somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

।। চলে গেলেন এ সময়ের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান লেখক অনিল ঘড়াই।।

২৪ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২২ নভেম্বর ২০১৪, শনিবার রাত সাড়ে বারোটায় কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইহকাল ত্যাগ করেন এই সময়ের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান লেখক অনিল ঘড়াই। দীর্ঘ আট মাস দিন ধরে তিনি কিডনির কঠিন অসুখে ভুগছিলেন ৷‌মৃত্যুকালে এই লেখকের বয়স হয়েছিল মাত্র ৫৭ বছর ৷‌
কথাসাহিত্যিক অনিল ঘড়াই ১৯৫৭ সালের ১ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার এগরা থানার অম্তর্গত রুক্সিণীপুর গ্রামে জন্মগ্রহন কেরন ৷‌ তাঁর শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের অনেকটা সময় কেটেছে নদীয়া জেলার কালীগঞ্জে ৷‌ তিনি পড়াশুনা করেছিলেন টেলি-কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। কৃষ্ণনগর কলেজ থেকে তিনি ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা করেন। মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি চক্রধরপুরে রেলের ইঞ্জিনিয়ার পদে যোগদান করেন। ১৯৮৫ সালে তিনি খড়গপুর রেলবিভাগে বদলি হন। দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়েতে আধিকারিক হিসেবে চাকরি করতেন। চাকরিসূত্রে চক্রধরপুর ও পরে খড়্গপুরে বসবাস করতেন। ১৯৯০ সালে তাঁর প্রথম ছোটগল্প প্রকাশিত হয় `দেশ' পত্রিকায়।
১৯৯৪ সালে তিনি দলিত সাহিত্যের জন্য রাষ্ট্রপতি প্রদত্ত 'সর্বভারতীয় সংস্কৃতি পুরস্কার' লাভ করেন। নদিয়ার রাজোয়াড় বিদ্রোহ নিয়ে তাঁর লেখা উপন্যাস `অনন্ত দ্রাঘিমা' ২০১০ সালে `বঙ্কিম স্মৃতি পুরস্কার' লাভ করে।
তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘নুনবাড়ি’ এবং গল্প-সঙ্কলন ‘কাক’ থেকেই তাঁর স্বাতন্ত্র্য সাহিত্য সৃষ্টির যাত্রা শুরু ৷‌ অনিল ঘড়াই'র সাহিত্যের মূল সম্পদ হল দলিত, নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনচর্যা। তাঁর লেখনির প্রধান বৈশিষ্ট্য হল জীবনের বিস্তৃত পরিসর, মানসিক টানাপোড়েন, জীবনঘনিষ্ট খুঁটিনাটি অনুসঙ্গ। তাঁর রচিত বইয়ের সংখ্যা ষাটেরও বেশি। ঔপন্যাসিক ও গল্পকার পরিচয়ের আড়ালে তিনি ছিলেন আসলে অসাধারণ এক আত্মভোলা কবি। কবিতা ছিল তাঁর প্রথম প্রেম ৷‌ কবিতার জন্য তিনি পেয়েছেন ‘আকাশ সাহিত্য পুরস্কার’ ও ‘কবি নিত্যানন্দ পুরস্কার’৷‌
এছাড়া কথাসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য পেয়েছেন 'সোমেন চন্দ পুরস্কার', 'তারাশঙ্কর পুরস্কার (২০০১)', 'মাইকেল মধুসূদন পুরস্কার (১৯৯৪), 'তিস্তা-তোর্সা সম্মাননা-সহ একাধিক পুরস্কার ও সম্মাননা ৷‌
তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্প-উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ‘পরীযান ও অন্যান্য গল্প’, ‘ভারতবর্ষ’, ‘কামকুঠিয়া’, ‘ফুলপরী’, ‘জন্মদাগ’, ‘নীল দুঃখের ছবি’, ‘সামনে সাগর’, ‘দৌড়বোগাড়ার উপাখ্যান’, ‘বনবাসী’, ‘জার্মানের মা’, ‘লোধগ্রামে সূর্যোদয়’, 'বিপরীত যুদ্ধের মহড়া', 'চৈত্রফুল', 'নুনা সামাদের গল্প', '২৫টি নির্বাচিত গল্প', 'খেলাঘর', 'অন্তজা প্রেমের গল্প', 'বক্ররেখা', 'শ্রেষ্ঠ গল্প', 'স্বপ্নের খোড়াপাখি', 'মিঘ জীবনের তৃষ্ণা', 'কলের পুতুল', '৫১টা গল্প', 'বাবাবাসি', 'জ্ঞানবৃক্ষের ফুল', 'গর্ব দাও', 'আগুন', 'পরাধীন', 'শ্বেতপদ্ম' প্রভৃতি ৷‌ এছাড়া হিন্দী ও ইংরেজি ভাষাতেও তাঁর কয়েকটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। অসুস্থ অবস্থায়ও তিনি সমানে চালিয়ে গেছেন তাঁর সাহিত্যকর্ম। আর ‘তূর্য’ পত্রিকার সম্পাদনাসহ অন্যান্য লেখালেখির কাজ।
মৃত্যুকালে তিনি দুই কন্যা ও স্ত্রী রেখে গেছেন। গতকাল রবিবার নদিয়ার কালীগঞ্জের আদি বাড়িতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। কথাসাহিত্যিক অনিল ঘড়াই'র বাবার নাম অভিমন্যু ঘড়াই আর মাতার নাম তিলোত্তমা ঘড়াই। মানুষের প্রতি আন্তরিক ব্যবহার ছিল কথাসাহিত্যক অনিল ঘড়াই'র চরিত্রের একটি অন্যতম উজ্জ্বল দিক। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য হারালো চলমান সময়ের একজন শক্তিশালী কথাসাহিত্যিককে।
২০১৩ সালে আমার চতুর্থ গল্পগ্রন্থ 'ভূমিপুত্র' প্রকাশিত হয় অন্যপ্রকাশ থেকে। বইটি বাংলা একাডেমি'র অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আসে ২১শে ফ্রেব্রুয়ারি। ২২ তারিখ গল্পকার রাজীব নূর (Rajib Noor) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, বইয়ের কী নাম রাখছেন, রেজা ? বললাম 'ভূমিপুত্র'। রাজীবদা বললেন, রেজা, ওই নামে তো মিলন ভাই'র একটা বই আছে। কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের উপন্যাস 'ভূমিপুত্র'। সম্ভবত ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয়েছে। আমি তো কিছুটা দ্বিধায় পড়ে গেলাম, এখন কী হবে?
যাউকগা!! মিলন ভাইয়ের সাথে দেখা হলে ক্ষমা চেয়ে নেব, এমনটা মনে মনে ভাবলাম। কিন্তু মিলন ভাইকে একথা আজ পর্যন্ত আর জানানো হল না। তাছাড়া মিলন ভাই'রটা উপন্যাস। আমারটা ছোটগল্প। কি আর করা। রাতে বাসায় ফিরে ইন্টারনেটে 'ভূমিপুত্র' লিখে সার্স দিলাম। গুগল মহাশয় তিনটি নাম শো করলো। ইমদাদুল হক মিলন, অনিল ঘড়াই আর রেজা ঘটক। আরো সার্স দিয়ে পেলাম যে, অনিল ঘড়াই'র বইটিও একটি গল্পের বই।
তখন থেকেই একটা চাপা কষ্ট আমাকে পেয়ে বসল। যে করেই হোক অনিল ঘড়াই'র সঙ্গে যোগাযোগ করে দুঃখপ্রকাশ করতে হবে। মনে মনে ভাবলাম, কার কাছে অনিলদা'র ইমেইল অ্যাড্রেস পাওয়া যাবে? টোকন ঠাকুর (Tokon Thaakoor), তপন বাগচী (Tapan Bagchi), জাকির তালুকদার (Zakir Talukder), শামীম রেজা (Shamim Reza), আলফ্রেড খোকন (Alfred Khokon), সায়মন জাকারিয়া (Bhab Nagar)? কিন্তু এদের অনেকের সাথে এরপর দেখা হয়েছে, আড্ডা হয়েছে। কিন্তু অনিলদা'র ইমেইল অ্যাড্রেস চাইতে ভুলে গেছি। আমার ইমেইল অ্যাড্রেস আর নেওয়া হয়নি। দু"খপ্রকাশও করা হয়নি। কাল রাতে জাকির (Zakir Talukder) ভাই'র ফেসবুক স্টাটাস পড়ার পর মনটাই খারাপ হয়ে গেল। পৃথিবীতে কত যে কাজ যে সময় মত মনে পড়ে না। অনিলদা'র সঙ্গে কথা হল না। দেখা হল না। আড্ডা হল না। অথচ মাত্র ৫৭ বছর ২১ দিন কি এমন সময়? এই বয়সে এভাবে চলে যেতে হবে দাদা!!! দাদা, যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন। আপনার আত্মা চির শান্তি পাক, এই কামনা করি...
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:১৪
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার নাফসকে আচ্ছা করে টাইট দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭

মানুষের ভিতরে এমন একটি অংশ আছে, যা মানুষকে খারাপ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে, খারাপ কাজের বুদ্ধি দেয়। ইসলামী পরিভাষায়, আমরা মানুষের এই অংশকে নফস বলি। আপনি খারাপ কাজ থেকে দূরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের পরিবেশ এখন যথেষ্ট ভালো

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫




ব্লগে মাঝে মাঝে কোন লোক থাকে না। মাঝে মাঝে কম লোক থাকে। সাইলেন্স ইজ গোল্ডেন-নিস্তব্ধতা হিরম্ময়।এ অবস্থা বিরাজমান হওয়াতে ব্লগের পরিবেশ এখন যথেষ্ট ভালো। কোখাও কেউ নেই। ব্লগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

না ফেরার দেশে চলে গেলেন রথো রাফি

লিখেছেন ফেনা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৩



আজ অনেক দিন পর ব্লগে আসলাম। আসলে চাকুরী জীবনের প্রেসার সামলাতে সামলাতেই সময় চলে আয়, নেটে আর তেমন আসা হয় না। আজ আসলাম রাফি ভাই এর মৃত্যু সংবাদটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার পোষ্টে ব্লগার অপু তানভীরের এআই আপত্তি এবং এর এআই জবাব

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩০





কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

অপুতারভীরের এআই আপত্তি-
আপনার লেখা সম্পর্কে এআই মূল্যায়ন নিচে দিলামঃ
১. শূন্যতা ও উদ্ভবের ভুল ব্যাখ্যা (Misinterpretation of Void and... ...বাকিটুকু পড়ুন

×