বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখতে চাই। ডিমএপির কাছে বিশেষ অনুরোধ!!!
রাশিয়ায় চলছে বিশ্বকাপ ফুটবলের একুশতম আসর। বিশ্বকাপ ফুটবলকে বলা হয় 'দ্য বিগেস্ট শো অব দ্য আর্থ'। কিন্তু আমরা বাংলাদেশে বসে কী সেই 'বিগেস্ট শো' খুব একটা এনজয় করতে পারছি? বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় কোথাও দেখে মনে হয় না যে এমন একটা বিগেস্ট শো এখন রাশিয়ায় হচ্ছে।
চার বছর পরপর বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর গোটা দুনিয়ার মানুষকে একটা ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে। যেখানে চিরশত্রু সৌদি আরবের আমীরকে দেখা যায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পাশে বসে খেলা দেখতে। চিরশত্রু ইরানের খেলা দেখে বড় বড় স্কিনে লাখ লাখ মার্কিন জনগণ। কিন্তু আমরা বাংলাদেশীরা কী করছি?
নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে দেশের কোথাও বিশ্বকাপ ফুটবলের সত্যিকারের কোনো উক্তেজনা নাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের টিএসসিতে বড় স্কিন নাই। রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র শাহবাগে কোনো বড় স্কিনে এখনো খেলা দেখা যায় না। ঢাকার কোথাও বড় স্কিন আমার নজরে পড়েনি। আরে ঘরে বসে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখে কী আর 'বিগেস্ট শো'তে জয়েন করা যায় নাকি?
ফুটবল একটা বিশ্বপ্রেমের প্রতীক। এক ফুটবল গোটা বিশ্বের মানুষের হৃদয়কে কতভাবে নাড়া দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে এমনকি সিরিয়ায় যুদ্ধ পর্যন্ত বন্ধ! ভাবা যায়!!!
আমার প্রস্তাব হলো- ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ দায়িত্ব নিয়ে অন্তত রাজধানীর ৫০টি স্পটে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার ব্যবস্থা করুক। খেলা দেখার সময় কি কি সাথে নেয়া যাবে, তা আগেভাগে বলে দেওয়া হোক। কিন্তু ঘরে বসে একা একা বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখে আমি একদম মজা পাইনা। সবাই একসাথে দেখে যে উক্তেজনা, তা একা একা দেখে পাওয়া যায় না।
আমাদের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বিশ্বকাপের সময় থিয়েটার-সিনেমা বাতিল করে, সাংস্কৃতিক অডিটরিয়ামগুলোতে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর উদ্যোগ নিতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বড় পর্দায় সবাই একত্রে খেলা দেখছে। আর আমরা ঘরে বসে একা একা ঝিমাই। এটাকে আমি 'বিগেস্ট শো'তে জয়েন করা বলতে মোটেও রাজি না।
এমনিতে বাংলাদেশের ফুটবলের চরম দুর্দশা চলছে। নতুন প্রজন্ম যদি খেলা না দেখে, তাহলে ফুটবলের প্রতি এদের টান আসবে কীবাবে? ফুটবলের প্রতি মানুষের আকর্ষন বাড়বে কীভাবে? এখনো আমি বিশ্বকাপ ফুটবলের যে উক্তেজনা, তেমন উক্তেজনা অন্য কোনো খেলায় একদম পাই না। ক্রিকেটে এই উক্তেজনার দশভাগের একভাগ আর অলিম্পিকে বিশ ভাগের এক ভাগ পাই। কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবলের উক্তেজনা মানে শরীরে ও মনে আলাদা নাচন লাগে। এটা ভাষায় ব্যাখ্যা করা সম্ভব না।
নিজের দল হারলে মন খারাপ হয়। জিতলে উৎফুল্ল হই। আবার পরের খেলার জন্য অংক কষতে বসি। এই উক্তেজনায় আমি নিজেকে সতেজ রাখতে পছন্দ করি। একটা রাষ্ট্র তখনই উন্নত সংস্কৃতির সাথে একাত্ত হয়, যখন সেই রাষ্ট্র বিশ্বের বড় বড় ইভেন্টের সাথে নিজেদের একত্র করতে পারে। আমাদের সরকার ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এমনসব ইভেন্ট নিয়ে আলাদা কোনো থিংক ট্যাংক নাই। সবাই ব্যস্ত থাকে কেবল টাকা কামানোর ধান্ধায়!
আমি খুব অবাক হচ্ছি এখনো ঢাকায় কোথাও বড় পর্দায় খেলা দেখতে না পেরে। আমাদের মাত্র দুটি টেলিভিশন চ্যানেল, নাগরিক ও মাছরাঙা খেলা দেখাচ্ছে। সারা ঢাকায় অন্তত ৫০টি বড় পর্দায় খোলা জায়গায় খেলা দেখানো হলে, অন্যান্য টেলিভিশন চ্যানেলগুলো মোড়ে মোড়ে গিয়ে বড় পর্দায় খেলা দেখা মানুষদের উক্তেজনা আবার লাইভ করতে পারত। মানুষের ইন্টারভিউ নিয়ে ফুটবলকে মানুষের কাছে আরো বড় শান্তির দূত হিসেবে দেখাতে পারত।
আমাদের সরকার যেমন চলে নিজেদের ইচ্ছা মত, এখানে চ্যানেলগুলো অনেকটা সরকারের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। নিজেদের কিছু করে দেখানোর মত আগ্রহ নাই কেন? চ্যানেলগুলোতে আমার যেসব বন্ধুরা চাকরি করে, তাদের সবার মাথায় কী খালি গোবর আর গোবর!!! কোনো আইডিয়া্ নাই কারো মাথায়!!! মানুষ দেখে শিখে। এরা চাকরি করে এটাই এদের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। চাকর বাকর দিয়ে আইডিয়া হয় না।
ডিএমপি আমাকে ডেকে দায়িত্ব দিক। আমি ফুটবল আর উক্তেজনা দিয়ে সরকারকে একশো কোটি টাকার বিসনেস এনে দেব। অন্তত ডিএমপি নিজেদের ইচ্ছায় ঢাকায় বড় পর্দায় খেলা দেখানোর উদ্যোগ নিক, এটাই আমার প্রত্যাশা।
মোদ্দাকথা, বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখতে চাই। কোথায় কীভাবে দেখব, এটা ডিএমডি, টেলিভিশন চ্যানেল এবং স্পন্সর কোম্পানি মিলে ঠিক করুক। এমন নিস্প্রভভাবে ঘরে বসে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখে সত্যি আমার পোষায় না। আপনার পোষায় কী?
জাগো বাহে, কোনঠে সবাই।
--------------------------------
২১ জুন ২০১৮


সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুন, ২০১৮ রাত ৩:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




