somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরী- ১৮৮

২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আপনারা কেমন আছেন?
আমি কেমন আছি, বুঝতে পারছি না। মনে হচ্ছে কোনো অলৌকিক কিছু যেন জেনে ফেলেছি। না জানলেই বুঝি ভালো হতো। দুনিয়াতে যে যত কম জানে, সে তত ভালো থাকে। যে বেশি জানে তার জ্বালা বেশি। এজন্য আমি কিছু জানতে চাই না। আমি শুধু জানি আমার ঘর সংসার আছে। সংসারে মাসে অনেক টাকা খরচ আছে। কন্যা আছে, কন্যাকে আদর ভালোবাসা দিয়ে বড় করতে হবে। সারাদিন ব্যস্ত থাকি। দেশের অবস্থা জানি না। জানতে চাই না। পত্রিকা পড়ি না। টিভিতে নিউজও দেখি না। তারপরও অনেক কথা কানে আসে। দেশে নাকি তেল নাই। সারারাত পাম্পে লম্বা লাইন থাকে। তারপরও অনেকে তেল পায় না। আবার কেউ কেউ ঘুষ দিয়ে ৫ লিটারের জায়গায় ১০ লিটার নিচ্ছে। সবজির দাম বেড়ে গেছে। যে কোনো সবজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। তেল না থাকার কারণে অনেকে গাড়ি বের করতে পারছে না। এতে উপকার হয়েছে- রাস্তায় জ্যাম কমেছে। এদিকে অনেক এলাকায় গ্যাস নেই। অনেক এলাকায় পানি নেই। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। লোকজন ফুঁসছে। আজ একজন তো বলেই ফেললো, তারেক জিয়া করে কি? কৃষক কার্ড নিয়ে ব্যস্ত?

আমি শুধু চুপ করে মানুষের কথা শুনি।
পত্রিকা অফিসে কাজ করতে গিয়ে শিখেছিলাম, নিজে চুপ থেকে মানুষকে দিয়ে বলাতে হবে। সাধারণ মানুষের কথা গুলোই আসল কথা। মানুষ সুযোগ পেলেই কথা বলে। মানুষ শোনার চেয়ে বলতে বেশি ভালোবাসে। আর বেশি বলতে গিয়েই মানুষ ভুলভাল বলে ফেলে। আমি মানুষকে বলার সুযোগ দেই। মাঝে মাঝে একটু উসকে দেই, মাঝে মাঝে রাগিয়ে দেই। তখন মানুষ তার পেটের কথা, মনের কথা, গোপন কথা- সব উগড়ে ফেলে! মসজিদের ইমাম সাহেব পর্যন্ত বেশি বলতে গিয়ে ভুলভাল বলে ফেলেন। এজন্য জ্ঞানীগুনীরা বলেছেন, কম কথা কও। নইলে কপালে দুঃখ আছে। আমি চুপচাপ থাকা মানুষ। সব সময় শান্ত থাকি। চারপাশ দেখি, শুনি। কিন্তু আমি চুপ করে থাকি। এটাই ভালো। আমার নানা ওমর আলী। তিনি চুপ করে থাকতেন। সারাদিন ভাবতেন। তার একমাত্র সঙ্গী ছিলো রেডিও। সারাদিন রেডি কানের কাছে ধরে থাকতেন। আর আবহানী-মোহামেডানের ফুটবল খেলা হলে মাঠে গিয়ে দেখতেন। খেলা তিনি মিস করতেন না। আমার নানী আবার খুব কথা বলতেন। আমার মা-ও কথা বলতে ভালোবাসে।

মিরপুর মেট্রোরেলের ২৩৮ নম্বর পিলার।
সাধারনত আমাদের দেশের লোকজন মেট্রোরেলের পিলার গুলোর নিচে প্রস্বাব করে। ভরদুপুর বেলা। রাস্তায় জ্যাম। কত লোক যাচ্ছে, আসছে। কোনো মাথা ব্যথা নেই। মুতে ধরেছে। মুতে দিয়েছে। কোনো লজ্জা শরম নাই। আমি আজ পর্যন্ত রাস্তায় জলবিয়োগ করতে পারলাম না। যাইহোক, ২৩৮ নম্বর পিলার। পিলারের কাছে ছালা দিয়ে ছোট এক ঘর বানানো হয়েছে। এই ঘরে প্রবেশ করতে হলে হামাগুড়ি দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। এই ঘরে যখন-তখন কতিপয় কিশোর কিশোরী নেশা করে। জুতার আঠা দিয়ে নেশা। ঘরের পর্দা বাতাসে নড়াচড়া করে। তখন পর্দার ফাঁক দিয়ে দেখা যায়। অল্প বয়সী ছেলে মেয়ে গুলো নেশা করছে। চারটা ছেলে, একটা মেয়ে। ছালা দিয়ে ঘেরা ঘরের ফাঁকফোঁকর দিয়ে ধোয়া বের হয়। অর্থ্যাত গাঁজা। গাঁজা খাওয়ার কোনো সময়, অসময় নেই। এদিকে শুনেছি সরকার মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। সরকার সব সময় ভুলভাল কাজ করে। যারা মাদক খায়, এদের গ্রেফতার করে। কিন্তু যারা মাদক বিক্রি করে এদের গ্রেফতার করতে পারে না। যাইহোক, সৌদিতে পিলারের নিচে কেউ প্রস্বাব করে না। বরং বসে বিশ্রাম করে। কি সুন্দর করে সাজানো। ফুলটুল আছে। যারা বিশ্রাম নেবে তাদের জন্য আছে ফ্রি পানির বোতল।

পদ্মা নদীতে জেলেরা মাছ ধরতে গিয়ে বিশাল এক কাতলা মাছ ধরে ফেলে।
কাতলা মাছের ওজন ত্রিশ কেজি। ৩০ কেজি ওজনের কাতলা মাছটি নিলামে বিক্রি করা হয়েছে ৬৮ হাজার ৫শ' টাকা। চান্দু মোল্লা নামে এক ব্যবসায়ী মাছটি কিনে নেয়। কেজি হিসেবে ২২৫০ টাকা হয়। কাতলা মাছ কেন ২২৫০ টাকা কেজিতে কিনতে হবে? কি এমন মাছ এটা। হিসেবে রুই মাছের চেয়ে কম স্বাদ কারলা মাছের। কাতলা হলো মাথা মোটা মাছ। যাইহোক, চান্দু মিয়া এই মাছ আবার ঢাকায় এক আমেরিকান প্রবাসীর কাছে বিক্রি করে দেয়। যাইহোক, কাতলা মাছের কথা বলতে গিয়ুএ মনে পড়লো, অনেকদিন কাজলি মাছ খাই না। কাজলি মাছ খাই না তা প্রায় দশ বছরের বেশি হবে। অথচ বাজারে প্রতি সপ্তাহে যাই। কিন্তু কাজলি মাছ চোখে পড়ে না। সেদিন একজন বললেন, কাজলি মাছ উনি কিনেছে। ১২শ' টাকা কেজি। কাজলি অনেকে বেগুন দিয়ে খেতে পছন্দ করে। কেউ কাচা আম দিয়ে খেতে পছন্দ করে। কেউ পছন্দ করে পাতলা ঝোল করে রান্না। মা রান্না করতো কাজলি মাছ। আলু বেগুন কিছুই দিতো না। ঝোল ঝোলও করতো না। খেতে দারুন লাগতো।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের "ইসলামী" বই - নমুনা ! আলেমদের দায়িত্ব

লিখেছেন ঢাকার লোক, ১০ ই মে, ২০২৬ সকাল ৮:৪৭

আমাদের দেশের বিখ্যাত চরমোনাইয়ের প্রাক্তন পীর সাহেব, মাওলানা ইসহাক, যিনি বর্তমান পীর রেজাউল করিম সাহেবের দাদা, এর লেখা একটা বই , "ভেদে মারেফাত বা ইয়াদে খোদা"। এ বইটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম কর্ম

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১০ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩



আপনার দিনের পর দিন ধর্মীয় লেখা পোস্ট করার কারণে -
হয়তো, আপনার কম্পিউটারটি স্বর্গে যেতে পারে।
কিন্তু, আপনার নিজে স্বর্গে যেতে হলে -
আপনার নিজের ধর্ম কর্ম করতে হবে।


ঠাকুরমাহমুদ
ঢাকা, বাংলাদেশ



...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মা আমার পৃথিবী

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১০ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৬

" আমার মা,আমার পৃথিবী "

মাঝেমধ্যে হঠাৎ করেই মাগো তুমি আমার স্বপ্নে এসে আমার হ্রদয় ছুঁয়ে যাও। সেদিন সারাটাক্ষন আমি আমার মায়ের মাঝে ডুবে থাকি। কোনো কাজে মন বসাতে পারিনা।
কিশের এতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিমস যুদ্ধ: রাজনীতিতে হাসি-ঠাট্টার কৌশল”

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১০ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৯

সাম্প্রতিক সময়ের সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ডগুলো বেশ মজার। ট্রল আর মিমসের দুনিয়ায় প্রতিদিন নতুন নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে যা আমাদের বিনোদনের খোরাক জোগায়। ওপরের তালিকার সাথে আরও কিছু চলমান মিমস... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমার কোন এক মুহূর্তের শব্দ শুনি

লিখেছেন সামরিন হক, ১০ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩১


ছবি- নিজস্ব সংগ্রহ


কেঊ এসে মেরে রেখে যাক তা চাই নি কখনো ।
তবুও সে আসে,মেরে ফেলে চলে যায়।
তখন খুব জোড় করে বেঁচে থাকি,
বলতে পারো জোড় করে বাঁচিয়ে রাখি নিজেকে।

জীবন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×