে। একবার শাহেদ আর নীলা রাজশাহী গিয়েছিলো। সেখানে একটা নদী আছে। শিব নদী। সেই নদীতে গয়না নৌকায় করে শাহেদ আর নীলা অনেক দূর গিয়েছিলো। অতি মনোমুগ্ধকর সৃতি! সেদিন নীলা নীল শাড়ি পরেছিলো।

রেস্টুরেন্টে ফিরে যাই-
সামনে কোনো একটা বিশেষ দিনে শাহেদ আর নীলা মেলবোর্ন রেস্টুরেন্টে খেতে যাবো। ভাবতেই ভালো লাগছে। সেদিন নিশ্চয়ই নীলা নীল একটা শাড়ি পরবে। নীলা শাহেদের সাথে দেখা করতে এলেই শাড়ি পরে আসে। নীলা খুব সাজগোছ করে না। তবুও নীলাকে অনেক সুন্দর লাগে। নীলার সাজ বলতে চোখে কাজল দিবে আর কপাকে একটা টিপ আর দুই হাত ভরতি কাচের চুড়ি। রবীন্দ্রনাথের শেষের কবিতার লাবন্যর সাথে নীলার বেশ মিল। শেষের কবিতায় একটা ডায়লগ আছে- লাবণ্য বলে, ''আমাকে দোষ দেবেন না। বোধ হয় পাখিও যদি আপনার কথা শুনত, হেসে উঠত। অমিত বলে, ''দেখুন, আমার কথা লোকে হঠাৎ বুঝতে পারে না বলেই হাসে, বুঝতে পারলে চুপ করে বসে ভাবত।'' কি সহজ সরল স্বীকারোক্তি। শেষের কবিতায় অমিত লাবন্যকে পায় না। ঠিক শাহেদ জামালও নীলাকে পায়নি। বড় কষ্ট! আমৃত্যু এই কষ্ট শাহেদ জামালকে বয়ে বেড়াতে হবে।

আমি আমার গল্পের একদম শেষ প্রান্তে চলে এসেছি।
নীলার বিয়ে হয়ে গেছে। সে এখন আমেরিকা থাকে। তার স্বামী বিরাট ব্যবসায়ী। শাহেদ একটা চাকরি যোগাড় করতে পারলো না। কতদিন অপেক্ষা করবে নীলা শাহেদের জন্য! নীলার কোনো দোষ নেই। সে শাহেদকে অনেক সময় দিয়েছে। শাহেদ শালা একটা চাকরি পেলো না। আসলে 'নিয়তি' বলে একটা কথা আছে। মানুষ যতই লাফালাফি করুক, নিয়তি তাকে কিচ্ছু পেতে দিবে না। ঈশ্বর যতটুকু বরাদ্দ করেছেন, এর বাইরে বেশি পাওয়ার কোনো সিটেম নেই। মানুষ হচ্ছে ঘুড়ি। ঘুড়ি আকাশে উড়ে। কিন্তু নাটাই থাকে ঈশরের হাতে। মানুষ যখন যন্ত্রনায় ছটফট করে, সেই যন্ত্রনা ঈশ্বরও পেয়ে থাকেন। একটা গান আছে- আমায় তারাইয়া দিওনা দয়াল গো, আমি তোমার দয়ার ভিখারি, তুমি আছো বুকে পাষান দিয়া.....

খালি পকেটে শাহেদ জামাল সারাদিন পথে পথে ঘুরে বেড়ায়।
আর মনে মনে নীলাকে নিয়ে অটোমান রেস্টুরেন্টে খেতে যায়। নীলা নীল শাড়ি পরে আসে। শাহেদ মুগ্ধ হয়ে নীলার দিকে তাকিয়ে থাকে। শাহেদের ইচ্ছে করে নীলাকে জড়িয়ে ধরতে। চুমু দিতে। সাহস আর লজ্জার কারনে চুমু দেওয়া হয় না। তবে তারা ফুলার রোডে হাত ধরাধরি করে হাটে। বড় ভালো লাগে। ফুলার রোডটা সেই আগের মতোই আছে। জারুল গাছটা আছে। জারুল গাছের উপর বিশাল আকাশ আছে। আকাশে একটা চিল অনেক উপর দিয়ে উড়ছে। চিলটা ক্ষুধার্থ। সে তার খাবারের সন্ধানে আছে। আজ সে মানুষের চোখ খাবে। একটা ছেলেকে দেখা যাচ্ছে জারুল গাছের নিচে মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেটার নাম শাহেদ জামাল। চিলটা খুব দ্রুত নিচে নামছে। সে তার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ দুপুর ১২:২৫
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হলো ।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৪৪


অপারেশন সার্চলাইট (২৫ মার্চ): ১৯৭১-পাকিস্তানের বাঙালি গণহত্যা
অপারেশন সার্চলাইট ছিল ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর দ্বারা পরিচালিত একটি গণহত্যা। বঙ্গবন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রাম্প কি ভেবেছিল? "সর্দার খুশ হোগা? সাবাশি দেগা?"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৫৮

ইরান যুদ্ধ নিয়ে কিছু বলি।
আমি সাধারণ সত্য যা ঘটছে সেটাই বলি। মিথ্যা প্রোপাগান্ডা, সেটা যে পক্ষেরই হোক, আমার শেয়ার করতে ভাল্লাগে না।
একটা সময়ে আমেরিকা নিজের এয়ারফোর্স এবং নেভি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউনুস সাহেব আমেরিকার কাছে দেশ বিক্রি করে দিয়েছেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫০


রমজান মাসের শেষ দিককার কথা। আব্বা-আম্মার সঙ্গে ইউনাইটেড হাসপাতালে গেলাম নানাকে দেখতে। মায়ের দিকের এই আত্মীয়র হার্টে চারটা রিং বসানো হয়েছে, কিন্তু কেবিনে ঢুকে বুঝলাম তার জবান এখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:০৪



সূরাঃ ১ ফাতিহা, ১ নং থেকে ২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। সমস্ত প্রশংসা জগৎ সমূহের প্রতি পালক আল্লাহর।
২। যিনি অনন্ত দয়াময়, অন্তহীন মেহেরবান।

সূরাঃ ১ ফাতিহা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্বনাশ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৫২



আমি কবিতা লিখতে পারি না।
আসলে আমি কোনো কিছুই সাজিয়ে গুছিয়ে লিখতে পারি না। আমার লেখা মানেই এলোমেলো এবং অগোছালো বিশ্রী রকম। মাঝে মাঝে লোভ হয়, কবিতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×