খোলা চিঠি
জনাব,
সালাম নিন। যুগযুগান্তর থেকে এপার ও ওপার বাংলার মানুষ গণিতের চার(৪) ও আটের(৮) গ্যাঁড়াকলে পিষ্ট হচ্ছেন। শৈশব থেকে শুরু হয়েছে, আজ মধ্য যৌবনে এসেও বাংলা ৪ এবং ৮ এর সাথে ইংরেজি 4 & 8 এর পার্থক্য করতে কষ্ট হয়! ভুল হয়েছিল সবার এখনো হচ্ছে অনেকের! সবাই ভুগছেন আবার মেনেও নিচ্ছেন! কিন্তু আরো কত? শুধু আক্ষেপ করতে নয়, আমাদের অযোগ্যতার গল্প শোনাতে নয়, কারো নামে নালিশ করতে নয় আজ শুধুমাত্র গণিতের চার সংখ্যাটির প্রতীক পরিবর্তনের দাবী নিয়ে এসেছি।
স্মৃতির পৃষ্ঠাগুলো একটু উল্টালেই 4 -৪ ও 8- ৮! সংখ্যা দুটির প্রতীক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়। তবু সেসব উপেক্ষা করা গেলেও ৪ ও ৮নিয়ে প্রতিটি শিশুদের আতঙ্ক কে উপেক্ষা করা যায় না। তাইতো দাবী করছি, পরিবর্তন চাই।
পরিবর্তনের বাতাস বইতে শুরু করেছিল পৃথিবী সৃষ্টির আদি হতে, আজো সে বাতাস বইছে এবং বইবে অন্ত পর্যন্ত। বিজ্ঞানের সূত্র বদলে যায়, শিল্পের ধারা গতী প্রকৃতি বদলে যায়, আদর্শও বুঝি হাওয়া বদল করে সময়ের সাথে নরম পোক্ত হতে দেখা যায়, ভাষা বদলে যায়, মানুষ বদলে যায়, প্রয়োজনে পতাকা বদলে যায়, প্রতীক বদল খুব কঠিন কিছু? বাইবেলের বানী তো পরিবর্তিত হয়েছে! যদি প্রতীক পরিবর্তন অসম্ভব কিছু না হয়ে থাকে তাহলে এখনই সময় প্রতিক বদলাবার। আর কত?
সূক্ষ্মতর পার্থক্য থাকলেও ইংরেজীর 2 আর বাংলার ২ দেখতে একই রকম ফলে চিনতে কখনই ভুল হয় না। সেরকমভাবে বাংলার চার প্রতীকটির যদি সামান্য পরিবর্তন করা যায় বা ইংরেজীর "4" কে গ্রহণ করা হয় তাতে ভুলের আশঙ্কা শতভাগ কমে যায়। বিভিন্ন ভাষার শব্দ বাংলায় এসেছে আসছে। এমন তো নয় যে, এতে রক্তের বিনিয়ে অর্জিত বাংলা ভাষার চরিত্র নষ্ট হবে। হ্যাঁ এটি সত্য যে, তা মানতে কষ্ট হবে আমার, সবার কিন্তু এও তো সত্য, একটু কষ্ট স্বীকার করলেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাউকে ভুলে পড়তে হবে না।
পৃথিবীতে প্রায় ৭১৬ কোটি মানুষের সবাইকে তো ঝামেলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। কারন তাদের প্রতীক ভিন্ন। শুধু এবাংলা আর ওবাংলার গুটি কয় মানুষ চার ও আটের যন্ত্রণায় ভুগছেন। জানি প্রতীক পরিবর্তন হলে আলগা সুখেরমত ব্যথা সহ্য করতে হবে, করব, মেনে নিব আমাদের শিশুদের দিকে তাঁকিয়ে, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। আপনার কাছে শিশুদের ও আমাদের দাবীর কথাটা তুলছি। আর অপেক্ষায় থাকলাম, একদিন.....
মোঃ রাজ্জাকুর রহমান মুসা ভাই

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



