ঐশী যেদিন তার বাবা-মাকে খুব নিপুনভাবে, শৈল্পিক কায়দায় হত্যা করলো সেদিন দুনিয়াজুড়ে হাহাকার পড়ে গিয়েছিলো। হাহাকার পড়ারই কথা-ঐশী তার পিতা-মাতাকে নেশা খাইয়ে অচেতন করে কেটে-ছিড়ে তাদের রক্ত দিয়ে গোসল করেছিলো।
আমাদের বড়ো সাহেবরা একযোগে সেদিন টিভি-পত্রিকায় হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলেন; তার অনেকগুলো কারণের একটি হলো ঐশীরা ভদ্রলোক, ঐশীরা বড়লোক, ঐশীরা বাস করে ভদ্র পল্লীতে। কেইবা তেলা মাথায় তেল দিতে ছাড়ে।
গত ২০ অক্টোবর প্রথমআলোতে ছাপা হয় এই ধরণের আরেকটি হত্যার দু:খজনক ঘটনা। এবারও ঘাতক নিজ সন্তান, নিহত দুজন ঘাতকের পিতা-মাতা। নিহতরা হলেন মানিকগন্জের সিংগাইর উপজেলার মহিউদ্দিন প্রামাণিক ও তার স্ত্রী সুফিয়া বেগম। ঘাতক ঐশীর মতো অতোটা ভাগ্যবান নয়, গণধোলাই খেয়ে ঘাতক জাহন্নামের ঠিকানায়।
এবার আর আমাদের বড় সাহেবরা টিভি-পত্রিকায় হুমড়ি খেয়ে পড়লেননা। তার অনেক গুলো কারণের একটি হলো-মহিউদ্দিনরা ভদ্রলোক নন, বড়লোক নন এমনকি ভদ্রপল্লীতেও বসবাস করেননা।
আমাদের বড়কর্তারা জানেন “ঈশ্বর থাকেন দুরে, ঐ ভদ্র পল্লীতে”; অতএব এখানে তাদের গলাবাজি না করলেও চলবে।
আমার মূল বক্তব্য বড়লোক-ছোটলোক নয়। আমার মূল কথা হলো মাদক নামের মহাদানবটি যা সন্তানের হাতে ছুরি তুলে দিচ্ছে পিতা-মাতার গলায় পোচ দেয়ার জন্য সেই মাদকের প্রসংগে। মাদক আজ তৈরি করছে মাতৃহন্তারক এক কালো যুগের সুচনা।
আমাদের বড়সাহেবরা বিমানবন্দরের সোনা উদ্ধারে যতটা মনযোগী, মাদক বন্ধে ততটাই উদাসীন। যার ফলে হাত বাড়ালেই মুড়ি-মুড়কির মতো পাওয়া যায় মাদক। বাংলার মেরুদন্ড যুব সমাজ আজ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে, তারা একে একে হাতে ছুরি তুলে নিচ্ছে বাবা-মার গলায় চালানোর জন্য।
বড় সাহেবরা চাইলে অনেক কিছুই হয়। জনগণকে সাথে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করুন। হতভাগ্য পিতা-মাতা-সন্তানদের বাচান।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


