বাংলাদেশে বর্তমানে মোবাইল ফোনে সর্বোচ্চ কলরেট প্রতি মিনিট ২ টাকা। এর সঙ্গে ৩ শতাংশ সম্পূরক, ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং এক শতাংশ সারচার্জ দিতে হতো গ্রাহককে। ফলে ওই এক মিনিটের জন্য একজন গ্রাহকের খরচ হতো ২ টাকা ৩৯ পয়সা। নতুন বাজেটে সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করায় এখন একজন গ্রাহকের খরচ বেড়ে হবে ২ টাকা ৪৪ পয়সা।
সবচেয়ে আশ্চার্যের বিষয়, গতকাল জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে মোবাইল সিম বা রিম কার্ডের মাধ্যমে প্রদত্ত সেবার উপর বিদ্যমান তিন শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করে পাঁচ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন। পুরো জুন মাস নতুন বাজেট নিয়ে সংসদে আলোচনা হবে। অনেক বিষয়ে পরিবর্তনও আসবে। তারপর বাজেট পাস হবে ৩০ জুন ২০১৬ তারিখে। আর তা গ্রাহক বা ভোক্তাদের জন্য কার্যকর হবে ১লা জুলাই ২০১৬ তারিখ থেকে।
কিন্তু মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো আজ শুক্রবার সকাল থেকেই গ্রাহকদের উপর বাড়তি সম্পূরক করের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন। পুরো জুন মাস মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে যে কোটি কোটি টাকা সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর অযুহাতে তুলে নেবে, এটা সম্পূর্ণ অবৈধ। অথচ বাংলাদেশে এই প্রাকটিস বন্ধ করার কেউ নাই।
এর আগে সিগারেট কোম্পানিগুলো বাজেট দেওয়ার এক মাস আগে থেকে গ্রাহকদের পকেট কাটা শুরু করেছে। অথচ নতুন বাজেট কার্যকর হবে ১ জুলাই থেকে। আর বাজেটের সকল পরিবর্তন তখন থেকেই একজন ভোক্তার ভোগ করার কথা। এই যে বাজেট কার্যকর করার আগেই বাংলাদেশে বিভিন্ন পণ্যের নানান কিসিমের দাম বাড়িয়ে ভোক্তা অধিকার ক্ষুন্ন করার লাইসেন্স নিয়েছে একশ্রেণীর ব্যবসায়ীরা, এদের জন্য সরকারের আইন কোথায়? রাষ্ট্র কত কাল এসব অনিয়ম হজম করবে? নাকি নিজেদের দুঃশাসন মোকাবেলা করার জন্য কিছু ব্যবসায়ীদের এভাবে অবৈধ কার্যকলাপ করার অলিখিত অধিকার রাষ্ট্রই দিয়ে রেখেছে? নইলে এর কোনো সুরাহা হয় না কেন?
..........................
৩ জুন ২০১৬
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০১৬ বিকাল ৪:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



