কয়েকদিন আগের জনকন্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত "অপরাধীদের সাথে হাত মিলিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ" রিপোর্টটি পড়লাম। সংবাদটি পড়ে মনটা কেমন বেদনাতুর হয়ে উঠল। পত্রিকার অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে এর চেয়ে দু:খজনক বিষয় আর কি হতে পারে। একটি রুগ্ন প্রতিষ্ঠানকে বাঁচানোর জন্য সরকার যাদের পাঠিয়েছে তারা এটাকে বাচাবার চেষ্ট না করে উল্টো অপরাধী, দূর্নীতিবাজদের সঙ্গে আঁতাত করে, তাহলে জাতির দূর্ভাগ্য ছাড়া আর কিছুনা।
আরেকটি সংবাদের কথা না বললেই না পত্রিকা মারফত জানতে পারলাম, প্রধানমন্ত্রী সাড়াদেশে বিভাগীয় পর্যায়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছেন। আমার কাছে এই আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপন বিষয়টিও মনে হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জোট সরকারের সময়ের সেই অপরাধীদের বাঁচানোরই একটি প্রচেষ্টা মাত্র। আমি ব্যক্তিগতভাবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপনের পক্ষে নই। কেননা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে দূর্নীতিমুক্ত করতে বিকেন্দ্রীয়করণের যে কথা বলা হয়েছে, বাস্তবিকপক্ষে আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপন করে বিকেন্দ্রীকরণ করা হলে সাড়াদেশে দূর্নীতি আরো বিস্তৃত হবে। ছাত্র-শিক্ষক-অভিভবকরা হবে আরো হয়রানী শিকার ও সকল কর্মকান্ডে দেখা দেবে দীর্ঘসূত্রিতা। এতে করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আরো জটিলতার মুখে পরবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একদিকে ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে টিকিয়ে রাখতে হলে এর সকল কর্মকান্ত ডিজিটাল করার বিকল্প নেই। তথ্য প্রযুক্তি সমৃদ্ধ একটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ই পারে এ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের মূল লক্ষ্য অর্জন করতে এবং বর্তমান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে যে সমস্যা তার সমাধান করতে।
মহাজোট সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১ বছর পার হয়ে গেল। আশা করে ছিলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপি জোট সরকারের সময় যে সীমাহীন দূর্নীতি হয়েছে এ সরকার তা প্রতিকার করবে। এ পর্যন্ত তার কোন নমুনা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। বরং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে সরকার যাদেরকে বসিয়েছেন, উল্টো তাদের বিরুদ্ধে দূর্নীতিবাজ জামাতিচক্রের সাথে হাত মিলানোর অভিযোগ উঠেছে। যা কয়েকদিন আগে একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। সত্যি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দুর্ভাগ্য। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সীমাহীন দূর্নীতি হয়েছে তার বিচার যদি না হয়, শুধু এই প্রতিষ্ঠানটি নয় সারা দেশ অস্তিত্বের সংকটে পরবে। বিএনপি জোট সরকারের সময়ে যে ব্যাপক দূর্নীতি হয়েছে, তা সেই সময়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছিল। পত্রিকায় যে তথ্যগুলি প্রকাশিত হয়েছে দূর্নীতি বিষয়ে তার অধিকাংশই সত্য যা আমার কাছ থেকে দেখা। এই সরকারের কাছে প্রত্যাশা ছিল যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টি জামাতিকরণ করা হয়েছে, যে দূর্নীতি হয়েছে তার বিচার করা। কিন্তু সব কর্মকান্ড দেখে আমার কাছে মনে হয়েছে, অবৈধ কর্মকান্ডের বিচার না করে পক্ষান্তরে সরকারিভাবেই অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত জামাতিচক্রকে রক্ষার জন্য নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। আমার মনে হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক অফিস এরই একটি অংশ। আঞ্চলিক অফিস যদি করতেই হয়, তার আগে বিএনপি জোট সরকারের সময়ে অবৈধ নিয়োগ ও কর্মকান্ডের বিচার আগে করতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০১০ দুপুর ১২:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


