somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

_____তুই তো সেই__

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৫ সকাল ১০:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কলেজ থেকে বাড়িতে আসলাম।এখন
ফ্রেশ হয়ে প্রাইভেট পড়তে যাব।
আজকে একটু তাড়াতাড়িই গেলাম।
স্যার এখনও অাসেন নি।
তো বসে বসে অধরার জন্য
অপেক্ষা করছি। আমার নোটটা ওর
কাছে আছে নিব তাই।
উফপ্ এখনো আসছে না।
কেমনটা লাগে।
.
১ মিনিট...২মিনিট...
৩মিনিট...৪মিনিট...
আবশেষে আসল সে..
.
---কিরে আজ এত
তাড়াতাড়ি আসছিস..??
--হুম। বাট তুই এত লেট করলি ক্যান??
---না.. মানে বাসাই মেহমান
আসছে তো তাই।
--ও হহ্..বাদ দে। নোট কই??
না আনলে কিন্তু খবর আছে।
---ইশশশ্। স্যরি রে। মন নাই। কাল
এনে দিব।
--(রাগী চোখে তাকায়ে অাছি)
---কি এই ভাবে তাকায়ে অাছিস
ক্যান। স্যরিইইই___। বল্লাম তো কাল
সত্যিই এনে দিব।
--বাহ্। থ্যাংক ইয়্যু।
ইচ্ছে করছে তোর
কানের নিচে
দিইই দুইটা চড় লাগায়ে।
গাধি কোথাকার।
---(ইনোসেন্ট একটা স্মাইল)
--ওই শয়তানের মত করে হাসিস
না তো। তোরটা এনেছিস??
---হুম আনছি।
--কই দেখি.... সব করছিস নাকি...।
---এই যে নে..।
-- স্যারের ঝাড়ি আজ একটু খেও বাবু।
নোটটা আমার তরফ
থেকেই স্যারকে দিব....... মু
হা হা হা।
---দেখ প্লিজ দিয়ে দে। স্যার
যেভাবে বকা দেয় বাপরে আমি আজ
পর্যন্ত স্যারের বকা খাই নি। তুই
তো জানিস আমার খুব
কান্না পাই....দে না প্লিজ।
--হুহ্। আমার নোট না আনার সময় তোর
এটা ভাবা উচিত
ছিল। স্যরি।
---এটা কিন্তু ভাল হল না। আমি আজ
পড়বই না। হুহ্..
--স্যার এসে গেছে চল।
---আমি যাব না। তুই যা।
--চল তো বকবক বাদ দে।
.
বলেই আমি রুমে চলে আসলাম,
দেখি অধরাও অাসছে। আমি আর
অধরা এক কলেজে এক সাথেই পড়ি।
মেয়েটি সুন্দর, রাগী আর
সাথে একটু বোকাও।কেন
যে বোঝেনা ওকে আমি ভালবাসি।
আমিও একটা গাধা.... বলতেও
পারি না। কলেজে ওর বান্ধবীদের
চাইতে অামার সাথেই ও বেশি টাইম
স্পেন্ড করে। হয়তো ও আমাকে...
জানি না। কিন্তু ওকে রাগাতে, একটু
হার্ট করতে খুব ভাল
লাগে হয়তো ভালবাসি বলেই।
একট খুব ভাল কাজ করে ও
সেটা হচ্ছে ওর চড়। শুধু অামাকেই
দেয় সেটা।
.
.
---অধরা...
--জ্বি....জ্বি স্যার।
---তোমার নোটটা কই??
--না...(আমার দিকে একবার
তাকালো)..মানে স্যার...আসলে
আমার টা....আ...
---(কথা কেড়ে নিয়ে) শাট আপ......
(আরো অনেক কিছু বলে বকল
মেয়েটাকে, সেই বকা খেল
বেচারী).... বসো (রাগী কন্ঠে)
--(মুখ গোমড়া করে বসে পড়ল)..।
.
.
ওকে দেখে নিজের কাছেই খারাপ
লাগছিল।
ওকে ডাকলাম
----অধরা..অধরা...ওই...
--কি????
বেচারির চোখের
দিকে তাকিয়ে দেখি পানি টলমল
করছে। কিছু আর বলা হল না স্যারের
জন্য।
ভাবলাম প্রাইভেট শেষে স্যরি বলব।
ম্যে বি ও খুব কষ্ট পাইছে।
পড়া শেষ হতেই হনহন
করে চলে যাচ্ছিল। ওর বান্ধবিরাও মুখ
বেকিয়ে চলেগেল। আমি আর
কি করব , এক দৌড়ে ওর
কাছে গিয়ে বল্লাম
----স্যরি রে...।
--ভাল (রাগি কন্ঠে)।
----সত্যিই বুঝতে পারি নিই স্যার
এভাবে বকবে।
--বল্লাম তো ভাল।
----সরি বললাম তো। মাফ
করে দে প্লিইইইজ।
--তোর নোটটা কাল এনে দিবনি।
দেরী হয়ে যাচ্ছে।
.
আমি আর কিছছু বললাম না। বুঝলাম
যে একটু বেশি হয়ে গেছে।
ও চলে গেল। আর
অামি বাড়ি চলে অাসলাম।
৬ টা পার হয়ে গেছে। আজ কেমন যেন
লাগছে।
মেয়েটাকে এভাবে হার্ট করলাম।
.
রাতে খেয়ে দেয়ে শুয়ে পড়লাম।
পরেরদিন একটু অাগেই
কলেজে গেলাম। বন্ধুদের
সাথে অাড্ডা দিচ্ছিলাম।হঠাৎ--
----রোহান...
--আরে অধরা কখন এলি??
----শোন...
--হুম বল।
----এই নে তোর নোট
(নোটটা হাতে ধরিয়ে দিয়েই
চলে যাচ্ছিল)..।
--উফফ্ এখনো রাগ করেই থাকবি?
----(চুপ)
--আচ্ছা কান ধরছি মাফ কর প্লিইইইজ..
----আমার জন্য কাওকে কান
ধরতে হবে না (হনহন করে চলে যাচ্ছে)
--(ওর কাছে গিয়ে পেছন
থেকে হাতটা ধরলাম)
----(হাত ছাড়ানোর অাপ্রান চেষ্টা)
হাত ছাড় বলছি..।
--না। আগে অামাকে বল যে তুই
অামাকে মাফ করছিস তারপর।
----উহ্ লাগছে তো ছাড়।
--না ছাড়বো না।
(আহ্. ..বা হাতের চড় খেলাম। চড়
খেয়েই হাতটা ছেড়ে দিলাম।
চড়টা খেয়ে খুব ভালই লাগছিল। কারন
এরকম চড় প্রায়ই খাই। চড়ের অারেকটাও
মানে অাছে সেটা এই যে, ওর রাগ
হারায়ে গেছে। বাঁচলাম)..... থ্যাংস
রে (একটা হাসির সাথে)..।
----সর
হারামি (একটা ভেংচি দিয়ে)..।
.
কয়েক দিন পর.....বন্ধুদের
কথা মেনে নিয়ে অধরার
কাছে গেলাম..
মনের কথা বলতে। দেখি পড়াই ব্যস্ত....
.
----অধরা...একটা কথা বলব...?
--হুম বল।
----কেমন অাছিস??
--ভাল..।(ভ্রু কুচকে)
----ওহ্। শোন না..
--হুম বাবা বল...।
----না....মা..নে...আই... লাভ্.. ইয়্যু
--কি!!!! দেখ ফাজলামি ভাল
লাগছে না... যাহ্ তো(মুখ কাল করে)..।
----আমি সত্যিই তোকে করি
--(লাজুক লাজুক ভাব নিয়ে) কি??
----লাভ্....
--ভাল (মাথা নিচু করে)..
----তুই??
--হুম...
----শুধু হুম।ভালবাসিস বলবি না??
--হুম ভালবাসিতো..।
----আচছা তুই
কি অামাকে এভাবে 'তুই' বলেই
ডাকবি।
--হুম। তোকে অাবার
কি বলে ডাকবো??
---- জান,সোনা, ডার্লিং. ...(চোখ
ছোট করে)
--ইশশশশ্। সর হারামি।
----উমমম্মাহ্(আবার সেই কিউট 'চড়')
থ্যাংকস রে..।
--(লজ্জাই টমেটো থুক্কু লাল)
.
.
অতঃপর স্যারের অাগমন_____________ ;)
.
.
লিখাঃ রিশান মাহমুদ রোহান
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নীল ড্রামের রহস্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


ঘরটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ক্ষণে ক্ষণে জানালার ওপাশ থেকে আসা দূরপথের সোডিয়াম বাতির একচিলতে আলো এসে পড়ছে ঘরের ভারী বাতাসের ওপর। ঘামের তীব্র গন্ধ আর উন্মুক্ত ত্বকের উত্তাপ ঘরের পরিবেশকে ভারী করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×