
আমাদের দেশের প্রায় প্রতিটি বড় শহরেই হর হামেশা দেখা যায় আমদের ট্রাফিক ব্যবস্থার বেহাল দশা। বড় দুঃখজনক হলেও সত্যি যে সেই ১৯৭৬ সাল থেকে আজ পর্যন্ত লাগাতর চেষ্টা করেও এর হাল বের করতে পারেনি আমাদের অভিজ্ঞ পুলিশ সংস্থা (ট্রাফিক পুলিশ বিভাগ)। এতেই বুঝা যায় যে তাদের প্রচেষ্টায় খুত ছিল নাহয় তারা সঠিক পথে যেতে ব্যর্থ হয়েছে।
ঢাকা শহরে দৈনিক সব চেয়ে বেশি যে কথাটি শুনা যায় তা হলো “ঐদিকে জ্যাম বেশি, জামু না” এবং তা Private Taxi Cab, CNG ও রিকসা ড্রাইভারদের কাছ থেকে। আমাকে কোন ড্রাইভার একথা বললে আমি জিজ্ঞেস করি “জ্যামটা কারা করে”, তো সাবলীল ভাবেই উত্তর আশে “আমরাই”!
আমার লেখার মুল উপাত্তটাই এখানে, যারা বুদ্ধিমান তারা বুঝে গেছেন হয়তো। ঢাকা শহরে রাস্তা মোটামুটি কম না, এবং আমার মনে হয় অনেকটাই প্রশস্ত। আমাদের ট্রাফিক সিগনাল গুলোও আধুনিক এবং বেশির ভাগ কার্যকর। ইদানিং তো সময় সূচকও লাগানো হয়েছে! তারপরও কেন একজন ট্রাফিক পুলিশকে এই রোদ – বৃষ্টি – ঝড়ে দাড়িয়ে থাকতে হয়? সে দাড়িয়ে থেকে তাঁর দায়িত্ব পালন করে পাশাপাশি অনেক গুলো অপরাদ করে এবং বেশির ভাগ সময় এই অপরাদ করার সুযোগ করে দিচ্ছি আমরাই!

কেউ যদি আমার সাথে দ্বিমত পোষণ করতে চান তো করতে পারেন, কেনোনা এই লেখার সম্পূর্ণটাই আমার অনুর্ভর মস্তিষ্কের চিন্তার ফসল।
অনেকই বলে থাকে, আমাদের রাস্তার পরিমানের চেয়ে যানবাহন বেশি, আমদের Traffic Plan উন্নত না, পথচারীরা রাস্তা পার হতে গিয়ে জ্যাম সৃষ্টি করে, শহরে অনেক ব্যক্তি মালিকানাধিন পরিবহণ এর কারণে জ্যাম, আমরা সচেতন না।
কিন্তু আমার মনে হয় আমাদের ট্রাফিক সমস্যার পেছনেও সবচেয়ে বড় হাত আমাদের শিক্ষার, আমদের গনপরিবহনের ড্রাইভাররা খুবই অল্প শিক্ষিত, তাদের Driver License পেতে হলে কোন স্কুল যেতে হয়না, কোথাও কোন প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ এর প্রয়োজন হয়না, তাকে হয় বাসের না হয় অন্য কোন যানবাহনের ড্রাইভার এর হেল্পারি করতে হয়! বা কাউকে টাকা দিয়ে Driver License কিনতে হয়! প্রমান স্বরূপ, ৩ বছর আগে আমার পরিচিত এক CNG ড্রাইভার ছিল আমদের গ্রামে, তাকে যেকোন সময় দরকার পরলে তাকে সেল ফোনে ডাকতাম, মাঝে দুই বছর পার হয়ে গেছে, এই বছরের শুরুতে একদিন আমি দরকারে তাকে ফোন করেছি আসার জন্যে, সে খুব ফুর্তিতে আমাকে জানালো, সে এখন আর CNG চালায় না, এখন সে মাইক্রো বাস এর ড্রাইভার! CNG এবং মাইক্রো বাস এর মধ্যে কত তফাৎ, তো কথা হচ্ছে যে লোকটা জানেই না, রাস্তায় গাড়ি চালাতে কোন জিনিসটা মেনে চলতে হয়, তার কাছ থেকে কি আশা করা যায় ?
আরেকদিন আমি মিরপুর থেকে একটা বাসে করে আসছিলাম, রাস্তা ফাকা থাকাতেও ড্রাইভারটা বাস পরিমিত গতিবেগের চেয়ে কম গতিতে চালাচ্ছিল, হটাৎ করে ওই বাসটাকে আরেকটা বাস পেছনে ফেলে গেল আর কি যেন হয়ে গেল এই বাসের ড্রাইভার এর, সে পাল্লা দিতে শুরু করলো আগে থাকা বাসটার সাথে, আগের বাসটাও একে রাস্তা ছাড়ছে না, এক পর্যায়ে টক্কর লেগে চূর্ণ হয়ে গেল একটা বাস এর Rear view mirror, সে অপর বাস টাকে সামনে থেকে আটকে নেমে এসে ড্রাইভার এর সাথে জগড়া শুরু করলো, এক পর্যায়ে মারামারি! (অনেকের কাছেই পুরান অভিজ্ঞতা) এখানে কেউ খেয়াল করেছেন কি না, ওই দুই ড্রাইভার এর কাছেই তাদের বাসে থাকা যাত্রীদের নিয়ে কোন চিন্তা ছিল না, কোন দুর্ঘটনা ঘটলে কি হবে সে চিন্তা তারা করেনি, এর পেছনে একটাই কারন আর তা হচ্ছে ওদের শিক্ষা!
আমাদের ট্রাফিক বিভাগের উচিত সব ড্রাইভার কে License দেয়ার আগে তাকে শিখানো, এ ব্যাপারে যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়ন এর সহায়তা নেয়া যেতে পারে, আরেকটা কথা আমাদের প্রায় প্রতিটা শহরেই যানবাহন শ্রমিকদের ইউনিয়ন রয়েছে, তাদের একটাই কাজ টা হচ্ছে কিছু হলেই ভাংচুর করে অবরোধ ডাকা, নাহয় কর্ম বিরতি!
আমাদের ট্রাফিক বিভাগের উচিত প্রত্যেকটা যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়নকে বাধ্য করা যাতে তারা তাদের আওতাধীন ড্রাইভার দের গুণমান নিশ্চিত করার জন্যে প্রশিক্ষণ দেয়, পরিক্ষন করে, ট্রাফিক পুলিশ দের রাস্তা থেকে তুলে এনে একেকটা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালনার ভার দেয়া দরকার। সপ্তাহে এক দিন একজন ড্রাইভার ক্লাস করলে তার কাজের কোনই ক্ষতি হবে না। আগে শিখাতে হবে, তারপর পাওয়া যাবে সুফল।
এরপরও যদি কাজ না হয় তো আমাদের সুশৃঙ্খল আর্মি বাহিনী রয়েছে, তাদেরকে দিয়ে তো অনেক কাজই করানো হচ্ছে, তো এই কাজে নিয়োগ করা যেতে পারে কেনোনা, ঢাকার ভেতরেই Army Cantonment এলাকায় রাস্তায় কোন ট্রাফিক নাই, সেখানে কোন জ্যাম নাই, কেউ ট্রাফিক সিগনাল লঙ্গন করছে না ! অবাক করা হলেও এই কথাটা সত্যি, আমি নিজেই প্রমান দেখেছি তাও একজন CNG চালকের কাছ থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে এপ্রিল, ২০১৮ দুপুর ১২:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




