--- ড. রমিত আজাদ

কতটা চিনতে পেরেছিলাম আমরা পরস্পরকে,
সেটা আজ আর কোন প্রশ্ন নয়,
শুক্লা তিথির উদাস অভিসারে
চৈতালী চাঁদের মাধবী নিশিতে
এসেছিলাম খুব কাছাকাছি, এটাই বড় কথা।
সেদিন তুমি নিখাদ ভালোবাসতে,
অনেক আশা নিয়ে কাছে আসতে,
উদগ্র কামনায় উদ্বেলিত যৌবন ক্ষুধা
বক্ষের সতেজ দ্রাক্ষার জমীনে,
তোমার দেহের নীড়ে,
সোনার পেয়ালায় রাখা অমৃত সুধা
কপালে পড়ে থাকা অবিন্যস্ত এলো চুল,
বাঘিনীর মত সরু কোমর,
গোলাপের পাঁপড়ির মত ঠোটে প্রশ্রয়ের হাসি!
মুহূর্তে পুরুষ হয়ে উঠেছিলাম।
এতো অস্থির কেন প্রিয়?
তুমি না কবি?
কবি তো এমন করেনা!
জানিনা, সেদিন কাকে চেয়েছিলে তুমি,
কবি না পুরুষ?
আমি ঠেলে দিলাম প্রেমের পুষ্প যারে,
আজ তাকেই মনে পড়ছে বারে বারে।
হয়তো তুমি কেঁদেছ একাকিনী,
আমার নির্বিকার মনের পাষান মৃত্তিকায়
আবেগের রাখি নাই স্থান,
তবুও আজ কেঁদে ওঠে মন।
বিচ্ছেদের পাঁচটি বছর আজ সম্পন্ন হলো,
জানিনা তুমি তার হিসেব রেখেছ কিনা।
যদি আজ তোমাকে কোথাও দেখতে পেতাম সজল চোখে,
আমি পরম সোহাগে মুছে দিতাম লোনা জলে ভেজা কাজল।
জীবন না সহজ, না জটিল,
আমরাই একে সহজ করি, জটিল করি,
একইভাবে জীবনকে কবিতা করেও তোলা যায়,
ফুলের মত শোভাময় কবিতা ।
আমি তাকে কবিতা হতে দেইনি।
সহসা থামিয়ে দিয়েছি ছন্দ,
তারপর একে একে চলে গেলো পাঁচটি শ্রাবণ।
আমি হাটি এই শহরের পথে পথে,
কখনো জীবিকার তাগিদে,
কখনো মনের আঁশে,
এখানে
নীল তৃষিত আকাশ উপুর হয়ে নুয়ে পড়ে
কদমবুচি করে যান্ত্রিক নগরীর ধুসর জমিনের পা,
তুমিও এই শহরের বাসিন্দা,
তুমিও পথ চলো প্রয়োজনে,
যেখানে
দানবের মত যন্ত্রগুলো পুরো শহরটিকে গিলে খাচ্ছে যেন,
এলিভেটরগুলোর দরজা খোলে আর বন্ধ হয়,
আর প্রতিদিন হারিয়ে যায় অসংখ্য মানুষ!
এখানে বিজলীর আলোর ঝলকানিতে
ম্লান হয়ে আসা জোছনার আলোয়
আমি এক নির্বাসিত আত্মা।
আমার হৃদয়ে আজ গভীর অসুখ!
একদিন তোমার মনের চাপা দুঃখগুলোর কথা
তুমি আমাকে বলতে,
আজ আমার খুব ইচ্ছে করছে
আমার ব্যাথাগুলোর কথা তোমাকে বলতে।
সেদিন দ্বিধান্বিত আমাকে তুমি ঝড়ের মতো ডাক দিতে,
আর আমি এক নির্বিকার বিটপী
দাঁড়িয়ে থাকতাম নিশ্চল-নিস্পন্দ।
আজ আবার হাতছানি দেয় স্বপ্ন-সঙ্গিনীর
সেই ফিকে নীল শাড়ি।
একে একে চলে গেলো পাঁচটি শ্রাবণ,
পার হয়ে গেলো পাঁচটি বসন্ত,
ফুরিয়ে গেলো পাঁচটি বৈশাখী মেলা,
পাঁচ পাঁচবার তুমি পড়েছ বাসন্তি রঙ শাড়ি,
পাঁচ পাঁচবার আমি দেখেছি ভ্যালেন্টাইনস ডে,
একই শহরে থাকি আমরা দুজন,
এতোগুলো বছরেও হলোনা দেখা!
শহরটা কি এতোই বড়?
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৪:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



