somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাবা!

১৭ ই মে, ২০১৬ রাত ৯:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাঝরাত।ছেলেটা বসে আছে আই সি ইউর বাহিরে,ভেতরে যে লোকটা মরার মত পরে আছে সেই লোকটা তার বাবা।ডাক্তার বলে দিয়েছে ফিরে আসার সম্ভাবনা খুব কম,এই ক্ষেত্রে ফিরে আসে খুব অল্প সংখ্যক মানুষ।সে মরে গেছে বললেই ভালো হয়।দীর্ঘ বিরতি নিয়ে একেকটা নিশ্বাস নেওয়া আর না নেওয়া একি কথা।

বাহিরে বসে ছেলেটা ভাবছে,বাবা চলে গেলে কি হবে এই চিন্তা সে করছে না।ভদ্রলোক ব্যাংক ব্যালান্স করে যেতে পারেননি ঠিক তবে ছেলেকে দাড় করিয়ে গেছেন শক্ত ভীতের ওপর।ভালো চাকরী করে মা আর ছোট বোনকে নিয়ে তার দিন রাজার হালেই কাটার কথা।এসব ভাবছে না ছেলেটা,ছেলেটা ভাবছে ভিন্ন কিছু।

এতো বছর হয়ে গেলো কই কখনও তো বাবাকে কাঁদতে দেখেনি সে,তাহলে কি বাবা পাষাণ?পাষাণ হলে নিশ্চয়ই গভীর মমতায় পরিবারকে আগলে রাখতো না এতো বছর।এইতো সেদিন ইস্কুল থেকে ফিরে রাজ্যের কথা বলতো বাবাকে,হটাত কি যে হল।বাবাটা চোখের সামনে থেকেও হারিয়ে গেলো।সহজ স্বীকারোক্তির মধ্যখানে লজ্জা আর ভয় এসে দাঁড়ালো,শুধু আমার ক্ষেত্রে না আমার ছোট বোনটার ক্ষেত্রেও একি ঘটনা ঘটলো।সে সামান্য কলম থেকে কাপড় পর্যন্ত সবকিছুই খুঁজে ফিরল মার কাছে।

বাবাটা কেমন যেন,অনেকখানি খারাপ আবার অনেকখানি ভালো।পরিক্ষা খারাপ করেছিলাম বলে একবার খুব বকা দিলো,আবার যখন ম্যালেরিয়া বাঁধিয়ে শুয়ে ছিলাম দীর্ঘ একমাস।প্রতি রাতেই আমি ঘুমনোর পর হাত পায়ে চুমো দিত।অনেক ইচ্ছে করতো বলতে "বাবা পায়ে চুমো দিবা না,সুড়সুড়ি লাগে" বলতে পারি নাই।

দাদী মারা যাওয়ায় খুব কষ্ট পেয়েছিলাম আমি,এই কষ্টের মাঝেও আমার মনে বিরাট বাসনা বাবার চোখে পানি দেখবো।দেখতে পারিনি,দাদীর লাশ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল বাবা।বাবার চোখে সানগ্লাস।
ম্যাট্রিক পরিক্ষা যখন শুরু হল,বাবা সাথে যেত।প্রথম পরিক্ষার দিন রিক্সায় হটাত আমার হাতটা নিয়ে নিজের ঘড়িটা পরিয়ে দিল।চোখের পানি লুকিয়ে ছিলাম রাস্তার অন্যপাশে তাকিয়ে।খুব বলতে ইচ্ছে করছিলো "ধন্যবাদ বাবা"।বলতে পারিনি,বেঈমানি করছিলো জিহ্বা।

অগণিত রাত আমি চোখের পানি ফেলে গেছি,একটা প্রশ্ন করবো বলে বাবার পাশে গিয়ে বসেছি নানা অজুহাতে,শেষ পর্যায়ে প্রশ্ন করার সাহস হারিয়ে ফিরে আসতাম।ব্যর্থ সন্তান হওয়ার নমুনা কি এই?

নাহ এবার আমি প্রশ্নটা করবো।বাবা সুস্থ হয়ে উঠলেই প্রশ্নটা করবো।বাবার অনেকগুলো ধন্যবাদ পাওনা,সেগুলো দেবো।বাবুনীকে বলবো বাবাকে নিয়ে লেখা কবিতাটা শোনাতে।আমি কেঁদেছিলাম শুনে,বাবাও কাঁদবে হয়তো।বাবাকে খুশীর খবরটাও দিয়ে দেব।"চাকরী হয়ে গেছে আমার বাবা,যেন তেন চাকরী না।প্রথম শ্রেণীর চাকরী।বেতনও প্রথম শ্রেণীর।প্রতিমাসে তোমার জন্য জুতো কিনবো নতুন নতুন,এক জুতো আর কত"।বাবা কি বুঝবে বুকের মাঝে লুকনো লজ্জা পাওয়া ভালবাসা?

আজানের ধ্বনি কানে আসছে,ভেতর থেকে কেউ একজন বেড়িয়ে আসলো।আমার কাঁধে হাত রেখে বলল "আপনার বাবা মারা গেছে"।কি অদ্ভুত কথা বাবা মারা গেছে।বাবারা আবার মারাও যায়?এই লোক জানে না বাবারা অমর...??

পুত্র বাবাকে কাঁধে নিয়ে হেটে যাচ্ছে আর পুরো পৃথিবী দাঁড়িয়ে গেছে পিতা-পুত্রের ভালোবাসাকে সম্মান করতে

পুনশ্চঃ ছেলেটা অমর বাবার কবরের ফলকে পুরনো সে প্রশ্নটা লিখে দিয়েছিলো।

"এতো বড় হৃদয় নিয়ে কি করে ঘুমাও বাবা?"
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০১৬ রাত ৯:৫৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি আর তুমিঃ ফানা থেকে বাকাঃ জীবনের উপলব্দি সবই তোমার

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:১১


ইশ্‌কে আমি ও তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হওয়া, ফানা-তে অহংকারের বিলয়, এবং বাকা-তে প্রকৃত বোধ নিয়ে কর্মময় জগতে ফিরে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবন বেছে নেয়ার উপলব্দিতে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) পরিবর্তে ইয়াজিদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৯



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×