somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছাহাবীদের চরিত্র 3(গ)

০১ লা এপ্রিল, ২০০৭ সকাল ৭:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সালমান আল ফারসী (রাঃ) - (শেষ পর্ব)

সালমান (রাঃ) এর মুক্তিকল্পে রাসূল (সঃ) তার ইহুদী মনিবকে নির্ধারিত মূল্য পরিশোধের ব্যবস্থা করেন এবং শর্ত মোতাবেক নির্দিষ্ট পরিমাণ খেজুর গাছের চারা রোপণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর সালমান (রাঃ)-এর পরিচয় জানতে চাওয়া হলে বলতেন আমি সালমান, আদমের বংশধর, ইসলামের সন্তান।

ক্রমবর্ধমান ইসলামী রাষ্ট্রের বিবিধ সংগ্রাম ও অভিযানে সালমান (রাঃ) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। খন্দকের যুদ্ধে তিনি এক অভূতপূর্ব রণকৌশল উদ্ভাবন করেন। মুসলিম বাহিনীকে পরিখা খনন করার পরামর্শ দেন। আবু সুফিয়ান পরিখা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান।

সালমান (রাঃ) তার মহত্ত্বের জন্য ছিলেন সুবিদিত। তিনি ছিলেন অপার জ্ঞানের আধার এবং অনাড়ম্বর কৃচ্ছ জীবন যাপনকারী। তাঁর পরিধেয় ছিল কেবল মাত্র একটি, তা বিছিয়েই তিনি ঘুমাতেন। তিনি জীবনে কোন বাড়ি তৈরি করেননি। এক ব্যক্তি তাঁর কাছে ইজাযত চাইল, তাঁকে একটি ঘর বানিয়ে দেয়ার। তিনি নিষেধ করলেন। বারবার পীড়াপীড়িতে শেষে এই শর্তে সম্মত হন যে প্রস্তাবিত ঘর এত সংকীর্ণ হবে যে দাঁড়ালে মাথায় চাল বেঁধে যাবে এবং শুয়ে পড়লে দেয়ালে পা ঠেকে যাবে।

মাদাইনের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি পাঁচ হাজার দিরহাম করে ভাতা পেতেন যা তিনি সাদাকাহ হিসেবে বিলিয়ে দিতেন। তিনি নিজ হাতের উপার্জনে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কতিপয় ব্যক্তি মাদাইনে এসে তাঁকে কাজ করতে দেখে জিজ্ঞেস করলেন : "আপনি তো এখানকার আমীর এবং আপনার জন্য ভাতা বরাদ্দ আছে সুতরাং এখন এই বেগার খাটুনি খাটছেন?"

তিনি বললেন : আমি নিজ হাতের উপার্জনে খেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। সালমান (রাঃ) অবশ্য তাঁর কৃচ্ছ সাধনায় মাত্রাতিরিক্ত কঠোর ছিলেন না। একদা তিনি আবু দারদা, যার সঙ্গে তাঁর ভ্রাতৃসম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল, তাঁর বাড়িতে গেলেন। তিনি তাঁর স্ত্রীকে দুর্দশাগ্রস্ত দেখে তার হেতু জানতে চাইলে তিনি স্বামীর দুনিয়া বিরাগের অনুযোগ করলেন। আবু দারদা ঘরে ফিরে মেহমানকে সাদরে বরণ করে, তাঁর সামনে খাবার পেশ করলেন। সালমান তাঁকেও খাওয়ায় শরীক হতে বললেন। উত্তরে তিনি বললেন তিনি নফল রোজা রেখেছেন। সালমান (রাঃ) শপথ করে বললেন তিনি না খাওয়া পর্যন্ত তিনিও লোকমা তুলবেন না। সালমান (রাঃ) ঐ রাতও সেখানেই অতিবাহিত করেন। রাতে আবু দারদা (রাঃ) সালাতের জন্য উঠতে চাইলে তিনি তাঁকে বিরত রাখেন এবং বলেন : হে আবু দারদা তোমার উপর তোমার রবের অধিকার আছে, তোমার পরিবার এবং তোমার শরীরেরও অধিকার আছে, সুতরাং প্রত্যেকের অধিকার আদায় কর।

প্রতূ্যষে তাঁরা একত্রে নামায আদায় করেন। পরবর্তীতে আবু দারদা (রাঃ) রাসূল (সঃ) এর সাথে সাাৎ করে উপরোক্ত ঘটনা বর্ণনা করেন। রাসূল (সঃ) তা সমর্থন করেন।

বিদগ্ধ আলেম হিসেবে তিনি ছিলেন সুপরিচিত। আলী (রাঃ) তাঁকে লোকমান হাকীমের সাথে তুলনা করেন। কাব আল আহবার (রাঃ) তার সম্বন্ধে বলেন : সালমান (রাঃ) জ্ঞানের অতল সমুদ্র যা কখনো শুষ্ক বারিশূন্য হয় না। মাজুসী ধর্ম ছাড়াও ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্মের মূলগ্রন্থের জ্ঞান ছিল তাঁর নখদর্পণে। রাসূলের (সঃ) জীবদ্দশায় তিনি পারস্য ভাষায় কুরআনের অনুবাদ করেন। পৃথিবীর ইতিহাসে তিনি-ই প্রথম কুরআনের অনুবাদকারী।

সালমান (রাঃ) যে বনেদী ঘরে বেড়ে ওঠেন, তাতে সহসাই প্রভাবশালী প্রতাপান্বিত পারস্য সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত হতে পারতেন। সত্যস্পৃহা, এবং এর প্রতি দুর্নিবার অনুরাগ, রাসূলের (সঃ) নবুওয়তের পূর্বেই তাঁকে আড়ম্বরপূর্ণ জীবন পরিত্যাগে এমনকি দাসত্বের নিগ্রহ অম্লান বদনে মেনে নিতে উদ্বুদ্ধ করে। সর্বাধিক বিশ্বস্ত মতানুযায়ী হিজরতের পঁয়ত্রিশ বছর পর উসমান (রাঃ) এর খিলাফতকালে তাঁর ওফাত হয়।

(সমাপ্ত)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Laptop Stand কেন দরকার?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান



দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুবাই কি দুর্নীতিবাজদের গন্তব্য হয়ে উঠেছে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩০

কয়েক বছর আগে, কানাডার বেগম পাড়ার কথা ব্যারিস্টার সুমন ভাই বেশ ফলাও করে প্রকাশ করেছিলেন। বাংলাদেশী দূর্নীতিবাজদের আখড়া হয়ে উঠেছিলো কানাডার ঐ অঞ্চল। আজ পুসিলশের সাবেক প্রধান বেনজির দুবাইয়ে ধরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্ব দ্বীন হাসপাতাল ও বাংলাদেশ ফেসবুক বিচারক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৫৪



সম্প্রতি আদ্ব দ্বীন হাসপাতালের ঘটনা কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ফেসবুক বিচারকগণ রায় দিয়েছেন “আদ্ব দ্বীন হাসপাতাল লাইসেন্স বাতিল করা যাবে না”।




...বাকিটুকু পড়ুন

ইমিগ্রেশনেই ধরা খেল বিএনপির কূটনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪০


ধরুন আপনার পাশের বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না। দীর্ঘদিনের পুরনো ঝামেলা, কথা বলাবলি বন্ধ, একে অপরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাশের বাড়িতে একটা বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×