somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন আজম খান এবং এ্যাপোলোর হাসপাতালের নির্মম বাণিজ্যিক নীতি

০৯ ই জুন, ২০১১ রাত ১১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্যামেরা বন্দী মানুষ-মানুষ ঢল, মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক কর্মী, দল-মত নির্বিশেষে সবাই ছুটে আসছেন একজন মানুষকে দেখতে। ঠিক পরের দিনের পত্রিকায় এর অনুবাদ ঘটতে দেখেছি।কিন্তু খটকা লেগেছে অ্যাপোলো হাসপাতালের একটি বিজ্ঞাপনে।বিজ্ঞাপনটির মাস্ট-হেড ছিল:

“Touching lives is what we do! Care to join us?” (পৃষ্ঠা ৫, প্রথম আলো, ৬ জুন, ২০১১)

সকলেই ব্যাপারটা সয়ে গেছেন দেখে ভালো লাগলো না। একটা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান যখন কোন দেশে তার উদ্যোগটি পরিচালনা করেন তখন তার দায়বদ্ধতা নয় বরং দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় সে দেশের ভাষা ও কৃষ্টিকে বহন করা। প্রাসঙ্গিক ভাবেই বলা যায়: টেলিনর বা ওরাসকমের মতন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ বিজ্ঞাপনের ভাষা বাংলা। এর মানে কিন্তু এই নয় যে বাংলাদেশের কেউই ইংরেজি জানেন না। অবশ্য আমি যে মোটেই জানি না সেটা আমার বন্ধুরাই বেশ ভালো জানেন, কিন্তু বন্ধুরাই’বা এ ব্যাপারে চুপ থাকেন কি করে সেটা ঠিক বোধগম্য হল না।

দেশের একজন প্রতিথযশা সংগীতশিল্পী যখন মারা গেলেন তখন অ্যাপোলো হাসপাতালের পক্ষ থেকে সমবেদনার ভাষা কই। এ তো এক ধরণের নীতিহীন প্রচারণা দেখা গেল। আমরা সকলেই জানতাম রোগটি দীর্ঘদিনের কিন্তু “ডাক্তার আসিবার পর রোগী মারা গেল, এবং তাহাতেও কাহারো ঠিক প্রত্যয় হইতেছিল না বলিয়া হাসপাতাল-কর্তৃপক্ষের সৌজন্যের এহেন বিচ্যুতি ঘটিল যে মৃতের তরে সমবেদনা দেখাইবার পরিবর্তে তাহাদের ট্রেডমার্ক মার্কা চক্ষু উল্টানোরূপ মার্কেটিংটাই আসল হইয়া গেল! হায়!”

বিশ্বর অন্যান্য দেশের খ্যাতিমান কেউ যখন চিকিৎসার জন্য কোন হাসপাতালে ভর্তি হন তখন লাইভ-আপডেট দিতে দেখা যায় টেলিভিশন চ্যানেলের টিকার গুলোতে। এমনকি প্রেস-ব্রিফিং এ উপস্থিত থাকেন ডাক্তাররা। মৃত্যু ব্যাপারটিকেও মানুষ সাধারণ ভাবেই দেখতে শিখেছে, আর শোককে শক্তিতে রূপান্তরের প্রয়াস নিতে শিখেছে, কিন্তু একটা নিছক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান একজন মুক্তিযোদ্ধাকে যতটা অসম্মান করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করল সে ব্যাপারটা আমাদের প্রচল-ভাবনাবলয়ে বেশ আঁচড় কেটে যাচ্ছে। আসলেই যাচ্ছে কি?

অ্যাপোলো হাসপাতালের বিজ্ঞাপনটি পড়ে ভুলেই যাচ্ছিলাম প্রায়, শুধু ফিলিপ কটলারের উক্তি ঠিক ভুলে যেতে দেয়নি ব্যাপারটাঃ

“ Every business is a service business. Does your service put “a smile” on the customer’s face?”
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ১২:১৪
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এসি ছাড়াই ঘর থাকবে বরফ শীতল: মেনে চলুন বিশেষজ্ঞদের বিশেষ টিপস

লিখেছেন শিমুল মামুন, ২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৬


তীব্র তাপপ্রবাহে (Heatwave) জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন ঘর ঠান্ডা রাখাটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে ঘর শীতল রাখতে যে সবসময় এসির (Air Conditioner) প্রয়োজন হবে, তা নয়। বিশেষজ্ঞরা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

Diplomacy is not tourism

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৫৯


আফ্রিকার পশ্চিম প্রান্তে আটলান্টিকের তীরে সেনেগালের রাজধানী ডাকার। এপ্রিলের শেষে সেখানে বসেছে 'Dakar International Forum on Peace and Security in Africa'-এর দশম আসর। নামটা দীর্ঘ হলেও এবারের হাওয়া বেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার একশততম পোস্ট!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:১৮



আমার একশততম পোস্ট!

আজ আমার লেখকজীবনের এক ছোট্ট কিন্তু হৃদয়ের গভীরে দাগ কাটা দিন- সামহোয়্যারইন ব্লগ এ আমার একশততম পোস্ট। সংখ্যার হিসেবে হয়তো ১০০ খুব বড় কিছু নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভুল শুধু ভুল, আমি কি করছি ভুল?

লিখেছেন রবিন.হুড, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪১

আমি টাকার পিছনে না ছোটার কারনে আমার হাতে যথেষ্ট সময় থাকায় সে সময়টুকু সামাজিক কাজে ব্যয় করার চেষ্টা করছি। আবার বিলাসিতা পরিহার করার কারনে অল্প কিছু টাকা সাশ্রয় করছি যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফুল ট্যাঙ্ক স্বপ্ন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৬



শহরের সকালগুলো এখন আর আগের মতো নয়। সূর্য ওঠার আগেই পেট্রোল পাম্পের সামনে লম্বা লাইন পড়ে যায়। সেই লাইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে রিদম—একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, আর জীবনের বাস্তবতায় আটকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×