সিনেমা চলতেছে! চা দোকানে ডুকেই রুটি আর চায়ের জন্য অর্ডার করলাম। কিন্তু বসার কোন জায়গা পাচ্ছিনা। দোকানের একদম উপরের কর্ণারে চৌদ্দ ইঞ্চি টিভি ঝুলানো আছে। সবাই টিভির দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। প্রায় সবার বয়সই চল্লিশের বেশি হবে। আমিও তাকালাম। তাকিয়ে দেখলাম বাংলা ছবির ধর্ষণের একটা সিন চলতেছে।
মাঝ বয়সী একটা গুন্ডা কচি নায়িকার উপরে উঠে পড়ল। উঠেই আচ্ছামত ঘষাঘষি করতে লাগলো আর নায়িকা সজোরে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করতে লাগলো। ইতিমধ্যে জানোয়ার,শয়তান টা নায়িকার ব্লাউজের হাতা ছিড়ে ফেলল। গুন্ডার বাকি চামচা গুলো তাকিয়ে তাকিয়ে লালা ফেলতেছে।
হুট করে উড়াল থেকে ধপাস করে মাটিতে কেউ একজন পড়ল। সম্ভবত ক্যামেরার উপর দিয়ে লাফ মেরে এসেছে। এরপর শুরু হলো গুন্ডার উপর হালাল অত্যাচার। ঢিসুম,ঢিসুম করে কয়েকটা লাথি উষ্ঠা দেয়ার পর গুন্ডা গুলো পালিয়ে গেলো। নায়িকা দৌড়ে এসে লোকটার বুকে মাথা লুকালো। বুঝতে পারলাম লোকটা ছবির নায়ক। নায়িকা নায়কের বুকেত ভেতর আগডুম বাগডুম খেলতেছে,মানে হালাল ধর্ষণ। শুরু হল ঝাকানাকা গান। কোমড় দুলাচ্ছে তো দুলাচ্ছেই থামার কোন লক্ষনই নাই। এদিকে আমিও বসার জায়গা পাচ্ছিনা।
সজোরে বলে উঠলাম " কি বালছাল দেখেন দোকানে বসার জায়গা নেই,এক ঠ্যাং (পা) কবরে চলে যাচ্ছে সে দিকে হুস নাই চা দোকানে বইসা ফালতু ছবি দেখতেছে "
সবাই উঠে গেলো লজ্জা পেয়ে। আমি বসলাম আরাম করে,দুটো রুটি আর একটা চা খেয়ে কোন রকমে বের হয়ে আসলাম।
" নারী নষ্ট পুকুর ঘাটে,পুরুষ নষ্ট চা দোকানে"
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০১৭ রাত ১০:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


