somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজিন রিভিউ: Interstellar

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৪ সকাল ৮:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাতের মেঘমুক্ত আকাশ দেখলে সবারই অদ্ভুত এক অনুভূতি হয়। মিটমিট করে লক্ষকোটি তারা তাকিয়ে থাকে আমাদের দিকে। কী ভয়ানক সুন্দর! কিন্তু আকাশে তাকালে আমাদের গ্রহটিকে আমরা দেখতে পাই না। নিজের গ্রহের সৌন্দর্য নিয়ে আমরা নির্বিকার।

ধুর মিয়া। পৃথিবীর আবার কী হবে? আমার এই পলিথিনটা সমুদ্রে ফেললে কী আর এমন ক্ষতি হবে?

আমরা কী আমাদের ঘরকে একটু বেশি নোংরা করে ফেলছি? এমন কী হতে পারে যে এই গ্রহে আর খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে না? তখন কী করবো আমরা? ঐ মিটমিটে জ্বলা তারাগুলি কী কোন কাজে আসবে? এরকমই এক কাহিনী নিয়ে Christopher Nolan উপস্থিত তার সর্বশেষ মুভি “Interstellar” । সবাইকে এক্কেরে তাক লাগিয়ে দেবার জন্য।

কাহিনী জানা যাক। বেশি বলা যাবে না। দুনিয়াতে খাদ্য উৎপাদন এখন বিরাট সমস্যা। এক মাত্র শস্য ভুট্টা। সেইটাই বা কতদিন থাকবে কে জানে? এক কালের পাইলট কুপার ( Matthew McConaughey) এখন ভুট্টার কৃষক। তার ১০ বছর বয়সী মেয়ে মার্ফি চরম ট্যালেন্ট। হঠাৎ কেমন করে জানি NASA ‘র সাথে যোগাযোগ হয় কুপারের। হয়ত মানবজাতিকে বাঁচানোর একটি উপায় আছে। একটি Wormhole দিয়ে হয়তো অন্য দুনিয়া খুঁজে পাওয়া যাবে। কুপারের সাহায্য একান্ত জরুরী। শুরু হয় মিশন। কিন্তু সবকিছু কী এতই সহজ?

আমি নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে করি যে এমন এক যুগে জন্মেছি যে যুগে Christopher Nolan এর মত মুভি নির্মাতা রয়েছে। পুনরায় দুর্দান্ত এক মুভি। এই লোকের মাথায় কী আসে কে জানে? এই টপিক নিয়ে মুভি তো দেখতে যেতেই লোম খাড়া হয়ে যায়, সেখানে এই মুভি বানায় কীভাবে? দুর্দান্ত থেকে দুর্দান্ত একেকটি দৃশ্য।

মুভির সবচাইতে অসাধারন দিক নিঃসন্দেহে মুভির দৃশ্যায়ন। ব্ল্যাক হোল, ওয়ার্মহোল, কৃত্রিম অভিকর্ষ সবকিছুতেই চেষ্টা করা হয়েছে যেন বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিকতা বজায় থাকে। শেষের দিকের এক দৃশ্যে আমার মুখ হা হয়েছিল তো ছিলোই। বন্ধ আর হয়না। উদাহরণ স্বরুপ, এই মুভিতে ব্ল্যাক হোলের দৃশ্যায়ন করতে গিয়ে বিজ্ঞানী কিপ থর্ন Astrophysics এবং Computer Graphics এ কয়েকটি জার্নাল পর্যন্ত প্রকাশ করে ফেলেছেন। কিছু কিছু ফ্রেম পুরোপুরি ভাবে ফুটিয়ে তুলতে ১০০ ঘন্টা পর্যন্ত সময় লেগেছে।

অভিনয়ের দিক দিয়ে Matthew McConaughey, MacKenzie Foy, Anne Hathaway, Jessica Chastain, Michael Caine প্রত্যেকেই মারাত্মক। নোলানের মুভির নায়ক হিসেবে Christian Bale অথবা Leonardo Dicaprio কে আশা করেছিলাম কিন্তু এই মুভির জন্য Matthew McConaughey এর কোন বিকল্প হতেই পারে না।

সংগীতে Hans Zimmer কতটা ভালো করেছেন সেটা আসলে বলা বাহুল্যস্বরুপ।

এবার মুভির খারাপদিকগুলি আলোচনা করা শুরু করি। প্রথমে মুভিটির দায়িত্ব নিয়েছিলেন Steven Spielberg। Jonathan Nolan এর সাথে কাহিনী কিছুটা তৈরীও করে ফেলেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে দায়িত্ব Christopher Nolan এর হাতে আসে। সেকারণে কাহিনীর মধ্যে কিছু একটা খটকা আছে বলে মনে হয়।

এছাড়া মুভিটি ভয়ংকর রকমের জটিল। Inception ও অনেক জটিল ছিল কিন্তু তাও কিছু বোঝা গেসে। এটাতেই কিছু কিছু জিনিস একেবারেই বোঝা যায়না। যদিও আমার একটি দৃশ্যে মনে হয়েছে, “আরে খাইসে!! কিসুই বুঝতাসি না। তাও জোস লাগতাসে ...”।

মুভিটির সমাপ্তিটাও তেমন জুতসই হয়নি। মুভিটি সর্বকালের সেরা মুভি হতে পারতো। কিন্তু হয়তো সমাপ্তির কারণেই তা বলা যাচ্ছে না।

যাই হোক এই রকম মুভির ভুল ধরা আর অনন্ত জলিলের পাছায় চিমটি কাঁটা একই ধরনের স্পর্ধা। সবার হয়তো ভালো লাগবেনা। তাই বলে বলা যাবে না যে, মুভিটি খারাপ। কিন্তু Christopher Nolan এর কাছে কেন জানি একটু বেশি আশা করে করে লোভী হয়ে গিয়েছি।

সবমিলিয়ে চরম একখান মুভি।

রেটিং – ৪ / ৫
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রচন্ড রোদে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০০

প্রচন্ড রোদে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

রূপসী এদিক ওদিক কী খুঁজো
মনের মতো কাঙ্ক্ষিত পুরুষ
এভাবে সোনালি কতোদিন বিনষ্ট করবে
আমায় একটু ভেবে দেখো।
শূন্য হৃদয় নিয়ে কেঁদে মরি
কেউ নেই পাশে, গেছে সবাই ছাড়ি।
দরিদ্র বলে জুড়েনি তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×