somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের মৌলিক অধিকার

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৮:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


যে সকল অধিকার মানুষের জন্মগত অর্থাৎ মানুষ জন্মের পর
যে সব অধিকার পাবে তাকে বলে মৌলিক অধিকার।
আমাদের প্রধান মৌলিক অধিকার ৫টির।

১) খাদ্য
২) বস্ত্র
৩) বাসস্থান
৪) শিক্ষা ও
৫) চিকিৎসা

কিন্তু আমরা কতোটুকু পাচ্ছি আমাদের মৌলিক অধিকার গুলি?
আমাদের কতোটুকু মৌলিক অধিকার রাষ্ট বা সরকার পূরণ করতে পেরেছে বা পারছে?
অথচ প্রায় দিন আমার মোবাইলে govd inf থেকে একটা এসএমএস আসে
"তথ্য জানা আপনার মৌলিক অধিকার"।
আপনাদের ও নিশ্চয়ই এই একি এসএমএসটি আসে।

এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে প্রধান মৌলিক অধিকারের ৫টির থেকে
তথ্য জানাটা কি খুব বেশি গুরুত্যপূর্ণ অধিকার?
জানি সবাই আমার সাথে একমত প্রকাশ করে বলবেন, নিশ্চয়ই না।

তাই বলে ভাববেন না যে আমি তথ্য অধিকার কে হেয় করে দেখছি।
তথ্য জানাও আমাদের জন্য গুরুত্যপূর্ণ।
শুধু আপসোস কোন দিন আমার বা আমাদের মোবাইলে
govd inf থকে এমন একটা তথ্য আসেনি যে,
খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা আমাদের প্রধান মৌলিক অধিকার।

যাই হোক আমার এই লেখাটার মূল বিষয় হচ্ছে...
আমাদের মৌলিক অধিকার
--------------------------------------
আমি স্বীকার করি আজ আমাদের রাষ্ট বা সরকার শিক্ষা ও চিকিৎসা
ব্যবস্থাকে অনেক এগিয়ে এনেছেন।
আজ আমাদের সন্তানরা আমাদের মতো এতোটা শিক্ষা ও চিকিৎসা বঞ্চিত না।
যদিও এটা একা আমাদের রাষ্ট বা সরকারের দ্বারা সম্ভব হয়নি।
সম্ভব হয়েছে দেশী বিদেশী বিভিন্ন সংস্থা / এনজিও ও অনেক শিক্ষানুরাগীদের দ্বারা।
তাই বলে এমন কিছু হয়নি যে আজ আমরা শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে উন্নত বিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতা করছি।

এখনো আমাদের দেশের কয়েক লক্ষ শিশু শিক্ষা ও চিকিৎসা বঞ্চিত।
আর এর প্রধান কারন হচ্ছে খাদ্য বস্ত্র বাসস্থানের অভাব।
আর এই ৩টি প্রধান মৌলিক অধিকারের অভাবেই বাবা মা বাধ্য হয়ে
শিশুকে শিক্ষা বঞ্চিত করে শিশু শ্রমে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

শুধু কি তাই?
আমাদের আছে কয়েক লক্ষ পথ শিশু।
যাদের বাবা মা আছে কি নাই তারা নিজেও জানে না।

যে নিজেই জানে না তার বাবা মা'র কথা।
সে, কি ভাবে জানবে তার মৌলিক অধিকারের কথা?
যে শিশুর নেই কোন বাসস্থান। রাজপথ তার স্থায়ী অস্থায়ী ঠিকানা।
বস্ত্রহীন, অথবা জীর্ণ শীর্ণ ছেড়া ফাড়া নোংরা পচা জামা পড়ে।
লাজ লজ্জা কি তার কখনো জানার কথা।
কুকুরের সাথে খাদ্য খায় ডাষ্টবিনে।
কখনো আবার কুকুরের মুখ থেকে খাবার কেড়ে নেয় ক্ষিদার জ্বালায়।
সেই শিশু কি কখনো স্কুলে যাবে পড়া লেখা শিখতে?
উত্তর আমাদের সবার জানা। তবুও আমরা নিঃষচুপ ।

আমাদের দেশের আনাছে কানাচে, পাড়া মহল্লায়
গড়ে উঠেছে অসংখ্য পথশিশু স্কুল।
শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখলে যে, সাড়া জীবন হাসেনি সেও হেসে দেবে।
তার প্রধান কারণ উপস্থিতির সংখ্যা এতো কম যে, গুণা লাগেনা চোখ বলে দিতে পাড়ে মনকে এক পলক দেখে।
আর এর প্রধান কারণ হচ্ছে খাদ্য বস্ত্র বাসস্তানের অভাব।

যে শিশু খাদ্য পায়নি সে, কি বস্ত্রের পিছনে দৌড়াবে?
যে শিশু বস্ত্র পায়নি সে, কি বাসস্থানের পিছনে দৌড়াবে?
আর যে শিশু বাসস্থান পায়নি সে, কি শিক্ষার পিছনে দৌড়াবে?
আর যে শিশু শিক্ষার আলো পায়নি সে, কি চিকিৎসার গুরুত্বারোপ বোঝার ক্ষমতা রাখে?
জানি সবাই আমার সাথে এক মত প্রকাশ করে বলবেন, নিশ্চই না।

তাহলে সবার আগে খাদ্যের অধিকার নিশ্চিত করা উচিৎ।
তারপর ধারাবাহিকতায় বস্ত্র বাসস্থান শিক্ষা চিকিৎসা সহ অন্যান্য সব।
আমি নিশ্চিত হয়ে বলে দিতে পাড়ি যেদিন থেকে আমাদের খাদ্য বস্ত্র বাসস্থানের অভাব দূর হবে, সেদিনের পর থেকে আমাদের শিক্ষার হার হবে একশ ভাগ। আর তারই ধারাবাহিকতায় এগিয়ে যাবে আমাদের চিকিৎসা সহ অন্যান্য সব মৌলিক অধিকার। আমরাও হবো উন্নত বিশ্বের উন্নত রাষ্ট।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৮:১২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চন্দ্রপ্রভা

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

চন্দ্রপ্রভা
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তোমাকে দেখে মোহিত হই চন্দ্রপ্রভা
রোদ পড়লে চকচক করে
এতই সুন্দর লাগে
একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকি।
তোমাকে ছুঁতে ইচ্ছে করে
কিন্তু পাই না যে সাহস।
তুমি নাই বলে কি এত ঝড়?
তুমি পাশে নাই বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কি পেলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬



বাংলার দুই নোবেল জয়ী রবি ঠাকুর আর ডঃ ইউনুসের পিছনে অনেক কথাই তো বললেন।
ব্লগ লেখায় ভরিয়ে ফেললেন!
খোদা তাঁদেরকে যে জায়গা দিয়েছেন, তা থেকে এক চুল কি নিচে নামাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমরা নেহা বোরা কে বাংলাদেশের কথা বোলো না

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২


নেহা বোরাকে তোমরা বাংলাদেশের কথা বোলো না। বোলো না যে, তিনি যখন বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করছেন, তখন বাংলাদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুনেরা ক্যাম্পাসে গরু জবাই করে জেয়াফত খাওয়ার আন্দোলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×