ইরান মুসলিম বিশ্বকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতিয়ারে পরিণত না হওয়ার আহবান জানিয়েছে এবং দেশটির বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে। মানামার রিজ কাটনে ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ রিজিওন্যাল সিকিউরিটি আয়োজিত এক শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন গত শনিবার ইরানী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনুচেহের মুত্তাকী ভাষণদানকালে বলেন, মার্কিনীদের উপস্থিতি অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে।
ফার্সি ভাষায় দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, ৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে হামলা চালায় এবং এত উদ্ধৃত হয়ে ওঠে যে, জাতিসংঘের কোনরকম অনুমোদন ছাড়াই ইরাকে বোমাবর্ষণ শুরু করেও সেনা অভিযান পরিচালনা করে। তারা হাজার হাজার নির্দোষ মানুষকে হত্যা করে। এসব মানুষ তো কোন অপরাধ করেনি।
সাম্প্রতিক ইউকিলিকস বিতর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন। যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যা ও প্রতারণার বিস্তার ঘটাচ্ছে। ইরান অঞ্চলের সকল আরব ও মুসলিম দেশের বন্ধু বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যখন দেখি সৌদি আরবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিকাশ লাভ ঘটছে তখন আমরা আনন্দিত হই। আন্তর্জাতিক ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে বাহাইন একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হতে দেকে আমরা খুশি হই। আমরা কেন আনন্দিত হবো না? এসব দেশ হচ্ছে আমাদের ভাই। তিনি অঞ্চলের সকল অঘটনের জন্য বিদেশী শক্তিই দায়ী বলে অভিযোগ করে বলে, এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, প্রতিবেশি দেশগুলোর মধ্যে বৈরী সম্পর্ক সৃষ্টির পেছনে বিদেশী শক্তির হস্তক্ষেপ রয়েছে। আঞ্চলিক বিভক্তি ও সংঘাত সৃষ্টির তাৎক্ষণিক কারণ হচ্ছে আমাদের অঞ্চলে বিদেশী শক্তির উপস্থিতি।
ইরান পরমাণু বোমা বানাচ্ছে বলে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে এ ধরনের অভিযোগ তুলেছে।
তিনি বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ঠিক নয়। গত ৭শ' বছরের ইতিহাসে আমরা কোন আরব প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করেছি এমন কোন প্রমাণ নেই। এমনকি এ বিষয় নিয়ে আমরা চিন্তা ও করি না কারণ কারণ আমাদের প্রতিবেশীরা হচ্ছে মুসলমান।
মুত্তাকী বলেন, অঞ্চলের বন্ধুর দেশগুলোর মধ্যে বিবেধ ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য বাইরের শক্তি যে চাপ দিচ্ছে তার কাছে মুসলিম দেশগুলোর অবশ্যই নতিস্বীকার করা উচিত নয়। ইরানের পরমাণু শক্তি থেকে সমগ্র মুসলিম বিশ্ব উপকৃত হবে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, কোন মুসলিম দেশ শক্তিশালী হচ্ছে দেখে সব মুসলমানের অবশ্যই খুশি হওয়া উচিত। আমাদের শক্তি হচ্ছে আপনাদের শক্তি এবং অপনাদের শক্তিই আমাদের শক্তি। আমরা একে অপরের ব্যাপারে কি চিন্তা করছি তা নিয়ে পশ্চিমা প্রচার যন্ত্রকে কিছু বলার সুযোগ দেয়া উচিত নয়।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে কোন কিছুর পরিবর্তন ঘটেনি বলে মত প্রকাশ করে ইরানী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জর্জ বুশ যে নীতি গ্রহণ করেছিলেন তা এখনো অব্যাহত আছে। যুদ্ধ বন্ধ করারজন্য মার্কিন জনগণ ওবামাকে ম্যান্ডেট দিয়েছিল। কিন্তু তিনি সে অনুসারে কাজ করেননি। এজন্যই সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে তাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পরমাণু অস্ত্রের ভয়াবহতা সম্পর্কে ইরান পূর্ণাঙ্গভাবে ওয়াকিবহাল। পরমাণু বোমা শুধু একটি কাজই করতে পারে এবং তা হচ্ছে এটা সবকিছু ধ্বংস করে দিতে পারে। কেন আমরা এ ধরনের অস্ত্র তৈরি করতে যাবো? এমনকি আমরা যখন ১৯৮০ এর দশকে রাসায়নিক অস্ত্রের হামলার শিকার হই তখনো কিন্তু আমরা এ ধরনের অস্ত্র তৈরির বিষয় চিন্তা করিনি। এসব রাসায়নিক অস্ত্র ইরাককে সরবরাহ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কিছু দেশ।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা আবারো বলেছে, ইরান পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির বাধ্যবাধকতা এখনো পূরণ করেনি। জাতিসংঘ গত জুনে ইরানের বিরুদ্ধে ৪র্থ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


