somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

একজন দুঃখী মানুষের গল্প

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমার সাথে কিছু হয় নাই। অথচ সব দোষ আমার।
আজিব লাগে! সকালে বাসে উঠেছি। বাস ভাড়া দিয়েছি। বাস থেকে গন্তব্যে নামার সময় কন্টাক্টর বলে, ভাড়া দেন? অথচ আমি আগেই ভাড়া দিয়েছি। যাইহোক, কন্টাকটর কে বললাম, ভাই ভাড়া দিয়েছি তো! কন্টাকটর বলে, ২০ বছর ধরে এই লাইনে আছি। যে ভাড়া মেরে খায়, তাকে দেখলেই চিনি। আপনি ভাড়া দেন নাই। আমি খুবই লজ্জার মধ্যে পড়ে গেলাম। আমি ভাড়া দিয়েছি। আমার কাছে একটাই বিশ টাকার নোট ছিলো। সেটাই দিয়েছি। ভাগ্যটাই আমার খারাপ।

মন অত্যাধিক খারাপ।
এক জায়গায় ইন্টারভিউ দিয়েছিলাম, চাকরি হয়নি। খুবই ক্ষুধা লেগেছে। এক চায়ের দোকানে বসে দুটা বিস্কুট আর এক কাপ চা খেলাম। বিশ টাকা দিলাম। চা বিক্রেতা বলছে, এই ব্যবসা কত দিন ধরে? আমি ভীষণ অবাক হলাম! বললাম, কি হয়েছে? চা বিক্রেতা বলল, বিস্কুট খেয়েছেন চারটা অথচ বলছেন, দুটা! আমি বললাম, স্যরি। আসলে চিন্তায় ছিলাম, ক'টা বিস্কুট খেয়েছি খেয়াল করি নাই। স্যরি। আপনি ত্রিশ টাকা রেখে দেন। চা বিক্রেতা বলল, গরীবের টাকা খেয়ে কি বড় হতে পারবেন? পোড়া কপাল আমার! দুটা বিস্কুট খেয়ে মিথ্যা বলব? বাসের ভাড়া না দিয়ে মিথ্যা বলব? আমি খাই বেনসন সিগারেট। ২০ টাকা দাম।

বিকেলে মন খারাপ করে রমনা পার্কে বসে আছি।
এক মেয়ে এলো। মেয়ে নাকি হিজড়া বুঝতে পারছি না। বয়স কত হবে সেটাও বুঝতে পারছি না। বিকট সাজ সেজেছে। সস্তা মেকাপ। সেই মেয়ে বলল, কি গো মুখ গোমড়া কেন? দুই শ টাকা দাও। পানি বের করে দিবো। খুশি হয়ে যাবে। আমি বুঝলাম না, পানি বের করে দিবো মানে কি! আমি বললাম, টাকা নাই। মেয়েটা বলল, যা ভাগ শালা! ফকিন্নি। মনটা অনেক খারাপ হলো। রমনা পার্ক থেকে বের হতেই এক ফকির সামনে এসে হাত পাতলো। আমি বললাম, যা ভাগ শালা। এক পতিতা আমাকে ঠিক এই কথাটাই বলেছিল। প্রতিশোধ নিলাম।

রাতে এলাকায় ফিরলাম। মেসে আমার মিল দেয় নাই।
দুই মাসের টাকা বাকি আমার। মেসে এক রুমমেট বলল, কিছু ভাত বেচে গেছে। আপনি দোকান থেকে একটা ডিম এনে, ভেজে ভাত দিয়ে খেয়ে ফেলেন। দোকানে গেলাম ডিম আনতে। দোকানদার বলল, আপনাকে আর এক টাকা বাকি দিবো না। তিন মাস হয়ে গেছে, সাড়ে চার হাজার টাকা বাকি জমেছে। দিচ্ছেন না। চাকরি পান না ভালো কথা। রিকশা তো চালাতে পারেন! দোকানদার শালা আমাকে জ্ঞান দিচ্ছে! খুবই নরম সুরে বললাম, মামা ৩/৪ দিন পর আপনার পাওনা মিটিয়ে দিব। ডিম না দেন, দশ টাকার মুড়ি দেন। নইলে রাতে না খেয়ে থাকতে হবে। হারামজাদা মুড়িও দিলো না। মানুষ এত নিষ্ঠুর হয় কি করে!

আমার একটা মোবাইল আছে। নষ্ট মোবাইল।
সেই মোবাইল বিক্রি করলে ২০০ টাকাও পাওয়া যাবে না। বিক্রি করা তো দূরের কথা এই মোবাইল কেউ কিনবেই না। রাতে গ্রাম থেকে ফোন এসেছে। সাবিনা ফোন করেছে। কথা স্পষ্ট বুঝা যায় না। সাবিনা আমার প্রেমিকা। সাবিনা খুব সাজগোছ করে না। তার সাজ বলতে চোখে মোটা করে কাজল দেওয়া। তাতেই তাকে স্বরসতী দেবীর মতো লাগে। সাবিনা বলল, আমাকে ভুলে যাও। আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। সাবিনার কথা শুনে আমার কলিজা ছিড়ে যাচ্ছে। চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়ছে। আমি কাদতে কাদতে বললাম, সাবিনা আমাকে আরো কিছু সময় দাও। প্লীজ। আল্লাহর দোহাই লাগে। সাবিনা বলল, নো। নেভার।

আমার হাত পা সব ঠিক আছে। সামান্য বুদ্ধিও আছে।
অথচ ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। আমার কোনো দোষ নেই। সব দোষ আল্লাহর। আমার ভাগ্য আল্লাহপাক ভালো করে লিখেন নাই। আল্লাহর ইচ্ছায় সব হয়। আমি ইশ্বরের কি ক্ষতি করেছি? বাস ওলা অপমান করে, চায়ের দোকানদার অপমান করে, মুদি দোকানদার অপমান করে, মেস মেম্বাররা অপমান করে, আত্মীয় স্বজনরা অপমান করে, বন্ধুরা অপমান করে। অপমান আর অবহেলায় জীবন পার হয়ে যাচ্ছে। মাথা উঁচু করে আর দাড়াতে পারলাম না। আজন্ম একজন ব্যর্থ মানুষ আমি। দেখি, নিয়তি আমাকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে যায়। আমি অপেক্ষা করি। অপেক্ষা করতে আমার ভালোই লাগে।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৫৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চরিত্রহীন

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৬


নিপীড়িত ভেবে যাকে করে যাবে মায়া,
সর্বস্ব বিলিয়ে দেবে যার উপকারে;
কলির সন্ধ্যা কাটলে পাবে না তো তারে,
সে তখন হয়ে যাবে নিশ্চিন্ত প্রচ্ছায়া।
যাবে না ধরা হাঁটলেও সে কাছে-ধারে;
ভুজঙ্গের ন্যায় দেখাবে বিষাক্ত কায়া,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব রাজনীতি, শক্তির খেলা এবং ন্যায়ের প্রশ্ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৫

বিশ্ব রাজনীতি, শক্তির খেলা এবং ন্যায়ের প্রশ্ন

বিশ্বরাজনীতির ইতিহাসে বারবার এমন অভিযোগ উঠেছে যে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো অনেক সময় নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য দুর্বল বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ, এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×