somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক ভয়ের কাহীনি

১৩ ই অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১২:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কয়েক বছর আগের ঘটনা। তখনও বাংলাদেশে। নতুন দেশে আসার পর আর কাজের ব্যস্ততার কারণে বলতে গেলে ঘটনাটি একেবারে ভুলেই গেছিলাম। তবে কিছুদিন আগে ছোট ভাই দেশ থেকে কল দিয়েছিল। আমার বেলায় যেটা ঘটেছিল ওরও কিছুদিন আগে সেটা ঘটেছে। ভয় পেয়েই আমাকে সে কল দিয়ে জানালো। ঘটনাটি বারেবারে মনে পড়ছে। মূল ঘটনায় চলে যাই।

রাতে হঠাৎ যখন ঘুম ভাঙলো তখন বাজে রাত ২.৩০। ঠিক একই সময় গত কয়েক রাতে ঘুম ভেঙেছে। বুঝলাম না কেনো। তবে গত কয়েকদিন টয়লেট লেগেছিল দেখে ঘুম ভেঙেছিল আজকেতো আর টয়লেট লাগেনি। এমনিতেই ঘুমাতে গিয়েছিলাম ১২টার দিকে। একটা এ্যাকসন সিনেমা দেখছিলাম। ঘুমাতে যাবার আগে মোবাইলে ফেসবুক ইউজ করছিলাম। দু'একজনের স্ট্যাটাসে লাইক দিচ্ছিলাম ও কমেন্ট করছিলাম। কখন যে ঘুমিয়ে গেছি টের পেলাম না।

রাত ২.৩০ এ ঘুম থেকে উঠে কিছুক্ষণ বিছানাতেই ছিলাম। পানি পিপাসা লেগেছিলো দেখে উঠতে হলো। শোবার ঘরে পানির বোতল আর গ্লাস আনতে খেয়াল ছিলনা। ডাইনিং রুমে গেলাম। বারান্দার দরজাটা খোলা ছিলো। বাতাস আসছিলো। বেশ ভালই বাতাস আসছিলো। ঝিরঝির করে আবার বৃষ্টিও হচ্ছিলো। পানি খেয়ে ভাবলাম বারান্দায় গিয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকি। বারান্দার দরজার সাথে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছি। অমনি খেয়াল করলাম বাসার সামনে যে গাছ আছে সেই গাছের নিচে কে যেন দাড়িয়ে আছে। এতো রাতেতো আর বুঝা যায় না স্পষ্টভাবে তবে সেটা সাদা কাপড় পরীহিত একজন দাড়িয়ে আছে সেটা ভালোভাবেই বুঝলাম। আর সে সরাসরি আমার দিকে লক্ষ্য করেই তাকিয়ে আছে। আমি নড়াচড়া করলাম না। তার দিকে তাকিয়ে আছি। এতো রাতে এই বৃষ্টির মধ্যে কে দাঁড়াতে পারে?

কিছুক্ষণ একইভাবে থাকার পর আমি ঘরে ঢুকেে পরলাম। এবার জানালার পর্দা সামান্য সরিয়ে দেখতে থাকলাম। তাকিয়ে দেখি গাছের নীচে কেউ নেই। ৩--৪ সেকেন্ডের জন্য কিভাবে উধাও হয়ে গেলো তা বুঝতে পারলাম না। ভালো করে খেয়াল করলাম। সে কি ওখান থেকে সরে গেলো? ঘরের লাইট এমনিতে বন্ধ ছিল তার ওপর ঠিক ঐ সময়েই ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেলো। মুহুর্তের মধ্যে ঘুটঘুটে অন্ধকার হয়ে গেলো চারদিক। আমি আবারও জানালার পর্দা সরায়ে দেখতে থাকলাম। আমাদের বাসার গেটের আওয়াজ পেলাম। আমাদের বাসার গেটটা যখন খোলা হয় তখন সেটার আওয়াজ আমি বুঝতে পারি। আমি ঠিক স্পষ্ট টের পেলাম গেট খোলার শব্দ। কেমন যেন ভয় ভয় লাগছিল। কি করবো বুঝছিলাম না। দৌড় দিয়ে শোবার ঘরে যাবো নাকি কেউ গেটের ভিতর ঢুকেছে কিনা সেটা দেখবো তা বুঝছিলাম না। গাছের নীচে যাকে দেখলাম সেইবা কই গেলো? নাকি সেই গেট খুলে ভিতরে ঢুকেছে? আসলে ভয় লাগলে তখন মাথার মধ্যে অনেক রকম চিন্তা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খায়।

কোনো কিছু না করে আমি ঘুপটি মেরে ডাইনিং রুমের সোফায় বসে পরলাম। চুপচাপ বসে আছি। ডাইনিং রুমের ওয়ালে বড় একটা দেয়াল ঘড়ি আছে। ঠিক রাত ৩টার সময় জোড়েজোড়ে ঘন্টা বেজে উঠলো। হঠাৎ ঘন্টা বেজে উঠাতে রীতিমতো চমকে উঠলাম। ঠিক ঐ সময়ে রান্নাঘর থেকে কার যেন পায়ের আওয়াজ পেলাম। চুপচাপ পরিবেশে পায়ের আওয়াজ যেমন স্পষ্ট শোনা যায় ঠিক সেরকমভাবে শুনতে পেলাম। সোফা থেকে উঠে গিয়ে দেখবো নাকি জোড়ে চিৎকার দিয়ে বউকে ডাকবো সে রান্না ঘরে কিনা??

আমি খুব ভয় পাচ্ছিলাম। এমনিতেই হরোর মুভি দেখি না ভয় লাগে দেখে তার মধ্যে আবার এসব কি হচ্ছে? হাসির আওয়াজ পাচ্ছি। ওটা যেনোতেনো হাসির আওয়াজ ছিল না। ভয়ে আমার লোম খাড়া হয়ে গেলো। হাসির আওয়াজটাতো আমার পিছনে বারান্দা, সেই বারান্দা থেকেই আসছিল। হিহ হিহ হিহ হিহ করে হাসছিল কে যেনো। সে যদি বারান্দার দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকে পরে!!! ইসস! কি করলাম আমি। দরজাটা বন্ধ করতে খেয়াল ছিল না।

ঐ দিকে রান্না ঘর থেকে যে হাটাহাটির শব্দ পাচ্ছিলাম সেই হাটাহাটির আওয়াজটি এবার উপরতালা থেকে পেলাম। মনে হচ্ছে কে যেনো তড়িঘড়ি করে হাটাহাটি করছে। আমি একেবারেই স্পষ্ট শুনতে পেলাম। এসব আমার কোনোটাই মনের ভুল নয়। আজও ঐ ঘটনা মনে করলে চমকে উঠি। কি হয়েছিল সেই রাতে? আমি ভুলতেই বসেছিলাম ঘটনাটি। ছোট ভাই ফোন দিয়ে ঐ একইরকম কাহীনি বলাতে আবার মনে পড়লো ঘটনাটি।

কিছু রহস্য আছে সেটা রহস্যই থেকে যায়।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১২:৫৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সরকারী অফিসারদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:০০

দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সরকারী অফিসারদের হাত ধরেই হয়। সেজন্যে, এই পদগুলো যোগ্য মানুষদের হাতে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে, গত কয়েক দশকে দেশের টপ ট্যালেন্টদের বেশির ভাগই কোনক্রমেই সরেকারী অফিসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেমোরি লুপ (Memory Loop)

লিখেছেন চারাগাছ, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০৪




মেমোরি লুপ (Memory Loop)

​গভীর রাত। ল্যাবের নিস্তব্ধতা চিরে শুধু ভেসে আসছে মনিটরের নীলচে আলোর মৃদু কম্পন। টেবিলের ওপর ঝুঁকে বসে আছেন ডা. আরিয়ান। স্ক্রিনে ভাসছে তার বহু বছরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×