somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অরক্ষিত জরায়ু, সুসজ্জিত রক্ষীবাহিনী

০১ লা আগস্ট, ২০১৫ রাত ১০:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কয়েকদিন আগে মাগুরাতে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি আমরা সকলেই জানি। ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এক অন্তসত্বা গুলিবিদ্ধ হন। আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাকে বাঁচানোর জন্য গর্ভের বাঁচ্চার মায়া ত্যাগ করে নির্ধারিত সময়ের এক মাস পূর্বেই অপারেশন করে ঐ বাঁচ্চা বের করে আনা হয়। সেখানে দেখা গেল এক নৃশংস দৃশ্য! সদ্য জন্ম নেওয়া বাঁচ্চার শরীরে একাধিক বুলেটের আঘাত। পৃথিবীতে এই বোধহয় প্রথম মানব সন্তান, যে জন্মের আগেই সন্ত্রাসীদের দ্বারা গুলিবিদ্ধ হয়। আরও আশংকার কথা এটাই, এই সুকাজের জন্য এখনো কাওকে আটক করতে পারেনি আমাদের সুদক্ষ পুলিশ বাহিনী। হয়ত ধরার চেষ্টাই করে নি।
এবার আসুন এদের অতিত নিয়ে একটু ঘেটে দেখি। ১৯৭১ সালের মে মাস। পাক হানাদার বাহিনীর সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ শুরু করেছে মুক্তিকামী বাঙ্গালী বীর সেনানীরা। প্রতিদিন হাজার হাজার যুবকেরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে যাচ্ছে ট্রেনিংয়ের জন্য। জীবনের বিনিময়ে তারা দেশ মাতাকে মুক্ত করতে চায়। সদ্য গঠিত মুজিব নগর সরকার কলকাতা থেকে সকল বিষয় পর্যবেক্ষণ করছেন। সরকার প্রধান তাজউদ্দিন আহমেদ, আর মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গণি ওসমানি। তবে সকল মুক্তিকামী মানুষের প্রেরণা একজন, তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এভাবেই চলছিল সব। তবে এ সবকিছুর আড়ালে ঘটে যায় আরেকটি ঘটনা, যা কেউই তখন জানতে বা বুঝতে পারেনি।
মুক্তিযোদ্ধাদের সমান্তরাল আরেকটি বাহিনি গড়ে তোলে ভারত। যেটি গঠিত হয় সেসময়কার ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে। তুলনামুলকভাবে অধিক প্রশিক্ষিত এবং আধুনিক অস্ত্র সজ্জিত এ বাহিনী কার্যক্রম শুরু করে মে মাসে। কিন্তু এ বাহিনী সম্পর্কে তাজউদ্দিন আহমেদকে জানানো হয় নভেম্বরে। এ বাহিনী সম্পর্কে জেনারেল ওসমানী কেও কিছু জানানো হয়নি। এমনকি তার কমান্ড ও মানতো না এরা।
মেজর জেনারেল উবান, যার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে তৈরি করা হয় মুজিব বাহিনী- এ বাহিনীকে তিনি Brainchild of RAW বলে উল্লেখ করেছেন। মেজর জেনারেল উবান তার বই 'Phantoms of Chittagong' এ একথা বলেন। তিনি তার বইয়ে আশ্চার্যন্বিত হয়ে বলেন, বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার প্রধান তাজউদ্দিন আহমেদকে পর্যন্ত এ বাহিনী সম্পর্কে অবহিত করা হয়নি।এমনকি তদকালীন আওয়ামিলীগ নেতৃত্ব ও এ বাহিনী গঠন নিয়ে প্রশ্ন ও অসন্তোস জানিয়েছে।
মূল নেতৃত্ব হতে বাইরে এরুপ্‌ একটি বাহিনী গঠনের কি প্রয়োজন ছিল? এ সম্পর্কে মেজর জেনারেল উবান বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের এক বিরাট অংশ ই ছিলেন বাম দলের নেতা-কর্মীরা। যাঁদের ভারত কখনোই নিরাপদ ভাবতো না। মূলত বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যেন বামেরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, তাদের দমন করার জন্যই মুজিব বাহিনী গঠন করা হয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনী গঠন করার ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু আমাকে ঢাকায় ডেকে পাঠান। রক্ষী বাহিনি নামে এ বাহিনি গঠন করা হয়। আমি অবাক হয়ে গেলাম এটা দেখে যে, এ রক্ষী বাহিনী মূলত মুজিব বাহিনীর নতুন সংস্করণ!
১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনীর উল্লেখযোগ্য কোন অবদান ই নাই। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী সৃষ্ট রক্ষী বাহিনীর কাজের ফিরিস্তি অনেক। হিন্দু সম্পত্তি দখল, বাম আদর্শের মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা সহ সব কাজেই তাদের পদচারণা। এ সম্পর্কে তথ্যবহুল উপস্থাপনা রয়েছে মেজর এম এ জলিল (যিনি একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন সেক্টর কমান্ডার) এর 'অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা' বইয়ে। পুরোপুরি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে এ রক্ষী বাহিনী। তাদের অত্যাচার থেকে স্বাধারণ মানুষ ই নয় মুক্তিযোদ্ধারা পর্যন্ত বাচতে পারেনি।
আজকের এ ছাত্রলীগ ঐ রক্ষী বাহিনীর ই বংশধর। তখনো তারা অস্ত্রবলে সজ্জিত ছিল, এখনো এরা আছে। পার্থক্য শুধু সময়, স্বভাব একই আছে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা আগস্ট, ২০১৫ রাত ১০:১৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নীল ড্রামের রহস্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


ঘরটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ক্ষণে ক্ষণে জানালার ওপাশ থেকে আসা দূরপথের সোডিয়াম বাতির একচিলতে আলো এসে পড়ছে ঘরের ভারী বাতাসের ওপর। ঘামের তীব্র গন্ধ আর উন্মুক্ত ত্বকের উত্তাপ ঘরের পরিবেশকে ভারী করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×