৪০ বছরের কম বয়স হওয়াই এখন হজে যাওয়ার প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার শামীম হাসানের। পুলিশ তদন্ত করে জানিয়েছে ৪০ বছরের কম বয়সীরা হজে গেলে আর ফিরে না। সৌদী আরবে লুকিয়ে থেকে যায়। তাই তাদের হজে যাওয়ার ক্লিয়ারেন্স দেয়া যাবে না।
মো. শামীম হাসানের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার গোদনাইল গ্রামে। ষাটোর্ধ্ব মা রহিমা খাতুনকে নিয়ে এ বছর হজে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। সে জন্য সিদ্ধিরগঞ্জে এহসান এয়ার ট্র্যাভেল এজেন্সির কাছে জনপ্রতি ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা করে মোট ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা জমা দেন।
শামীম হাসান গতকাল সংবাদকে জানান, ১৫ দিন আগে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা থেকে আমার কাছে ফোন আসে। তারা আমাকে পুলিশি তদন্তের জন্য থানায় যেতে বলে। সেখানে আমার ভোটার আইডি কার্ড ও পাসপোর্টের ফটোকপি জমা দিতে বলে। আমি তাদের কথামতো কাজ করলাম। এরপর তারা আমাকে আমি কী কাজ করি, আমার বয়স কত, আমার বাড়ি টিনের না বিল্ডিং, বাড়ি ভাড়া দিয়েছি কি না, বাড়ি ভাড়া থেকে কত টাকা পাইসহ বেশকিছু প্রশ্ন করে। আমি তাদের যা সত্য তাই বলি। তদন্তের কি ফলাফল তা পরে জানানো হবে বলে তারা আমাকে জানায়। শামীম জানান, ৪/৫ দিন আগে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা থেকে জানানো হয় আমার আবার পুলিশি তদন্ত হবে। আমি আবার থানায় গেলে জানানো হয়, ৪০ বছরের কম বয়সী হজযাত্রীরা সন্দেহের তালিকায় রয়েছে। তাদের মতে, ৪০ বছরের কম বয়সী হজযাত্রীরা হজে গেলে তারা সেখান থেকে আর ফেরত না এসে পালিয়ে থেকে যায়। তিনি বলেন, থানার লোকজন আমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেছে। তারাও আমার কাছে এই বিষয়ে আমাকে সহানুভূতি জানিয়েছেন। আমি থানা থেকে সতায়তা পেয়েছি। কিন্তু সরকারের নতুন নিয়মের কারণে এবার হজে যাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে আমাকে।
শামীম বলেন, আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর আমাদের হজে যাওয়ার ফ্লাইট। আমার মা বৃদ্ধ। তার পক্ষে একা হজে যাওয়া সম্ভব নয়। আমার যাওয়া না হলে আমার মায়েরও যাওয়া হবে না। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশি তদন্ত হবে এটা ভালো কথা। কিন্তু এই অজুহাতে ধর্মীয় কাজে বাধা দেয়ার কোন মানে হয় না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল আলম মোল্লা সংবাদকে বলেন, এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। আমাদের কিছু করার নেই। এর বেশি আমি আর কিছু বলতে পারব না
সুত্র

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


