আমার খালাতো বোনের বান্ধবী ”অয়ন আপু” উচ্চ মাধ্যমিক পরিক্ষার জন্য
প্রায়ই আমাদের বাসায় আসতেন। প্রতিবার আসার সময় আমার জন্য মিমি চকলেট,
চিপস্, গল্পের বই নিয়ে আসতেন।
আমার ডাইনি বোনের বান্ধবী হওয়ার পরও
অয়ন আপু এতো কিউট কিভাবে হলো তা ভেবেই টাসকি খেতাম।
অয়ন আপুর হাসি, কথা বলা আর গিফট্ দেয়া সবকিছু মিলে..
আমি তার প্রেম সাগরে ঝাপ দিয়ে খাবি খেতে থাকলাম।
কল্পনায় আমি আর অয়ন আপু, নায়ক ওমর সানী আর নায়িকা মৌসুমীর মতো
হাত ধরে নাচানাচি করে বেড়াতাম। অবশ্য, অয়ন আপু আমার থেকে
২হাত বেশি লম্বা হওয়ায় নাচানাচিতে কিঞ্চিৎ সমস্যা হতো।
আমার অতি জ্ঞানী এবং ইচড়ে পাকা বন্ধুকে আমার প্রেম রোগের ব্যাপারে জানালে,
সে আমাকে চিঠির মাধ্যমে মনের কথা প্রকাশের পরামর্শ প্রদান করে। আমি তার পরামর্শ অনুযায়ী
একটি ২ পাতার রোমান্টিক চিঠি লিখে অয়ন আপুর ব্যাগে দিয়ে দেই।
২দিন পরের ঘটনা। আমি ক্রিকেট খেলা শেষে বাসায় ফিরে দেখি,
অয়ন আপু আর আমার ডাইনি বোনটা গম্ভীর মুখে আমার ঘরে বসে আসে।
আমার বোনের অগ্নিদৃষ্টি দেখে মনে হচ্ছিলো যেনো, আমি ১টা "কাঁচা আমড়া"
একটু পড়েই আমাকে লবণে মাখিয়ে, চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে।
অতঃপর আমাকে অফিসিয়ালি রিমান্ডে নেয়া হলো।
আমার বোন যখন আমাকে চরম ধমকি ধামকিতে ব্যস্ত তখন
অয়ন আপুকে দেখলাম হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাওয়ার অবস্থা।
যাওয়ার সময় অয়ন আপু আমাকে আর আমার বোনকে,
পরের সপ্তাহে তার বিয়েতে উপস্থিত হওয়ার জন্য দাওয়াত দিয়ে চলে গেলেন।
আমি ছল ছল চোখে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম।
আর এভাবেই আরও ১টি অবুঝ, বাল্য প্রেমের করুন অপমৃত্যু ঘটেছিলো।
Shahedul Hasan

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

