
কবি কারিকা কিরীট
-------- রমিত আজাদ
এই অভিশপ্ত ঘাঘরার প্রাবরণে নদ্ধ জীবন,
অশিব নূপুরের নিক্কনে স্পন্দিত বিদ্ধ যৌবন,
এই অলংকৃত চুনি-পান্নার কাঁচুলির অন্তরঙ্গনে,
বহুঘাতে ক্ষত হৃদয়ের দীর্ঘশ্বাসে অশ্রুপাতে উড়ূপ
আমি কারিকা।
ক্ষৌণীশ মহীপতি শূরের মনোরঞ্জনের সাধিত্র
আমার অধিকরণ প্রাসাদের আঁধার অন্তঃপুর।
যেমন রূপবতী সরোজিনী আজন্ম নিমজ্জিত
ঘোলাটে উদকুম্ভে, নিলীন পঙ্কিল সরোবরে।
পৌরাণিক দেবতার মতো
পারাবারে ঝড় তুলতে পারেনা নৃপতি,
তবে দুর্ভাগা ভূভাগ জুড়ে
বিগ্রহ নামাতে পারে এক হুকুমে।
তেমনি এক হুকুমে বিবস্ত্র করে আমাকে।
যেমনি দুর্দান্ত বীরত্ব তাঁর রণক্ষেত্রে,
তেমনি দাবার ঘুটিতেও চাল তছু অব্যর্থ!
আমার অঙ্গে সে দাবাও খেলেনা, যুদ্ধও করেনা।
প্রেমহীন নির্লিপ্ত সঙ্গমেই তৃপ্ত নৃপতি!
রাজা করেন অগোচর অলিখিত চুক্তি,
আমাকে ভোগ করবেন সারাটি যৌবন।
কামনার চুম্বন কোন্ নারী চায় বলো?
রমণীর অধর খোঁজে ভালোবাসার স্বাদ।
নারী ও নিসর্গের বিশুদ্ধতায় মুগ্ধ,
নান্দনিক, ভাবালু, আবেগী এক,
আমি ভালোবাসা ভোগী নই।
আমি সৃষ্টি করি প্রেম,
আমি কবি।
কারিকা, তুমি মনোরঞ্জিনী নও,
নও তুমি ভোগের সামগ্রী যৌবনের।
তুমি মানবী, তুমি শ্বাশত নারী।
যার সিক্ত অধরে শিশির রংধনু রঙা,
রঙিন আলেখ্য লেখা মুখটির তুলিতে।
বিচ্ছুরিত মাধুর্য্যে জড়ানো কেশ,
অলৌকিক সৌন্দর্যে বিভোর।
নয়নের নিগূঢ়তা তব কাঁচরঙা নদী।
তোমার নিটোল শরীর শুধুই পলল নয়,
সে এক মধুমাখা অম্বুধি।
ঐ রূপে সোনার আভরণ,
যেন এক দাসত্বের শৃঙ্খল।
তব উমদা নৃপতির মত,
ধাতব কাঞ্চন চায়না কবি,
পুস্পের বিভূষণ চাই।
এসো কবিতার বাহুডোরে, কল্পান্ত রমণী,
প্রণয়ের বর্ষন দেবো ভরে, সমগ্র রজনী।
Poet Dancer Crown
------ Ramit Azad
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



