বাড়ী দক্ষিন কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রে মাইক্রো ক্রেডিট এর উপর পড়াশুনা করতো।
রিসার্সের জন্য বাংলাদেশে এসেছিলো। এই সুত্রেই তার সাথে আমার পরিচয়।
পাঁচ ফুটের মতো উচ্চতা, ফর্সা, আর অনেক ছোট দুটি চোখ ছিলো তার।
৬ দিনের এই পরিচয়ে বেশ জমে উঠেছিলো আমাদের বন্ধুত্ব।
আমি তখন সবে এস.এস.সি পাশ করেছিলাম।
আমার ইংরেজীর দৌড় খুব একটা ভালো না হলেও
তার সাথে কথা আদান প্রদান করতে সমস্যা হয়নি,
কারন তারও ইংরেজীর অবস্থাটা আমারি মতো।
এই ৬ দিনে তাকে প্রত্যন্ত গ্রাম, সাধারন মানুষ, এবং জীবিকা
সম্পর্কে ধারনা দেয়ার জন্য মাঠ-ঘাট, বাজার, গ্রাম সব ঘুড়ে দেখাই।
যা দেখে তাতেই অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।
আর কথায় কথায় ছবি তোলা,
এমনকি গ্রামের সমস্ত নেংটু বাচ্চাদের সাথে গ্রুপ ছবিও তুলেছিলো।
অবশেষে তার চলে যাওয়ার সময় হয়।
যাবার আগে তার ঠিকানা সম্বলিত একটি কার্ড এবং
তার প্রিয় ওয়াকম্যান টি আমাকে দেয়।
তাকে গাড়ী অব্দি এগিয়ে দেবার জন্য সাথে যাই।
সেওয়া হঠাৎ আমাকে প্রচন্ড অবাক করে দিয়ে
ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে বলে ওঠে,
"হামি বাংলা দ্যাছ বালোবাছি"
আমি কিছুই বলিনি।
এরকম অবস্থায় কি বলতে হয় জানা ছিলোনা।
পরবর্তীতে কেয়ার টেকারের কাছ থেকে জানতে পারি,
তার কাছ থেকেই কথাগুলো শিখে নিয়েছিলো সে।
তার দেয়া কার্ডটি হারিয়ে ফেলেছি;
তবে এখোনো আশায় আছি,
একদিন ঠিক খুজে পাবো আমার বৈদেশী বন্ধুকে।
Shahedul Hasan

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

