somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

উপন্যাস 'কৃষ্ণকান্তের উইল' পড়েছেন?

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ বিকাল ৩:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



রবীন্দ্রনাথ যখন বাচ্চা পোলাপান-
তখন বঙ্কিমচন্দ্র পুরোদমে লেখালেখি করে যাচ্ছিলেন। সেই সাথে করতেন চাকরি। রবীন্দ্রনাথ বঙ্কিমচন্দ্রের বই আগ্রহ নিয়ে পড়তেন এবং হয়তোবা মনে মনে ভাবতেন, আরে এরকম গল্প উপন্যাস তো আমিও লিখতে পারি। রবীন্দ্রনাথের অনেক গল্প উপন্যাসে দেখা গেছে, তার চরিত্র গুলো বঙ্কিমের বই পড়ে।যাইহোক, বঙ্কিমচন্দ্র মাত্র পনের বছর বয়সে প্রথম উপন্যাস লিখেন। তাও আবার ইংরেজিতে। উপন্যাসের নাম রাজমোহনের স্ত্রী। সেই সময় অখণ্ড ভারতে শিক্ষিত লোকের সংখ্যা খুব কম ছিলো। তাই বঙ্কিম ইংরেজিতে লেখা বাদ দেন। লিখতে শুরু করেন বাংলায়। খাটি সাধুভাষায়।

গ্রেট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন— কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসটি ১৮৭৮ সালে।
অবশ্যই প্রেমের উপন্যাস। তবে কিছুটা জটিল। জমিদার কৃষ্ণকান্ত তার সমস্ত সম্পদ পুত্র কন্যাদের মাঝে ভাগ বাটোয়ারা করে দিতে চান। কৃষ্ণকান্তের বড় ছেলে হরলাল বিরাট বদ। সে তার বাবার সব সম্পদ একাই পেতে চায়। উক্ত উপন্যাসের আসল মজা শেষের দিকে। লেখক তার উপন্যাসে দেখিয়েছেন, দুষ্ট লোকজন তার অন্যায়ের শাস্তি দুনিয়াতেই ভোগ করে। হোক সে নারী অথবা পুরুষ। এই উপন্যাস আমাকে শিখিয়েছে, দুনিয়াতে শান্তিতে এবং আনন্দে বেচে থাকার জন্য লোভ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তাহলেই জীবন আনন্দময় হবে।

উপন্যাসটি লেখক সাধু ভাষায় লিখেছেন।
অবশ্য এই লেখক তার সব উপন্যাসই সাধুভাষায় লিখেছেন। কঠিন সব শব্দ ব্যবহার করতেন। সেই সময় যারা লেখালেখি করতেন তারা সকলেই সাধুভাষায় লিখতেন। সাধু ভাষায় লেখা বইগুলো এখন চলতি ভাষায় রুপান্তর করলে, এই প্রজন্ম এসব বই গুলো সহজেই পড়তে পারবে, বুঝতে পারবে। সে যাকগে, উক্ত উপন্যাসে একটা ডায়লগ এই রকম: "তুমি বসন্তের কোকিল। প্রান ভরিয়া ডাকো, তাহাতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু তোমার প্রতি অনুরোধ সময় বুঝিয়া ডাকিবে।" একটা সুন্দর মুখের কদর সব জায়গায়। এই সমাজের মানুষ গুলো হাজার গুন থাকলেও লোকে সুন্দরকে প্রাধান্য দেয়। বিধবা হোক সমস্যা নাই, কিন্তু রূপবতী হতে হবে। তবে আমি মনে করি, সুন্দর হওয়ার চেয়ে জ্ঞানী হওয়া বেশি প্রয়োজন।

উপন্যাসে একটা নারী চরিত্রের নাম ভ্রমর।
ভ্রমর সহজ সরল মেয়ে। সে তার স্বামীকে অত্যাধিক ভালোবাসে। লেখকদের ম্যাজিক জানতে হয়। সেই ম্যাজিক দিয়ে অন্যের মনে কথা বুঝে নিতে হয়। লেখকেরা নারীর মনের কথা অনুভব করতে পারেন। নারীর চরিত্র ফুটিয়ে তোলা চারটেখানি কথা নয়। যাইহোক, এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ভ্রমর নয়, রোহিনী। রোহিনীর জন্য বড় মায়া হয়। তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। রোহিনী পাপ করেছে, সে তার পাপের শাস্তি পেয়েছে। বর্তমান সমাজে রোহিনীর মতো নারীর অভাব নেই। প্রতিটি নারীর উচিৎ রোহিনীর কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া। তাহলে জীবনের মস্ত বড় ভুল থেকে বেচে যাবে। কিছু কিছু অন্যায়ের শাস্তি আল্লাহপাক দুনিয়াতেই দিয়ে থাকেন। হে বন্ধুগন— ভুল করো না, পাপ করো না, লোভ করো না। তাহলেই সুন্দরভাবে বেচে থাকা যাবে।

লেখক তার এই উপন্যাসে বুঝাতে চেয়েছেন,
খারাপ কাজ করলে, আপনাকে শাস্তি পেতে হবেই। মন্দ কাজ করলে অধপতন নিশ্চিত। রোহিনী চরিত্র থেকে প্রতিটা নারীর শিক্ষা নেওয়া উচিৎ। মানুষ প্রেমে পড়লে ভুলভাল করতে শুরু করে। রোহিনী অল্প বয়সে বিধবা হয়েছে। কিন্তু তার শরীর মরেনি। শরীরের চাহিদা আছে। শরীরের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে মানুষ তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল করে ফেলে। জৈবিক চাহিদা মানুষকে পশুর স্তরে নামিয়ে ফেলে। লেখক চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, পুরুষ মানুষ ভ্রমের মধ্যে থাকে। নারী পুরুষকে মোহে ফেলে দেয়। নারীর রুপ পুরুষকে ভুল পথে নিয়ে যায়। একসময় পুরুষের ঘোর কাটে। নারীরও মোহ ভঙ্গ হয়। কিন্তু সেই শুধরে যাওয়া নারী- পুরুষ একই ভুল করে। এটা কি নিয়তি? এই নিয়তি কে তৈরি করে দিলো?
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ বিকাল ৩:৩৮
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=যতই মোহ জমাই দেহ বাড়ী একদিন ঝরবোই=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৯



আমিও ঝরা পাতা হবো, হবো ঝরা ফুল,
রেখে যাবো কিছু শুদ্ধতা আর কিছু ভুল,
কেউ মনে রাখবে, ভুলবে কেউ,
আমি ঝরবো ধুলায়, বিলীন হবো,
ভাবলে বুকে ব্যথার ঢেউ।

সভ্যতার পর সভ্যতা এলো,
সব হলো এলোমেলো;
কে থাকতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামনে আসছে শুভদিন , জান্নাতের সুবাস নিন।

লিখেছেন সপ্তম৮৪, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৮

আর অল্প কিছুদিন পরেই বাংলাদেশ পেতে যাচ্ছে প্রথমবারের মত সম্পূর্ণ সৎ এবং মেধাবীদের দ্বারা গঠিত সরকার।
মেধাবীদের বিপরীতে আছে একমাত্র শক্ত দল বিএনপি। বিএনপির জনসমর্থন প্রচুর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা যেন পারষ্পরিক সম্মান আর ভালোবাসায় বাঁচি....

লিখেছেন জানা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২



প্রিয় ব্লগার,

শুভেচ্ছা। প্রায় বছর দুয়েক হতে চললো, আমি সর্বশেষ আপনাদের সাথে এখানে কথা বলেছি। এর মধ্যে কতবার ভেবেছি, চলমান কঠিন সব চিকিৎসার ফলে একটা আনন্দের খবর পেলে এখানে সবার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালাদেশের নির্বাচনী দৌড়ে বিএনপি–জামায়াত-এনসিপি সম্ভাব্য আসন হিসাবের চিত্র: আমার অনুমান

লিখেছেন তরুন ইউসুফ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩



বিভিন্ন জনমত জরিপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতা এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে ৩০০ আসনের সংসদে শেষ পর্যন্ত কে কতটি আসন পেতে পারে তার একটি আনুমানিক চিত্র তৈরি করেছি। এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম পরে, আগে আল্লাহ্‌কে মনে রাখো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৩৭

প্রিয় শাইয়্যান,
পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌কে তুমি যখন সবার আগে স্থান দিবে, তখন কি হবে জানো? আল্লাহ্‌ও তোমাকে সবার আগে স্থান দিবেন। আল্লাহ্‌ যদি তোমার সহায় হোন, তোমার আর চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×