somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সত্যকা
রাজু আহমেদ । এক গ্রাম্য বালক । অনেকটা বোকা প্রকৃতির । দুঃখ ছুঁয়ে দেখতে পারি নি ,তবে জীবনের সকল ক্ষেত্রে অনুভব করেছি । সবাইকে প্রচন্ড ভালবাসি কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ করতে পারি না । বাবা এবং মাকে নিয়েই আমার ছোট্ট একটা পৃথিবী ।

কাচা ঝালে ঝালায়িত !

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফ্রিজের ফাঁক-ফোকর আঁতিপাতি করে খুঁজলাম । না ! কোথাও কাচা মরিচ তো দূরের কথা একটা মরিচের বোঁটাও পেলাম না । ঝালবিবিকে বললাম, ওগো ! একটা কাচা মরিচ দাও ! পান্তা ভাতের সাথে মাখিয়ে খাব ! সাথে একটা পেঁয়াজও দিয়ো । রান্নাঘর থেকে ঝালবিবিরি যে ঝাঁজ আসলো তাতে শুধু আমি কেন আমার চৌদ্দ পুরুষের পিঁয়াজ ও কাঁচা মরিচ দিয়ে পান্তাভাত ভক্ষণের স্বাদ মিটে গেছে । অগত্যা নুন দিয়েই পান্তাভাত সাবার করে কাজে যাওয়ার মনোস্তাব করলাম ।
.
.
ভাতের সাথে কামড়ে কামড়ে খাওয়ার জন্য অতীতে ঝালবিবির কাছে যখনই কাঁচা মরিচ চাইতাম তখন বিবি অতি যতনে পিঁয়াজ কুটি কুটি করে সামনে এসে আদুরে গলায় বলতো, ওগো ! আজ পেঁয়াজ-কাচা মরিচ দিয়ে খেয়ে নাও । রাগ করো না ! কিছুই রাঁধতে পারিনি । তোমার গ্যাদাটা সারাদিন যা জ্বালায়িছে । শুধু ভাত রাঁধতে পেরেছি তাই ভাগ্য ! তাছাড়া আজ রাক্ষসী কিরণমালাকে বেঁধে রেখে রাজকুমারকে হত্যা করেছে । পর্বটি দেখে আমি পাক্কা দু’ঘন্টা কেঁদেছি । তুমি তো জানো, আমি কত আবেগী ! রান্না করতে গেলে যদি আবেগের ঠেলায় তরকারীতে নুন, হলুদ-মরিচ বেশি দিয়ে বসতাম তখন তুমি আমার সাথে ঝগড়া করতে না বলো ? তাই রাঁধিনি ! ভালো করছি না ! তাছাড়া তুমি তো জানো না ! পাশের বাসার ভাই দু’বেলায়ই পেঁয়াজ-মরিচ দিয়া খায় । ভাবী সেটা নিয়ে আমার সাথে কত গর্ব করে । আমাকে গর্ব করার মত একটা ব্যবস্থা তুমি করে দিবে না ? তুমি কি একবেলাও খেঁতে পারবা না ।
.
.
ঝালবিবির অতীতেরে এমন স্মৃতি রোমন্থন করতে করতে আজকের আচরণ মিলাতে গিয়ে সামনে পড়ল গতকালের বাঁসি পত্রিকা । সেটার শিরোনাম দেখেই তো আমি বসা থেকে ছিটকে দাঁড়িয়ে গেলাম ! পত্রিকার শিরোনাম, পেঁয়াজের ঝাজে নাকাল দেশবাসী, কাচা মরিচের বাজারে আগুন । দাদাজানের বাপজান ফায়ার সার্ভিসে চাকরি করার সুবাদে আগুনের কথা শুনলেই বংশগতির ধারা এক ধরণের শিহরণ সৃষ্টি করে । বাজারে আগুনের বিস্তারিত খবর পরতে গিয়ে আমিতো পুরাই মফিজ ! যে আগুনের কথা ভেবেছিলাম এতো সে আগুন নয় । দামের আগুন ! পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকা আর কাচা মরিচের কেজি ৪০০ টাকা ! সব পড়তে পারিনি তার আগেই আমার ভেতরের সবকিছু বোধহয় বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল । খুব জানতে ইচ্ছা করছিল, এক কেজি কাচা মরিচে কয়টা কাচা মরিচ হয় । আমার আবার একটা বাতিক আছে । অর্থণীতির সূত্রের বিপরীত চলতে না পারলে আমি সুখ পাইনা । পণ্যের দাম যখন বাড়ে তখন আমার চাহিদাও বেড়ে যায় । ভাবলাম, এখনি বাজারে যাওয়া দরকার । অন্তত এককেজি পেঁয়াজ ও এক কেজি কাচামরিচ কিনে রাখা অতি আবশ্যক । টাকার থলে হাতরিয়ে সর্বসাকুল্যে মাত্র ৩৭ টাক ৫০ পয়সা পেলাম । এখন আবার সেই ঝালবিবির কাছেই যেতে হবে কেননা পুরো মাস গাঁধা খাটনি খেটে যেদিন বেতন পাই সেদিন রাত্রে ৮৯০ টাকা রেখে বাকী সবটাকা ঝালবিবিরি হাতে তুলে দিতে হয় । এর ব্যতিক্রম ঘটলে তুলকালাম কান্ড ঘটে যায় । সাথে আমার বাপ-ভাইকে উদ্ধার করে ফ্রিতে !
.
.
ঝালবিবির কাছে অনেক কাকুতি-মিনতি করে ৫০০ টাকা পেলাম । টাকা দেয়ার সময় ঝাজের সাথে বলে দিয়েছে প্রতিটি মরিচ ও পেঁয়াজ যেন টিপে টিপে দেখে আনি । এত টাকার জিনিস ! কোনটি যদি পঁচা হয় তবে নাকি আমার খবর করে ছাড়বে ! বাজারে যেতে যেতে মনে পড়ে গেল-বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি, ওরে আমার কাঁচা, ওরে সবুজ, আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা ! কবি তো আধমরাদের আঘাত করে বাঁচাতে বলেছিল কিন্তু এখন কাঁচা তো মেরেই ফেলতে চাচ্ছে !!! ব্যাপার কোন দিকে যাচ্ছে তা যেন মিলছিলই না ! ঝালবিবিও কি তবে এ গভীর ষড়যন্ত্রে জড়িত ? মরিচের ঝাল সাথে দামের ঝাল আমাকে হয়ত দু’দন্ড পোড়াবে কিন্তু ঝালবিবি তো সারাজীবন ব্যাপিয়া পুড়িয়েই যাচ্ছে ! ঝালবিবির দামও যদি বাড়ত তবে তাকে বেঁচে দিয়ে হয়ত আরও কিছু কাচা ঝাল কিনে ফ্রিজে রেখে দিতে পারতাম ! দু’টোই তো ঝাল ! একটার বিনিমেয়ে আরেকটা গ্রহন করলে কি অন্যায় করে ফেলতাম ? যখন ইচ্ছা-তখন ফ্রিজ খুলে বের করে গচর-মচর করে চিবিয়ে দাঁতের ঝাল কিছুটা কমিয়ে পেটের ঝাল তো বাড়িয়ে দিতে পারতাম !
.
.

facebook.com/rajucolumnist/
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৩৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সত্যকে স্বীকার করার সাহস কি আমাদের হারিয়ে যাচ্ছে?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

সত্যকে স্বীকার করার সাহস কি আমাদের হারিয়ে যাচ্ছে?

আমাদের দেশে এখন অদ্ভুত এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। আপনি কোনো দলের সমালোচনা করলে- আপনি সেই দলের শত্রু।
আপনি কোনো দলের একটি ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

ফ্যাসিস্ট আমলে পুলিশকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল- এ অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার অংশ।
জুলাইয়ের পর- সেই পুলিশ কি সত্যিই বদলেছে, নাকি শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×