
যাক নির্বাচন শেষ!
আমি ভোট দেইনি। মন থেকে ভোট দেওয়ার তাগিদ অনুভব করিনি। তবে ভোটের দিন রোজা আর ফারাজাকে নিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে বেড়িয়েছি। দুই কন্যা আর আমি ঢাকার ফাঁকা রাস্তায় হেঁটে হেঁটে অনেক দূর গিয়েছি! ভোট উপলক্ষ্যে বাসায় ভালো মন্দ রান্না হয়েছে। সুরভি গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্না করেছে। দারুন স্বাদ হয়েছে। পেট ভরে খেয়েছি। তারপর ভাবলাম, একটা মুভি দেখি। মুভির নাম- 'Weapons'। দারুন সিনেমা। ঘটনা এই রকমঃ রাতের অন্ধকারে ১৭টা বাচ্চা হারিয়ে যায়। বাচ্চা গুলোকে আর খুজে পাওয়া যায় না। কোথায় গেলো বাচ্চা গুলো? ভৌতিক সিনেমা। স্কুলের শিক্ষক, বাচ্চাদের বাবা-মা এবং পুলিশ ভীষন চিন্তায় পড়ে যায়। মুভিতে ভয় আছে। কিছুটা হাস্যরসও আছে। পুরো মুভি দেখার আগেই আমি গভীর ঘুমে তলিয়ে যাই।
সন্ধ্যায় ঘুম থেকে উঠি।
সুরভি এক কাপ চা এগিয়ে দেয়। আনন্দে আমার চোখে পানি এসে যায়! চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করে- লাইফ ইজ বিউটিফুল! সুরভিও ভোট দেয়নি। কারণ সে অন্য এলাকার ভোটার। ভোট না দেওয়ার কারণে সুরভির মধ্যে কোনো অপরাধ বোধ দেখলাম না। ভোটের দিন আব্বাকে দেখতাম বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে বেড়াতো। আব্বা মনে করতো বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে বেড়ানো তার নাগরিক দায়িত্ব। এবং পরিচিতদের ফোন করে-করে বিভিন্ন এলাকার নির্বাচনের খোজ খবর নিতো। আব্বা নাই। মরে গেছে। সেদিন আমি আমাদের এলাকার কবরস্থানে গেলাম। আগে প্রতি শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে কবরস্থান যেতাম। বহুদিন পর কবরস্থানে গেলাম। শেষে মনে পড়লো আব্বাকে গ্রামে কবর দেওয়া হয়েছে। গ্রামে গেলেও কবরস্থানে যাওয়া হয় না।
দুপুরে খিচুড়ি খেয়ে, ঘুম দিয়ে স্বপ্ন দেখলাম-
যাদুকাটা নদী। যাদুকাটা নদী সিলেটের সুনামগঞ্জে। ভারতের সীমান্ত ঘেষে এই নদী। নদীর নাম যাদুকাটা কেন সেটা আগে বলে নিই। এক মা নদীর কাছে বসেই মাছ কাটছিলেন। পাশে তার ৮/৯ মাসের বাচ্চা খেলা করছিলো। বাচ্চার নাম- যাদু। সেই মা মাছ কাটতে গিয়ে ভুলে নিজের বাচ্চাকে কেটে ফেলেন। এরপর থেকে এই নদীর নাম হয়ে যায়- যাদুকাটা। অবশ্য অনেকে বলেন, স্বামীর সাথে রাগ করে স্ত্রী তার বাচ্চাকে কেটে ফেলেন। রাগ করার কারণ হচ্ছে, স্ত্রী বলেছিলো, আজ মাছ খাবো না। স্বামী বলেছে, আমি বলেছি, মাছ কাটো। এবং ভেজে রান্না করো। স্ত্রীর খুব রাগ হলো। এরপর সে মাছের বদলে বাচ্চাকে কেটে ফেলে। যাইহোক, এই নদী থেকে বালু ও পাথর সংগ্রহ করে অনেক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে।
নির্বাচন শেষ। শপথ গ্রহনও শেষ।
এনসিপি থেকে ৬ জন নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। এরা কিভাবে জয়ী হলো? আমার ধারনা মানুষের ভোটে এরা জয়ী হয় নাই। ইউনুসের কল্যানে এরা জয়ী হয়েছে। হান্নান মাসুদের মতো চ্যাংড়া পোলা জয়ী হতে পারে না। নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী খুব উজাইছিলো। নির্বাচনে হেরে এখন থেমেছে। আসলে অযোগ্য, অদক্ষ লোকেরা এরকমই হয়। এদিকে ভিপি নূরও জয়ী হওয়ার কথা না। সে জয়ী হলো কিভাবে? বিএনপির মিলন সাহেব হয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী। আমার বিশ্বাস এখন আর প্রশ্নফাস হবে না। পড়েই পাশ করতে হবে। দুই হাজার সাথে মিলন সাহেব শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। তখন প্রশ্নফাস হতো না। চাঁদগাজী এখন আর বলতে পারবেন না, প্রশ্নপত্র ফাঁস জেনারেশন। জামাতের শফিক সাহেব আজ ভোরবেলা রাস্তা ঝাড়ু দিতে শুরু করেছেন। এডিট করা ভিডিও কিনা কেন জানে!
ইউনুস সাহেব বিদায় নিয়েছেন।
অনেকে বলছেন, রহমতের মাসে শয়তান বিদায় হয়েছে। ইউনুস সাহেব সফল হতে পারেননি। উনি, আবরার হত্যার আসামীদের মুক্ত করে দিয়েছেন। উনি দেশের সকল শীর্ষ সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের মুক্ত করে দিয়েছেন। ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীকে মুক্তি দিয়েছেন। পুরো ছাত্র সমাজ কে ধংসের পথে নিয়ে গেছেন। তিনি দেশের জন্য কিছুই করেননি। আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করেছেন। নিজের স্বার্থ রক্ষা করেছেন। রাস্ট্রের কর ফাঁকি দিয়েছেন। নিজের মামলা নিজেই প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ছাত্রদেরকে শিক্ষাবঞ্চিত করেছেন ও চুরি চাঁদাবাজি শিখিয়েছেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধকে হেয় করেছেন। নিকট প্রতিবেশি দেশের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়ে ভিক্ষুক রাস্ট্র পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক বাড়িয়েছেন। দেশে মব সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছেন। জাতির জনককে অপমান করে ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙতে উৎসাহ যুগিয়েছেন। রহমতের মাসের শুরুতেই ইবলিশ শয়তানের বিদায়, এটিও আল্লাহর অনেক বড় রহমত।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




