সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধের অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর তৎপরতাসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে আমরা কথা বলেছি বিশিষ্ট কলামিস্ট ও সমাজকর্মী ফরহাদ মজহারের সঙ্গে। তাঁর পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হল :
রেডিও তেহরান : যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তা, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কমাণ্ডার অ্যাডমিরাল রবার্ট উইলার্ড গত ১ মার্চ মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যুদ্ধের অংশ হিসেবে মার্কিন বিশেষ বাহিনী বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশে তৎপরতা চালাচ্ছে। এখবর প্রকাশিত হওয়ার পর দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন ?
ফরহাদ মজহার : দেখুন, আমাদের মতো দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব নানা দিক থেকেই বিপন্ন। আর এই সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে যে সব দিক রয়েছে তার মধ্যে সামরিক দিকটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ ৯/১১এর পর অর্থাৎ ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যে অনন্ত যুদ্ধ শুরু হয়েছে, সেখানে আমরা দেখলাম নীতির একটা বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। আমরা এরপর থেকে দেখছি অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী দেশগুলো মানতে চাইছে না। সেটা আমরা পরিস্কারভাবে দেখলাম ইরাক যুদ্ধে। ইরাকের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে সব অভিযোগ এনেছিল পরে দেখা গেল সেগুলোর সবই মিথ্যা। ফলে আমি বলব বিভিন্ন ইস্যুতে বা অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মতো শক্তিশালী দেশগুলো মূলত: পররাজ্য গ্রাস করতে চায়। বিশেষত: তেলের জন্য, জ্বালানীর জন্য বা তাদের অর্থনৈতিক সুবিধাগুলো আদায়ের জন্য তারা আমাদের মতো দুর্বল দেশগুলোর সার্বভৌমত্বকে কখনও গুরুত্ব দেয়নি বলে আমি মনে করি। আর সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই আমি মোটেই আশ্চর্য হয়নি বাংলাদেশে মার্কিন সেনাবাহিনীর আসা নিয়ে। কারণ মার্কিন সেনাবাহিনীর সাথে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সম্পর্ক, ট্রেনিং, যৌথ মহড়া এসব দীর্ঘদিন ধরে চলছে এমনকি এর আগেও খালেদা জিয়ার সরকারের সময় একটি টেকনিক্যাল চুক্তিও হয়েছিল। যেখানে বলা হয়েছে, কৌশলগত আদান প্রদান দুটি দেশের মধ্যে ঘটছে। সেই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক বিষয়ে বিভিন্ন জিনিসপত্র আনা, বা সামরিক বাহিনীর সদস্য আসা নিয়েও বিশেষ কোন বাধা বা বিধি নিষেধ ছিল না।
ফলে আপনারা যদি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের কথা বলেন, তাহলে সেই অর্থে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে আমরা কখনও সচেতন বা সতর্ক ছিলাম না। তাছাড়া আমরা কখনও সার্বভৌমত্বের জন্য লড়াই করিনি। আর বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের অবস্থার বিষয়টি আরো অনেক বেশি পরিস্কার হয়ে যায়,যখন বাংলাদেশের সংগে ভারতের সম্পর্কের বিষয়টি আমরা লক্ষ্য করি ! বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে মূলত তথাকথিত করিডোরের নামে ভারতকে যা দেয়া হয়েছে সেটা একধরনের সামরিক বা প্রতিরক্ষাচুক্তির ফসল।
তবে মার্কিন কংগ্রেসে সেনাকর্মকর্তা যে কথাটি বলেছেন, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য তারা একটা ভিন্ন দেশে বিশেষ ধরনের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। আর সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশে মার্কিন সেনার উপস্থিতি। তবে আমি এতে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন এই জন্যে যে, মার্কিন সেনাদের সেই প্রশিক্ষণের ধরনটা কী তা আমরা জানিনা। তাদের এখতিয়ারে এশিয়া প্যাসিফিকের দেশগুলোতে সম্ভবত এধরনের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে তারা-এতে বিশেষ কোন উদ্দেশ্য আছে কি না ! আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন যে, বঙ্গোপসাগরে বা ভারত মহাসাগরে একটা প্রতিযোগিতা চলছে ভারতের সাথে চীনের।
তবে এই খবরটি প্রচারের সাথে সাথে ভারত ও নেপালের পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হয়েছে যে,তাদের দেশে মার্কিন কোন সেনাবাহিনী নেই। তবে বাংলাদেশে মার্কিন সেনা অবস্থানের ব্যাপারে সরকার অস্বীকার করে নি। অর্থাৎ বাংলাদেশের মধ্যে মার্কিন সেনা রয়েছে। আর এ বিষয়টিকে তারা বলছে, হ্যাঁ মার্কিন সেনারা আমাদের দেশে এসেছে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য। তবে সার্বিকভাবে আমার কাছে বিষয়টি উদ্বেগজনক।
দেখুন সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি যখন এসেছে তখন আমি আরো স্পষ্ট করে বলবো বাংলাদেশের জনগণ সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে যথেষ্ট পরিমাণ সচেতন নয়। বিশেষ করে উঠতি মধ্যবিত্ত শ্রেণী। তারা মনে করে না যে দেশের সার্বভৌমত্ব খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। এই মধ্যবিত্ত শ্রেণী তাদের অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ করার জন্য এবং সামাজিক অবস্থা থেকে উপরে ওঠার জন্য তাদের মধ্যে যে প্রতিযোগিতা, বাসনা বা ইচ্ছা, সেদিক থেকে তাদের কাছে সার্বভৌমত্বের কোন গুরুত্ব নেই। ভারত বাংলাদেশকে নিয়ে যাক বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে নিয়ে যাক তাতে তাদের খুব একটা মাথা ব্যথা আছে বলে আমি মনে করি না। তবে সার্বভৌমত্বের প্রতি গভীর টান যদি কারো মধ্যে থেকে থাকে সেটি হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে। তাদের রয়েছে দেশের প্রতি টান, ভূখণ্ডের প্রতি টান,তাদের নিজস্ব জীবন জীবিকা রক্ষার প্রতি প্রানান্ত প্রচেষ্টা,তাদের মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় চিন্তা ও সংস্কৃতিবোধ। এসব কিছু মিলিয়ে সাধারণ মানুষ মনে করে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ , নিপীড়িত শ্রেণী বা গরীব মানুষ- তাদের সাথে রাজনীতির কোন সম্পর্ক নেই। আর সে কারণে আমাদের দেশের প্রধান প্রধান যেসব রাজনৈতিক দল রয়েছে তাদের কাছ থেকে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ইতিবাচক কিছু আশা করতে পারি না।
রেডিও তেহরান : বাংলাদেশ সরকার বলছে দেশে কোন জঙ্গি সংগঠন নেই, তাহলে বাংলাদেশে মার্কিন বিশেষ বাহিনী কার বিরুদ্ধে এবং কি উদ্দেশ্যে তৎপরতা চালাচ্ছে সেই প্রশ্ন কিন্তু উঠছে।
ফরহাদ মজহার : দেখুন,সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সব সময় একটি অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা ইরানকে সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র হিসেবে প্রচার করছে। কারণ যে দেশই তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তারাই সন্ত্রাসবাদী হয়ে যায়।
আমি এ প্রসঙ্গে সরাসরি একটা বিষয় তুলে ধরছি। বাংলাদেশের সব মানুষ যদি সৎ মুসলমান হয়ে যায়, তারা ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, মসজিদে যায়, ভালো থাকে সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোন সমস্যা নেই। সমস্যাটি তখনই সৃষ্টি হয় যখন দেশের জনগণ তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি,তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধের মাধ্যমে সৃষ্ট যে আদর্শ , সেই আদর্শের জায়গায় দাঁড়িয়ে যখন বলে যে তারা বাইরের শক্তির দ্বারা শাসিত হতে চায় না ,তাদের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবো। আর যখনই আপনি এই কথা বলবেন, প্রতিবাদ জানাবেন তখন আপনি ইসলামপন্থী নাকি কমিউনিস্ট, নাকি অন্যকোন চিন্তাধারার লোক,যা-ই হোন না কেন, আপনি তখন তাদের কাছে সন্ত্রাসী হিসেবে পরিগণিত হবেন। ফলে সন্ত্রাসবাদ হচ্ছে গরীব দেশগুলোর ওপর হস্তক্ষেপ করবার একটি মতাদর্শিক অজুহাত বা বয়ান।ফলে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী আছে কি নেই সেটা প্রশ্ন নয়। আমি অনুষঙ্গ ধরে বলবো-বাংলাদেশে যারা বিপ্লবের কথা বলে, সমাজ পরিবর্তনের কথা বলে, যারা ইসলামের কথা বলে, তারা কি সন্ত্রাসী ? কোল্ড ওয়ারের সময় কমিউনিস্টদের সন্ত্রাসী বলা হতো। এখন যারা ইসলামী রাজনীতি করছে তাদেরকে সন্ত্রাসী বলা হচ্ছে। এই তো তফাত তাদের কাছে। আমরা এখনও নানা ধরনের কোল্ড ওয়ার ও স্নায়ু যুদ্ধের মধ্যে আছি। ফলে মার্কিনীরা কী বলছে, কাকে সন্ত্রাসী বলছে আর না বলছে এটা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সন্ত্রাসী বা এসব অজুহাতমাত্র,আসলে পরদেশ দখল করাটাই তাদের লক্ষ্য।তাছাড়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, যুদ্ধ ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে সচল রাখাটা অসম্ভব।ফলে যে কোন বাহানায় কোনো না কোনো যুদ্ধ তাদের তৈরী করতেই হবে। যদি বাংলাদেশে সন্ত্রাসী নাও থাকে সেক্ষেত্রে কোনো না কোনো গ্রুপের হাতে বোমা তুলে দিয়ে তাদেরকে দিয়ে বোমা ফুটিয়ে সন্ত্রাসী ঘটনা তৈরী করা হবে। ফলে সন্ত্রাসী আসলে তারা তৈরী করছে পলিটিক্যাল উদ্দেশ্যে।বিভিন্ন দলও এভাবে সন্ত্রাসী তৈরী করে থাকে।
বাংলাদেশের মানুষ কখনও সন্ত্রাসে বিশ্বাস করেনি। তারা অধিকার আদায়ের জন্য,আত্মমর্যাদার জন্য,অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর বিরোধিতা করে থাকে। তারা কোন সন্ত্রাসী নয়।
রেডিও তেহরান : সম্প্রতি বাংলাদেশে গুপ্ত হত্যা বেড়ে গেছে, সরকারও এসব গুপ্ত হত্যার কোন রহস্য উদঘাটন করতে পারছে না, মার্কিন বিশেষ বাহিনীর তৎপরতার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর গুপ্ত হত্যার সাথে সংশ্লিষ্টতা আছে কি না তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। আপনি কী মনে করেন ?
ফরহাদ মজহার : সত্যিকারার্থে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার ক্ষেত্রে জল্পনা কল্পনা বা সন্দেহ পোষণ করাকে আমি খুব একটা গ্রহণযোগ্য বলে মনে করি না যদি তার মধ্যে সঠিক কোন তথ্য না থাকে। বাংলাদেশে গুম বা গুপ্তহত্যার বড় কারণ হিসেবে আমি মনে করি-এই রাষ্ট্রটি জনগণের ন্যায্য দাবী কখনও পূরণ করতে পারে নি। যে অর্থনৈতিক অবস্থাকে বাংলাদেশ মেনে নিয়েছে সেটিকে বলে অবাধ বাজার ব্যবস্থা। আর এই অবাধ বাজার ব্যবস্থার মধ্যে যখন কোন রাষ্ট্র একথা বলে আমাদের নিজেদের কোন দায় দায়িত্ব নেই-সবকিছুই বাজারের দায়িত্ব। এরকম পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের একটি মাত্র দায়িত্ব থাকে সন্ত্রাসের পথ বেছে নেয়া। সরকার তখন র্যাবের মাধ্যমে, পুলিশের মাধ্যমে, সেনাবাহিনীর মাধ্যমে, আদালত ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণকে দমন করার পথ বেছে নেয় ।এই ছাড়া রাষ্ট্রের তো আর কোন কাজ দেখি না। কারণ দেশের গরীব জনগণের ওপর যে ভূমিকা রাষ্ট্রের ছিল তারা বলছে সে দায়িত্ব এখন তারা পালন করবে না।ফলে রাষ্ট্র নিজেই সন্ত্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
তবে এটি করে রাষ্ট্রকে মাঝে মাঝে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কারণ পুলিশ, র্যাব বা অন্য কোন বাহিনীকে দিয়ে যখন কাউকে হত্যা করা হচ্ছে, পুলিশী হেফাজতে কাউকে মারা হচ্ছে তখন আন্তর্জাতিকভাবে এসবের ব্যাপারে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে মানবাধিকার কর্মীরা নানারকম প্রতিবাদ বিক্ষোভও করছেন। ফলে স্বভাবতই আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রতিবাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য দেখা যাচ্ছে গুম বা গুপ্তহত্যা হচ্ছে। আর এ বিষয়ে আমাদের ক্রিমিনাল জাস্টিসের ভূমিকা সঠিক নয়, কারণ কেন এসব ঘটনা ঘটছে সেসব বিষয়ে তাদের কোন উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। আমি মনে করতে চাই না রাষ্ট্র এর সাথে জড়িত। তবে যদি রাষ্ট্র নিজে এসবের মধ্যে ভূমিকা রেখে থাকে অর্থাৎ আমরা বিভিন্ন সময় দেখতে পাচ্ছি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উঠছে।কারণ দেখা যাচ্ছে, র্যাব ধরে নিয়ে যাচ্ছে বা র্যাবের হাতে বিচার বহির্ভুত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ফলে রাষ্ট্র যখন সন্ত্রাসের ভূমিকায় নামে তখন গুম, হত্যা বা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হয় না।
রেডিও তেহরান : বিশ্বের যে দেশেই মার্কিন সেনারা তৎপরতা চালিয়েছে সে দেশটিই একেবারে বরবাদ হয়ে গেছে, ইরাক , আফগানিস্তানের অবস্থা তো অত্যন্ত করুণ।জাপানে অনবরত ধর্ষণসহ নানা অসামাজিক কার্যকলাপের কারণে মার্কিন ঘাঁটির বিরুদ্ধে জনমত ফুঁসে উঠেছে, ফলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে দেশের ভবিষ্যত নিয়ে ।
ফরহাদ মজহার : দেখুন, আমাদের দেশের দুটো বড় পলিটিক্যাল অপশন হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।যদি আমরা এই দুটো অপশনের মধ্যে থাকি তাহলে যে বিষয়ে আপনি প্রশ্ন করেছেন এ ধরনের বিষয়ের কোন সমাধান নেই। ব্লাঙ্কলি আমি কথাটা বললাম। বর্তমানে যারা বাংলাদেশে ক্ষমতায় আছেন তাদের বিরুদ্ধে জনগণ ক্ষুব্ধ।তাদেরকে পরিবর্তন করে আরেকটি বড় দলকে ক্ষমতায় আনবেন তারাও বর্তমান ক্ষমতাসীনদের চেয়ে চরিত্রগতভাবে খুব একটা ভিন্ন তা আমি মনে করি না। দেশের জনগণ যতক্ষণ পর্যন্ত না নিজেরা শক্তিশালী হবে,একইসাথে বাংলাদেশের মতো দেশে প্রতিরক্ষার জন্য যখন সেই জনগণকে সম্পৃক্ত করা হবে তখনই সম্ভব সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করা দেশকে প্রতিরক্ষা করা । আর এ ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আমি আমার ভাষায় বলি 'গণপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা'। বাংলাদেশের স্থায়ী সেনাবাহিনী দ্বারা দেশের প্রতিরক্ষা করা অসম্ভব। এসব বিষয় দেশের জনগণকে বুঝতে হবে। আর যদি জনগণের বুঝতে না পারার কারণে পৃথিবীতে বহু জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে।বহু জাতি দাসত্ব বরণ করে নিয়েছে। আর সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ দাস হয়ে থাকবে। তা ছাড়া তো আর কিছুই করার থাকবে না। কেবলই যদি বিদেশের দাস হয়ে দেশের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানী করেন এবং দেশের অভ্যন্তরে একটি দাস ব্যবস্থা রাখেন তাহলে কী হবে! দেশের মানুষের অধিকার রক্ষিত হচ্ছে না,সরকার নাগরিক অধিকারকে অস্বীকার করছে। ফলে একরকম দাসত্বকে তো আমরা মেনেই নিয়েছি। আমি অতি ক্ষুদ্র একজন মানুষ।আমি বা আমরা দুচারজন কথা বলে তো এটার কিছু করতে পারবো না। তবে আমি মনে করি যে কোন মর্যাদাবান ও বেগবান জাতির পক্ষে এই ধরনের গ্লানিকর অবস্থা মেনে নেয়া ঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো এবং প্রতিবেশী দেশ ভারত বিভিন্নভাবে বাংলাদেশকে শোষণ করছে, বিভিন্নভাবে দেশটির ওপর তাদের আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে । আমরা এখনও সচেতন হতে পারেনি। আমি প্রার্থনা করি দেশের জনগণ যেন সচেতন হয় এবং একত্রিত হয়ে এ সবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। মর্যাদাহীন জাতির আসলে কোন ভবিষ্যৎ নেই।#View this link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



