ঘটনা বর্ণনার সুবিধা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার্থে আমি কিছু ছদ্মনাম ব্যবহার করবো।
ঘটনা-১ঃ কোনো এক বিকেলে চার কিংবা পাঁচ বৎসর বয়সী অনিক, বড়বোন মুক্তার সাথে তাদের বাড়ীর পাশের মেঠো পথের ধারে বসে আছে। পথচারী হিসেবে আমি ওদের পাশ দিয়ে মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে যাচ্ছিলাম, (একই মহল্লায় থাকি সেই সুত্রে ওদের চিনি) হঠাৎ খেয়াল করলাম, বড় বোন তার ছোট ভাইটিকে কিছু একটা শেখাচ্ছে কিংবা শেখানোর চেষ্টা করতেছে। আমি আমার হাঁটার গতি কমিয়ে দিয়ে কান দু'টো খাড়া করলাম। ওরে সর্বনাশ! গালি শেখাচ্ছে [এতটুকু শুনে প্রস্থান করলাম]। দু'একদিন পর বিষয়টি পুনরায় খেয়াল করলাম। না, এবার শেখানোটা পাঁকাপোক্ত করা হচ্ছে; প্রতি দু'টো গালির জন্য একটি চকলেট। এবারও বিষয়টি না দেখার ভান করে প্রস্থান করলাম এবং পরবর্তীতে বিষয়টি ওদের মা-বাবা উভয়কেই জানালাম। জানানোর পর যা বুঝলাম, ওটা কোনো ব্যাপার না। যাই হোক, সপ্তাহখানেক পর মহল্লায় এর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করলো অর্থাৎ অনিক সবাইকে গালি দিচ্ছে। আর ওদিকে ওর বড় বোন মুক্তা আড়াল থেকে মুখ টিপে হাসতেছে। মা-বাবাকে বিষয়টি অবগত করার পর কাজ না হওয়ায় আমি/আমরা ওদের এড়িয়ে যেতে লাগলাম; সুফল হিসেবে গালি শুনতে হতো না। এভাবে চলে গেল কয়েক বছর। এরপর একদিন দেখি অনিক ওর মাকে গালি দিচ্ছে। অনিকের মা, অনিককে শাসন করার চেষ্টা করলেন (ওটাকে শাসন না বলে প্রশ্রয় দেওয়া বলা উচিৎ ছিল)কিন্তু কাজ হলোনা। এই ঘটনার কয়েক বছর পর শুনি, অনিক ওর মাকে মারার উদ্দেশ্যে রূখে দাঁড়ায়! কথাটি শুনে বড্ড ব্যথিত হই। তৎখনাথ কিছু না বলে, সমস্ত বিষয়টি কয়েকদিন পর্যবেক্ষণ করি। আশেপাশে প্রতিবেশীরা সবাই অনিকের মায়ের দোষ দেয় এই অর্থে যে তিনি তার ছেলেকে আগে শাসন করেননি। যাইহোক একদিন অনিকের মা আমার কাছে এই বিষয়ে নালিশ করেন যে,"কিছু বললেই ছেলে মারতে আসে।" সব শুনে আমি বললাম,"ভাবী, মনে পড়ে ৬~৭ বছর আগের কথা?" ভাবী শুধু তাকিয়ে থাকে, মুখে কোনো কথা নেই।
এরপর নারী কেলেঙ্কারীতে জড়িয়ে পড়ে অনিক। ভূক্তভোগী মেয়ের মামা স্ব-দলবল নিয়ে অনিকের বাড়িতে আক্রমণ করে। অনিককে বাড়িতে না পেয়ে অনিকের মা-বাবাকে বেদম প্রহার করে, আমার বড়ভাই সে যাত্রায় তাদের উদ্ধার করে।
এরপর গত ৬~৭ মাস আগে পাবজি গেমস্ নিয়ে কিছুএকটা ঝামেলা বাঁধিয়ে ৳৫০০০/- জরিমানা দিয়েছে। এরমাঝে পড়াশোনায় ছাড়া-ছাড়া ভাব চলে এসেছে, করোনা কালে পড়াশোনা নেই বলে ওর পড়াশোনা নামটা এখনো টিকে আছে!
আজকাল শুনতেছি অনিক সিগারেট ছেঁড়ে মাঝেমধ্যে গাঁজা ধরে। বলে রাখা ভাল, অনিকের বাবা কিন্ত কোনো প্রকার নেশার সাথে জড়িত নয়। তিনি দরিদ্র কিন্তু কঠোর পরিশ্রমী।
ঘটনা-২ঃ আমি হাতখরচের টাকার জন্য টিউশনি করি। টিউশনি নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা খুবএকটা ভাল নয়। নিতান্তই বাধ্য হয়েই টিউশনি করি। (এই ৩টি বাক্য আমার লেখার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত না হলে উল্লেখ করতাম না)
ছাত্রকে পড়ানো শুরু করার মাসখানেক পর থেকে মুলত অভিযোগে সূচনা।
অভিযোগ ১ঃ ছেলে/মেয়ে সারাদিন টিভি দেখে, মোবাইল টিপে।
(আমার কথা হচ্ছে) - আপনি কি ঘোড়ার ঘাস কাঁটেন? কথায় কাজ হলে বোঝান নয়তো কষে দুইটা চর মারতে পারেন না? নাকি প্যারালাইসড হয়ে গেছেন?
অভিযোগ ২ঃ ছেলে/মেয়ে আমার কথা শোনে না।
(আমার কথা হচ্ছে) - একদিন শাস্তি দেন। শাসন করেন। নিজে শাসন করতে না পারলে পরিবারের অন্য কাউকে এই দায়িত্ব দেন। আর একটি কথা আমি মেনে নিতেই পারিনা,"ভাত-কাপড় থেকে শুরু করে সম্ভব হলে আকাশের চাঁদটাও এনে দিয়ে দেন।" তারপরেও কেন আপনার সন্তান কথা শুনবে না?
অভিযোগ ৩ঃ আপনার ছাত্রকে আমি পড়তে বসতে বলতে পারবোনা।
(আমার কথা হচ্ছে) - কেন? আপনার ইজ্জত চলে যাবে? নাকি জিহ্বা খোসে পড়বে? (মুখ ফুটে বলতেও পারিনা, "ভাব মারার আর জায়গা পাননা।")
ঘটনা-৩ঃ বর্তমান সময়ের তথাকথিত আধুনিক মায়েরা বাচ্চাগুলারে ঠিকমত কাঁদতেও দেয়না। আ... বলার আগেই মুখে ফিডার নয়তো হাতে মোবাইল গুজে দেন। ফিডার দেন ঠিক আছে কিন্তু মোবাইল কেন? আপনার শিশু মোবাইলে কার্টুন না দেখানে খাবার খেতে চায়না/খায়না। এই বদভ্যাসের জন্য কে দায়ী?
(আমার কথা হচ্ছে) - আপনি দ্বায়ী, এ দ্বায় কিভাবে এড়িয়ে যাবেন? কিছুকিছু বাপ-মা তো এগুলো নিয়ে রীতিমত গর্ব করে। (যত্তসব!)
মোবাইলের মাধ্যমে শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ রোধে প্রবাসীদের পত্নীরা এগিয়ে। মোটামুটি 12G গতিতে এগিয়ে। এরা যা বোঝে, আমার-আপনার চৌদ্দগুষ্টিও তার এক-তৃতীয়াংশ বোঝেনা।
[কয়টা লিখবো, এগুলা বলতেও এখন ভাল লাগে না। এগুলো আমার গত ১০ বছরের পর্যবেক্ষণ। উদ্দেশ্যমূলকভাবে কিন্তু নয়, পোলাপাইন পড়াইতে গিয়ে দেখেছি]
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১১:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



