সালমান আল ফারসী (রাঃ)
এটি একজন সত্যান্বেষী ও সত্যাশ্রয়ী ব্যক্তির কালজয়ী বাস্তব জীবন কথা। তিনি হযরত সালমান আল ফারসী (রাঃ), তাঁর নিজের জবানেই সেই সত্য প্রাপ্তির চমকপ্রদ ও নাটকীয় ঘটনার মনোজ্ঞ বর্ণনা রয়েছে। তিনি বলেন :
"আমি তখন পারস্যের ইসফাহান অঞ্চলের একজন তরুণ, গ্রামের নাম 'জ্যায়্যান'। বাবা ছিলেন গ্রামের 'দাহ্কান'- সর্দার। সর্বাধিক ধনবান এবং প্রশস্ত গৃহের অধিকারী। জন্মের পর থেকেই আমি ছিলাম তার চোখের মণি। বয়ঃপ্রাপ্তির সাথে সাথে আমার প্রতি তার স্নেহ বাৎসল্য ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে কোন অজানা অমঙ্গলের আশঙ্কায় তিনি আমাকে মেয়েদের মতো ঘরে আবদ্ধ করে রাখতে শুরু করলেন। ঘরে বসে পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত মাজুসী ধর্মে কঠোর তপস্যা শুরু করলাম এবং উপাস্য আগুনের তত্ত্বাবধায়কের পদটি দ্রুত অর্জন করে ফেললাম। রাত দিন চবি্বশ ঘণ্টা সেই আগুন জ্বালিয়ে রাখার দায়িত্ব আমার উপর অর্পিত হয়।
আমার বাবা ছিলেন বিশাল ভূসম্পত্তির মালিক। তিনি নিজেই তা দেখাশুনা করতেন। একদিন কোন কারণবশত তিনি তদারকির জন্য যেতে পারলেন না। আমাকে ডেকে বললেন : 'বৎস, তুমি তো দেখতে পাচ্ছ, বিশেষ কারণে আজ আমি খামারে যেতে পারছি না। আজ বরং তুমি সেখানে যাও এবং সেখানকার কাজকর্ম তদারক কর।'
আমি খামারের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। পথে খ্রিষ্টানদের একটি গির্জার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের কিছু কথার আওয়াজ আমার কানে ভেসে এল। তারা তখন প্রার্থনা করছিল। এ আওয়াজই আমার জ্ঞানচু উন্মোচিত করে দেয়। দীর্ঘদিন ঘরে আবদ্ধ থাকার ফলে খ্রিষ্টান বা অন্য কোন ধর্মাবলম্বীদের সম্পর্কে আমার কোন ধারণা ছিল না। তাদের কথার আওয়াজ শুনে, তারা কি করছে দেখার জন্য আমি গির্জার অভ্যন্তরে প্রবেশ করলাম। গভীরভাবে তাদেরকে নিরীণ করলাম। তাদের প্রার্থনা পদ্ধতি আমার খুবই ভাল লাগল এবং আমি তাদের ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়লাম। মনে মনে বললাম : আমরা যে ধর্মের অনুসারী তা থেকে এ ধর্ম উত্তম। আমি খামারে না গিয়ে সে দিনটি তাদের সাথেই কাটিয়ে দিলাম। তাদেরকে জিজ্ঞেস করলাম : "এ ধর্মের মূল উৎস কোথায়?"
উত্তরে তারা বলল : শামে (সিরিয়া)।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




