বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিয়ে এমন বহু আঁতেল আছে। তারা না যুদ্ধ করেছে, না আন্দোলন করেছে, না পাকিস্তানের বিরোধীতায় কলম ধরেছে। তারা উত্তাল সময়ে পালিয়ে থেকেছে, পাকিদের বেতন খেয়েছে, পাক দেশমাতৃকার সেবা করেছে। ৭১ এর পরে এসে তারাই আবার স্বাধীনতার মহান চেতনাধারী হয়েছে, যুদ্ধের গল্প বানিয়েছে, যুদ্ধ নিয়ে নাটক-সিনেমা বানিয়েছে আর নানা অদ্ভুতসব আবর্জনা তৈরী করেছে। সমাজকর্মীরা সমাজের প্রয়োজনে একের পর এক কাজ করে যায়। কাজের পরে নিজেরা পর্যালোচনা করে, জ্ঞানীদের থেকে পরামর্শ নেয়। এবং ভুল-ত্রুটিগুলো সমাধা করে।
এই আঁতেলরা কোন কাজ করে না। সমাজের আলোড়িত মুহুর্তগুলো তারা ঘরের কোণে কাটায়, বিপ্লবের মুহুর্তগুলো ঘুমিয়ে কাটায়।
এবং বিপ্লব ও আলোড়ন সমাপ্ত হলে তারা নাঁক উঁচু করে বিভিন্ন তত্ত্ব কপচায় আর বিশ্লেষনের নামে আবর্জনা তৈরী করে।
চিরন্তন সত্য ইতিহাসকে এরা ধামাচাপা দিতে চায় নিজেদের আতেলগিরি রক্ষা করার জন্য। ধর্মের কথা বললে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে। তবে ইহুদি, খ্রিস্টান, হিন্দু বা বৌদ্ধ ধর্মে এদের কোন আপত্তি নেই, যত বিপত্তি মুসলমানিত্বে। ইসলামের কথা বললেই এদের জাত যায়, সাম্প্রদায়িকতার গন্ধ শুকে। চোখ বন্ধ করে অনায়াসে রাজাকার আল-বদর, পাকিস্তানি বলে গালী দেয়। এটা হচ্ছে সর্বনিম্ন স্তরের আঁতলামি। এদের কাছে বাঙালী সংস্কৃতি ইসলামের আলোকে সাজানো মহাপাপ, অথচ হিন্দুয়ানি সংস্কৃতিতে সাজাইলে দোষ নাই। মূর্খের মত কথায় কথায় রাজাকার বলে গালী দিয়ে যৌক্তিক প্রশ্ন এড়িয়ে যায়!
আঁতলামির এই ধারা আজো বহমান। মজার বিষয় হলো এই আঁতালামি এখন ইসলামপন্থীদের মাঝেও দেখা দিয়েছে। দেওবন্দের মতো একটা কর্মমুখর বিপ্লবী ধারার সাথে যৎকিঞ্চিত হলেও ইলমি সম্পর্ক রাখা কিছু লোকের মাঝেও এখন আঁতলামি রোগ দেখা দিয়েছে।
এবং সেলেব্রিটি হওয়ার লোভে সেই আঁতলামি এতো নিন্মপর্যায়ে নেমেছে যে রীতিমত তা বিতৃষ্ণা জাগানিয়া!!
এরা আঁতেল সমাজেরও নিম্নস্তরের। আদর্শ আঁতেল সমাজের যে কোন বিষয় আজাইরা হলেও তর্ক চালাতে পারে। কিন্তু এদেরকে সামান্য গভীরে গিয়ে প্রশ্ন করলেই আর দিশা পায় না। চোখে শর্ষেফুল দেখে। আঁতলামি করার সামান্যযোগ্যতাও এই নব্য আঁতেলদের নেই।
তাই এইসব আতেলদের তোলা আঁতলামি আলোচনা স্রেফ এড়িয়ে যাই। তাদের তোলা প্রশ্নের জবাবও দেই না।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১০:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




