গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবিত কালের মতই মৃতু্যর পরও তারা চরম অবহেলার পাত্রই রয়ে গেছে। অথচ এই শ্রমিকদের সস্তা শ্রমের কারণেই আমরা বিশ্ববাজারে ব্যবসা করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করি। এটা আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত। সস্তা শ্রমের কারণেই দেশে নব্য ধনীক শ্রেণীর উদয় ঘটেছে। তাদের গাড়ি-বাড়ি, শান-শাওকত সবই হয়েছে। কিন্তু গার্মেন্টস শ্রমিকেরা বাঁচার মত মজুরির দাবি জানাতে গিয়ে জীবন হারিয়েছে। মালিকদের কারণে আগুন লেগে গ্ধ হয়ে ও পদপিষ্ট হয়ে জীবন দিয়েছে। ভবন ধসেও মারা গেছে। তাদের জীবনের দাম সব সময়ই সস্তা, অতি সস্তা!
অথচ এ দেশেরই অন্য সন্তান যারা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্য হিসেবে বিদেশের মাটিতে দুর্ঘটনায় বা দায়িত্ব পালনে জীবন দিয়েছে তাদের প্রতি সরকারিভাবে জাতীয় মর্যাদা প্রদর্শন করা হয়েছে। তাঁদের মরদেহ যথাযোগ্য মর্যাদায় গ্রহণ ও দাফন করা হয়েছে। নিহত গার্মেন্টস শ্রমিকদের মত তারা অবহেলার পাত্র হয়নি।
সেনা সদস্যদের মরদেহের প্রতি গুরুত্ব ও মর্যাদা দেওয়ায় আপত্তি করার প্রশ্নই ওঠে না। আমাদের প্রশ্ন গার্মেন্টস শ্রমিকদের প্রতি গুরুত্ব ও তাদের যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া হয় না কেন? উৎপাদন করা কি পাহারা দেওয়ার চেয়েও ছোট বা গুরুত্বহীন কাজ? তবে এ বৈষম্য কেন? জবাব চাই।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৬ রাত ১:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


