somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঘটকপুরাণ- ২

২৫ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দিনোর মা'র পাঠশালার একটা নিয়ম খুব ভালো। ছুটির সময় সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে পড়া। চিৎকার করে পড়া। সবাই একসাথে কণ্ঠ মিলিয়ে পড়া। এই পদ্ধতিতে পড়লে মনে থাকে ভালো। বাড়িতে এসে আর পড়া লাগে না। আর এই দলবেধে পড়ায় একটা আনন্দ থাকে সবার মনে। কারণ এই পড়া শেষ হলেই ইশকুল ছুটি।

ছুটির আগে উঠোনে আমরা কয়েক সারিতে লাইন করে দাঁড়াই। সাধারণত একজন একেবারে লাইনের সামনে দাঁড়ায়। সে সামনে থেকে এই কোরাস পড়ায় নেতৃত্ব দেয়। একেক জন মাত্র একটি বিষয়ে নেতৃত্বে দেয়। কে কোন বিষয়ে নেতৃত্ব দেবে, এটি দিদিমণি ঠিক করেন। যদি কেউ একের ঘরের নামতায় নেতৃত্ব দেয়, দেখা গেল দুইয়ের ঘরের নামতায় অন্য একজন নেতৃত্ব দিচ্ছে। এভাবে ঘুরে ঘুরে আসে।

এই কোরাস পড়ার সময় সবাইকে একসাথে গলা মেলানোর নিয়ম। কে কোন ক্লাশে পড়ে, তা এখানে বিবেচিত হয় না। সবাইকে সব বিষয়ে গলা মেলাতে হয়। যে নেতৃত্ব দেয়, তার পাশেই দিদিমণি হাতে বেত নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। যদি কেউ ভুল করে, তাহলে সাথে সাথে তার পাছায় বেতের বাড়ি পরে।

পাঠশালায় ভর্তি হবার পর নতুন একটা বিষয় শিখেছি। কেউ কাউকে ডাক দিলে 'আজ্ঞে' বলার নিয়ম। আগে আমরা কী, কেডা, কেন, জি, অ্যা, এসব বলতাম। এখন ইশকুলের সময় আমরা আজ্ঞে বলি। ইশকুলের বাইরে অবশ্য আজ্ঞে বলে একে অপরকে ভেংচি কাটি। 'আজ্ঞে' এখন ইশকুলের বাইরে আমাদের একটা খেলার অংশ হয়ে গেছে। নানান বাহারি সুরে আমরা আজ্ঞে বলতে পারি।

ইশকুল ছুটি হলে আমরা যারা তালপাতার ক্লাশের, তারা সবাই বাড়ির দিকে একটা ভো দৌঁড় লাগাই। তারপর হাঁপাতে হাঁপাতে এ-ওর দিকে তাকিয়ে কয়েকবার নানান সুরে 'আজ্ঞে' বলি। এই নিয়ে পথে কয়েক দফা মারামারি করাটাও আমাদের খেলার অংশ হয়ে গেছে। মারামারি করতে গিয়ে আবার পক্ষ প্রতিপক্ষ হচ্ছে।

মারামারিতে হারু পার্টি আবার পরদিন দিদিমণি'র কাছে নালিশ করার হুমকি দিচ্ছে। এসব করতে করতে যে যার বাড়ির পথে আলাদা হচ্ছি। একেবারে বাড়ির কাছাকাছি এসে দোয়াতের অবশিষ্ট কালি দুই গালে আর প‌্যান্টের পাছায় ঘষে নিচ্ছি। ইশকুলে যে খুব পড়াশুনা করেছি তা প্রমাণ করার জন্য এই একটা কৌশল।

মুখে আর প‌্যান্টের পাছায় কালি মাখাতে পারলে দুইটা লাভ হয়। এক হলো খুব পড়াশুনা করেছি তা প্রমাণ করা যায়। দ্বিতীয়ত এই অছিলায় পুকুরে ইচ্ছামত কিছুক্ষণ সাঁতার কাটার সুযোগ। পুকুরে আবার আমাদের একটা খেলা চলে। মাথা ছোঁয়ার খেলা। একজন মাঝ পুকুরে গিয়ে এক-দুই-তিন বলার পর, তাকে সবাই মিলে ধাওয়া করা। জলের উপরে যে আগে মাথা ছুঁইতে পারবে, সে হবে পরবর্তী নেতা। তখন সবাই আবার তাকে তাড়া করবে।

যে যত ডুবিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে, এই খেলায় সে তত বেশি সময় ধরে নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারে। দেখা গেল চারপাশ থেকে সবাই তাকে ঘিরে ফেলেছে। কিন্তু সে ডুবিয়ে কোনো ফাঁক দিয়ে দূরে গিয়ে আবার জাগলো। এই খেলার সুবিধা হলো গোটা পুকুর জুড়ে আমরা মাতিয়ে বেড়াতে পারি।

আর অসুবিধা হলো, বড়োরা কেউ স্নান করতে আসলেই ঘোলা জলের কারণে আমাদের লিলিপুট ডুবুরিদের বকাঝকা করে। তবে সবচেয়ে বেশি ভয় থাকে বাবাকে নিয়ে। বাবা এসে আমাদের এভাবে দেখলেই সোজা ধাওয়া করেন। সেই ধাওয়ায় যে ধরা পরে তার পাছা লাল হয়ে যায়। সাধারণত গোটা পুকুরের জল ঘোলা হতে আমাদের এই খেলা মিনিমাম আধঘণ্টা চালাতে হয়। আর কোনো কারণে এক ঘণ্টার উপরে এই খেলা হলে পুকুরের জলকে আর জল মনে হয় না। পুরোটা তখন কাদামাটি গোলানো জলকাদায় পরিণত হয়।

যেদিন বাবা বাড়িতে না থাকেন, সেদিন আমাদের এই খেলা চলে কয়েক ঘণ্টা ধরে। এতে সবার ঠোঁঠের উপর প্রলেপ পড়ে একটা আলাদা সেফ তৈরি হয়। আর প্রত্যেকের চোখ হয় কোকিলের চক্ষুর মত লাল। একসময় যখন চোখ পোড়ানো শুরু করে তখন নিজেরাই এই খেলায় আমরা ইতি টানি।
-------------------------চলবে-------------------------
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১১:৫৬
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রুবা আমি তোমাকে ভুলিনি

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:৫৫



আমার বন্ধু রফিকের বিয়ে।
সে সাত বছর পর কুয়েত থেকে এসেছে। বিয়ে করার জন্যই এসেছে। রফিক একদিন আমার বাসায় এসে হাজির। আমি তাকে প্রথমে দেখে চিনতেই পারি নাই।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্যরচনাঃ ক্যামেরা ফেস

লিখেছেন আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ১১ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৮:৫৯


খুব ছোট বেলায় আমাদের শহরে স্টার স্টুডিও নামে ছবি তোলার একটা দোকান ছিল। সেটা পঞ্চাশের দশকের কথা। সে সময় সম্ভবত সেটিই ছিল এই শহরের একমাত্র ছবি তোলার দোকান। আধা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবাসন ব্যাবসায় অশনি সংকেত

লিখেছেন শাহ আজিজ, ১১ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৫:২২




জুলাইয়ের শুরুতে একটি বিজ্ঞাপন দেখা গেল একটি আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের । তারা ৫০ পারসেনট কমে ফ্লাট বিক্রি করছে । মুখ চেপে হাসলাম এত দুঃখের মাঝেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

রৌপ্যময় নভোনীল

লিখেছেন স্বর্ণবন্ধন, ১১ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৯


একটা অদ্ভুত বৃত্তে পাক খাচ্ছে আত্মা মন,
বিশ্বকর্মার হাতুড়ির অগ্ন্যুৎপাতে গড়া ভাস্কর্যের মতো গাড়-
হাড় চামড়ার আবরণ; গোল হয়ে নৃত্যরত সারসের সাথে-
গান গায়; সারসীরা মরেছে বিবর্তনে,
জলাভুমি জলে নীল মার্বেলে সবুজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

""--- ভাগ্য বটে ---

লিখেছেন ফয়াদ খান, ১১ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৪

" ভাগ্য বটে "
আরে! সে কী ভাগ্য আমার
এ যে দেখি মন্ত্রিমশায় !!
তা বলুন দেখি আছেন কেমন
চলছে কেমন ধানায় পানায় ?
কিসের ভয়ে এতো জড়োসড়ো
লুকিয়ে আজি ঘরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×