somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি রাতের গল্প

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাত প্রায় ১১.৪৫ মিনিট, সুমন তার ভাইয়ের সাথে রাগ করে ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় হাটছে, অন্ধকার রাস্তা কোথাও কোন মানুষ নেই, মাঝে মাঝে দুই-একজন দেখা গেলেও তারা নীড়ে ফেরায় ব্যস্ত, সুমন ভাবছে প্রতিদিনই ভাইয়ের সাথে কোন না কোন কারন বশত ঝাগড়া বাধেই। না এভাবে চলা যায় না।জীবনে কিছু একটা না করলেই নয়। ভাইয়ে সাথে প্রতিদিন ঝগড়া করিতে তার আর ভাল লাগে না। আর ভাই বকবে না কেন, পড়াশুনা শেষ করে দুই বছরেও একটা সামান্য চাকরি যোগাড় করতে পারলো না সুমন। দেশে চাকরীর বড়ই অভাব। একদিকে জাতি শিক্ষিত হচ্ছে অন্য দিকে বেকারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, বেশি পড়াশুনা করায় দিনমজুরী বা রিক্সাও চালাতে পারছে না। এই দেশে থেকে কিছুই করা সম্ভব না, এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ মানুষের মত কিছু একটার সাথে ধাক্কা লাগে সুমনের, পাশে ফিরে দেখে একটি অপরূপা সুন্দরী মেয়ে তার ধাক্কা লেগে মাঠিতে পড়ে গেছে, হাত ধরে তুলতে চাইবে ভাবছে কিন্তু অপরিচিত তাই না হাত বাড়িয়ে না দিয়েই বললো...

-সরি সরি দেখতে পাইনি,
-না ঠিক আছে..
-আপনি কি ব্যথা পেয়েছেন?
-না ব্যথা পাই নি...
মেয়েটির মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলো মেয়েটির চোঁখে জল, তাই সে আবারও বললো..
-আমি আসলেই সরি দেখতে পাই নি, ব্যথা পেয়েছেন মনে হচ্ছে সরি সরি...
-না ঠিক আছে আপনি যান,
-কিন্তু আপনার চোঁখে জল?
-তাতে আপনার কি? আপনি আপনার কাজে যান...

সুমন কথা না বাড়িয়ে পেছন ফিরে চলে যাচ্ছিল, একটু এগিয়ে গিয়ে পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখে মেয়েটি সেই জায়গাই দাড়িয়ে আছে এবং চোঁখের জল মুছার বৃথা চেষ্টা করছে, সুমন আবারও এগিয়ে যায় মেয়েটির কাছে ..

-আপনার কি কোন সমস্যা? কাঁদছেন কেন?
-কোন সমস্যা নেই আপনি যান,
-আরে আজব তো, সমস্যা কি? কাঁধছেন কেন?
-কিছু না আপনি যান..
আচ্ছা কি হয়েছে বলেন প্লিজ আপনি কি ব্যথা পেয়েছেন?
-না..
-তাহলে??
-আপনি কে? আপনাকে কেন বলবো?
-আমি সুমন, এই শহরেই থাকি, চিন্তা কইরেন না আমি খুব একটা খারাপ মানুষ না। এখন বলেন কাঁধছেনই কেন?
-আমি অনু শহরে এসছি দুপুরে গ্রাম থেকে আমার মাকে নিয়ে..
-হুম তো কাঁদছেন কেন?
-আজ সকালে একটা ক্ষেপাটে ষাড় কোথা থেকে ছুটে আসে মায়ের দিকে মা তখন আমাদের উঠানে দাড়িয়ে ছিল, মিনিটের মধ্যেই ডুস মেরে চলে যায়, আমি দেখেই মাকে গ্রামের হাসপাতালে নিয়ে যাই তারা ব্যান্ডেজ করে দিয়েই বলে শহরে নিয়ে যেতে এরপর এম্বুলেন্সে ঠিক করেই এখানে নিয়ে আসে একটি হাসপাতালে ভর্তি করি, সেখানে ডাক্তার দেখে বললো প্রচুর রক্তক্ষরন হয়েছে, রক্ত লাগবে যতদ্রুত সম্ভব হয়, সেই দুপুর থেকেই শহরের বিভিন্ন ব্লাড ব্যাংক গুলোতে ঘুরছি কোথাও রক্ত পাই নি। এদিকে মায়ের অবস্থা রক্তের অভাবে আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে। কি করবো বুঝতে পারছি না। রক্ত না পেলে মাকে বাঁচানো যাবে না।
-রক্তের গ্রুপ কি আপনার মায়ের?
-এবি নেগেটিভ।
-আচ্ছা আমি যদি রক্তের ব্যবস্থা করে দেই তাহলে কি আপনার কোন সমস্যা হবে?
-সমস্যা হবে কেন, কিন্তু আপনি কিভাবে ব্যবস্থা করবেন।
-আসলে আমার রক্তের গ্রুপ এবি নেগেটিভ। চলুন আমি যাবো ব্লাড দিতে।
-সত্যি, কিন্তু আপনার শরির দেখে তো মনে হচ্ছে না আপনি রক্ত দিতে পারবেন, প্রয়োজনের তুলনায় একটু বেশিই শুকনা মনে হচ্ছে আপনাকে।
-জ্বি কি যে বলেন, আমি রক্তদানের যোগ্যতা সম্পূর্ণ আর সুখবর হচ্ছে আমার এইডস নেই।
-সরি, আপনাকে দেখে মনে হয় না তাই বললাম প্লিজ মনে কিছু নিয়েন না।
-না না ঠিক আছে এখন চলুন।
-হুম চলুন...

লেখা- DH Tuhin
(একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে)
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:১৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাষ্ট্রভাষা নিয়ে জিন্নাহর সেই ভাষণ। কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০


জিন্নাহর সেই ভাষণ
সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে ভাষা আন্দোলন নিয়ে জিন্নাহর একটি বক্তব্য যাতে দাবী করা হচ্ছে তিনি নাকি আমাদের ওপর উর্দু যেভাবে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বলে এতকাল “প্রচার”... ...বাকিটুকু পড়ুন

গালিব সাহেব, মিথ্যারও তো একটু সামাজিক মর্যাদা আছে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩



মির্জা গালিব বলেছেন -
“পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলা হয় ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে, যেটা আদালতে। আর সবচেয়ে বেশি সত্য বলা হয় মদ ছুঁয়ে, যেটা পানশালা।”

গালিব সাহেব, আপনার কথায় যুক্তি আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাউঞ্জ এন্ড ফুড রিভিউ; দ্যা সেন্স

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪২


নিয়মিত-অনিয়মিত গত এক যুগ ধরে ভ্রমণ করছি এবং প্রায়োরিটি পাস দিয়ে বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্টে লাউঞ্জ ব্যবহার করছি প্রায় ৪ বছর ধরে। দীর্ঘ ফ্লাইট, লং ট্রানজিটের মধ্যে এয়ারপোর্টে ফ্রিতে দৃষ্টিনন্দন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×