অর্থমন্ত্রী যখন জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন, তখন সাধারণত নতুন অর্থবছরের বাজেটে শুল্কহার পুনর্বিন্যাস করেন। এটি রেওয়াজ। নিয়ম অনুযায়ী, ৩০ জুন জাতীয় সংসদে নতুন বাজেট পাস হয়। আর তা ১ জুলাই নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন থেকেই কার্যকর হয়। এখানে নতুন অর্থবছর শুরু হবে ১ জুলাই ২০১৬ আর তা শেষ হবে ৩০ জুন ২০১৭ তারিখে।
এখন মোবাইল কোম্পানিগুলো এনবিআর-এর প্রজ্ঞাপনের দোহাই তুলে ৩ জুন থেকেই বাজেটে প্রস্তাবিত ২% অতিরিক্ত সম্পূরক শুল্ক গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় শুরু করেছেন। আমার প্রশ্ন হলো- এনবিআর-এর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মোবাইল কোম্পানিগুলো যদি এনবিআর-কে ৩ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আদায়কৃত এই অতিরিক্ত সম্পূরক শুল্ক প্রদানও করে, তাহলে এনবিআর নতুন অর্থবছরে ১ জুলাই ২০১৬ থেকে ৩০ জুন ২০১৭ পর্যন্ত সময়ের সঙ্গে আদায়কৃত এই বাড়তি অর্থ কীভাবে সমন্বয় করবে? ৩ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আদায়কৃত এই অতিরিক্ত শুল্কের টাকা তো ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে (১ জুলাই ২০১৫ থেকে ৩০ জুন ২০১৬) সমন্বয় হবার কথা!
অতএব মোবাইল কোম্পানিগুলো'র এনবিআর-এর প্রজ্ঞাপনের সূত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায়কৃত অতিরিক্ত শুল্কের হিসাব পুরাতন অর্থবছরে সমন্বয় হবার কোনো সুযোগ নাই। গত বছরও বাজেট পেশের পরদিন ৪ জুন ২০১৫ তারিখ থেকেও মোবাইল কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছিল। যা এনবিআর-এর পক্ষে নতুন অর্থবছরে সমন্বয় করার কোনো সুযোগ নাই। এটা মোবাইল কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের কাছে প্রদত্ত সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ব্যাখ্যা। মাঝখান থেকে এনবিআর-এর দোহাই দিয়ে ভুল ব্যাখ্যায় গ্রাহকের পকেটের টাকা কাটছে মোবাইল কোস্পানিগুলো।
৩০ জুন বাজেট পাশ হবার আগ পর্যন্ত অর্থমন্ত্রী'র বাজেটে প্রস্তাবিত সকল কর, ভ্যাট বা সারচার্জ আবারো পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা পুনর্বিন্যাস হবার সুযোগ থাকে। যার সবকিছু পরিবর্তন বা সমন্বয় করে ৩০ জুন বাজেট পাস হয়। জাতীয় সংসদে বাজেট পাসের পরদিন অর্থ্যাৎ ১ জুলাই থেকে নতুন বাজেটের কার্যক্রম বা নির্দেশনা কার্যকর হয়। মোবাইল কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের কাছে প্রদত্ত অতিরিক্ত সম্পূরক শুল্ক আদায়ের ব্যাখ্যাটি সম্পূর্ণ ভুল।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুন, ২০১৬ রাত ১:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



