
জীবন কোন ফুলসজ্জা নয়, এ কথা সবার জানা। অতি সুখী মানুষ বলতে দুনিয়াতে কেউ নেই। প্রত্যেকেরই কম-বেশী দুঃখ কষ্ট রয়েছে। এসব দুঃখ কষ্ট অতিক্রম করে যাওয়ার মন-মানসিকতা ও সামর্থ মানুষের মধ্যে রয়েছে। জীবন মানুষের কাছে একটি আমানত। একজন সুস্থ্য বিবেকবান মানুষ দুঃখ লাঘবের পথ হিসাবে কখনোই ”আত্মহত্যা”কে বেছে নিতে পারে না। দুঃখের বিষয় এ বোধ-শক্তি ক্রমেই আমাদের মধ্যে থেকে চলে যাচ্ছে। সামান্য দুঃখ-কষ্টের জের ধরেই মানুষ বেচে নিচ্ছে আত্মহত্যার পথ। জাতীয় সাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে গত চার বছরে দৈনিক গড়ে ২৮ জন মানুষ আত্মহত্যা করে। তাদের বেশীর ভাগের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছর। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর গড়ে ১০ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করে। এর মধ্যে নারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশী। অবশ্য এসব জরিপের বাইরে আরো যে ঘটনা থেকে যায় , তাতে সন্দেহ নেই। আত্মহত্যার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে, ইভটিজিং, প্রেমে প্রতারিত ও ব্যর্থ হওয়া, অভিভাবকদের বকাঝকা, ছেলেমেয়েদের বাহানা পূরণ না করা, পরীক্ষায় ফেল, পারিবারিক, দাম্পত্য কলহ ও যৌতুক প্রথা। এছাড়াও সামাজিক অপরাধে লজ্জিত হওয়া, অর্থনৈতিক হতাশা, বিষন্নতা ও অশান্তি, জটিল রোগ এবং মানসিক ভারসম্যতা হারিয়ে ফেলার কারণে অসংখ্য মানুষ আত্মহত্যা করছে।
আত্মহত্যার এ প্রবণতা বন্ধ করতে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। মানুষের ব্যক্তি মুল্যবোধ ও চেতনাগত পরিবর্তন আনতে হবে। সামাজিক ও পারিবারিক অপরাধগুলো বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সর্বোপরি নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় অনুশাসনের ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। যাতে আর কোন প্রাণ ঝরে না পড়ে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১০:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



