somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বইয়ের ফ্রেমে বন্ধী মৌলিক অধিকার ও আমাদের পথশিশুরা !

২৮ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ১২:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গ্রাম থেকে হল এ ফিরছি , জ্যাম এ পড়লাম । বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে গেল । হঠাৎ কানে এলো " চিপস, টাইগার, জুস , ঠাণ্ডা পানি "

প্রতিদিনেই বাসে উঠলে শুনে আসছি হকার দের এইসব চেঁচামেচি । জ্যাম আর গরমে এইসব হকার দের চিল্লানি শুনলে মাঝে মাঝে মেজাজ বিগড়ে যায় , মনে হয় মাইকের আওয়াজ ও এত হয়না।

কিন্তু আজ কি মনে করে তাকালাম হকারটির দিকে ।
মুহূর্তেই দৃষ্টির মধ্যে স্থিরতা আসলো । ১২ কি ১৩ বছর বয়সের রোগা এক বাচ্ছা বাসে বাসে হকারি করে বেড়াচ্ছে । এই বাচ্ছার কাঁধে তো থাকার কথা ছিল স্কুল ব্যাগ ! চিপস আর পানিবর্তি থলে তো শোভা পায়না !

যে সময় এই বাচ্ছার কাঁধে স্কুল ব্যাগ আর বই থাকার কথা ছিল সে সময় তাকে পেটে দু মুঠো খাওয়ার দিতে বাসে বাসে হকারি করে বেড়াতে হচ্ছে ।

মৌলিক অধিকার নিয়ে প্রাইমারী তে পড়েছিলাম , মনে হয় সমাজ বইতে । স্যার এর সাথে মিলিয়ে পড়তাম "মৌলিক অধিকার ৫ টি ,যথা - অন্য , বস্র , বাসস্থান , শিক্ষা ও চিকিৎসা । "
তখন ভাল করে বুঝতামনা মৌলিক অধিকার কি বা বুঝার প্রয়োজন বোধ করিনি ।

বাচ্ছা হকারকে দেখে আজ সেই ৫ টি মৌলিক অধিকারের কথা মনে পড়ল । বইয়ের পাতায় স্থান পেয়েছে আজ সেই ৫ টি মৌলিক অধিকার । স্যার এর মুখে মুখে পড়া আর পরীক্ষার খাতায় লিখার জন্য আমাদের মৌলিক অধিকার ।ইদানিং অবশ্য সমাজ বইতে "নিরাপদ সড়ক চাই " নামে আরও একটি মৌলিক অধিকার সংযুক্ত করা দরকার । পূরণ হোক না হোক মৌলিক অধিকার দাবি করে মনে শান্তি পাবো হয়ত বাকি ৫ টার মত ।
দেশ রক্ষার দাবিতে কেউ করছেন রোড মার্চ , কেউ আবার সংবিধান রচনা নিয়ে ঘুমান না অনেক দিন । তাদের জন্য ঘুম টাও এখন মৌলিক অধিকার । নইলে যে সংবিধান হবে না ।
কই কাউকে তো দেখলাম না এইসব বাচ্ছা হকার আর পথশিশুদের জন্য রোড মার্চ কিংবা আমরণ অন্বেষণ করতে (আমি নিজেও না)।
হয়তবা তারা পথশিশু , কিংবা হকার।আরে আজব দেশ নিয়ে তাদের এত ভাবনা কিসের ?তাহলে সমাজ বইতে ৫ টি মৌলিক অধিকার বাদ দিয়ে "রোড মার্চ আর আমরণ অন্বেষণ" কে যুক্ত করুন ।
ক্যাপিটালিজম আর ক্ষমতার লোভের জিবানু আমাদের এত বেশি অন্ধ করে দিয়েছে পৃথিবীর সব টাকা আর ক্ষমতা আমাদের সামনে দিলেও আমরা ২ বেলা না খেয়ে রাস্তার পাশে বসে থাকা ক্ষুধার্ত ভিখারি মত হয়ে থাকবো।
শিশু স্রম নাকি নিষিদ্ধ , আমাদের পাশের একটা কোম্পানির দেয়ালের পাশেও লিখা আছে বড় করে! ভাল কথা । কিন্তু যেখানে একটা শিশু কিংবা মানুষের ৫ টি অধিকারের একটি পূরণ করতে পারেন নাই তাহলে কার জন্য এই আইন করলেন ?আপনাদের কথায় আপনারা নিজেরাই তো বেইমান হয়ে গেলেন ।
হাজারও পথশিশু আজ নিজের পেট বাচাতে রাস্তার হকার । তাদের কি গুনেছেন কখনো ? নাকি তাদের নিয়ে "steert boy" নামে পেরেগ্রাপ রচনা করে পরীক্ষায় লিখার জন্য রেখেছেন ?

শীত আসলে আমরা কিংবা আপনারা কম্বল এর নিছে আরাম খুজেন, আর কত শিশু ফুটপাথে খালি গায়ে ঘুমায় তার হিসেব কে রাখেন ? দামি ব্লেজার , সুয়েটার পড়েন অথচ এইসব নিস্পাপ শিশুদের একটা জামা কিনে দেওয়ার টাকা নাই আমাদের কাছে । কি দরকার ,? তারা রাস্তার পাশ থেকে কাগজের টুকরো কুড়িয়ে আগুন জ্বালাবে আর শীত নিবারন করবে। আমদের এইসব নিয়ে চিন্তা নাই ।
লেবু বেশি চিপাইলে নাকি তিতা হয়ে যায় ,অনেক চিপাইলাম, আর না।

আসুন আমরা এইসব ফুটপাথের শিশুদের জন্য এগিয়ে আসি । নতুন জামা কিনে দিতে না পারি আমাদের পুরানো অনেক জামা তো আছে তা দিয়ে দি ।
যতটুকু সম্ভব তাদের অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করি মাঝে মাঝে । অনেকের বাসায় ছোট শিশুরা কাজ করে ,কিছু সময় নিয়ে তাদের কে আমরা কিছু শিখাই ।
খুব কি বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে ?

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাননীয় "যদি-কিন্তু" সাহেবের বিদায়ী ভাষণ একটি কাল্পনিক রম্য রচনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯

মাননীয় "যদি-কিন্তু" সাহেবের বিদায়ী ভাষণ
একটি কাল্পনিক রম্য রচনা

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

একদিন সকালবেলা, চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে জাতি খবরের কাগজ খুলে দেখল, দেশের সবচেয়ে বড় পদটির জন্য মনোনীত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"ধর্ষক ও চরিত্রহীনদের বাঁচাতেই কি ওয়াজের মঞ্চ? সাধারণ মানুষকে আর কত অন্ধ বানিয়ে রাখবেন!"

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্ষক ও ব্যভিচারীদের পাপ ঢাকা এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে অন্ধ বানিয়ে রাখার এই ভণ্ডামি আর কতকাল সহ্য করবেন?
পবিত্র ইসলাম আর সাহাবিদের ত্যাগকে কতখানি নামালে এই ভণ্ড মোল্লা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃশব্দ প্রহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



খাস খাতার পাতায় কলম চালাচ্ছিলেন ফরিদা বেগম (৪৫)। রাত তখন সাড়ে সাতটা। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে পাশে বসা ছোট ছেলে সিয়ামকে (৯) বললেন, "হাতের লেখা এত দ্রুত শেষ করলে হবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশিরা কেন বিজেপির পতন চায়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে মনে হয় ভারতের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব বুঝি এদেশের মানুষের ওপর এসে পড়েছে। ভারতে কোথাও একটু আন্দোলন বা উত্তাপ ছড়ালেই এপারে যেন উৎসবের ধুম পড়ে যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রিয়েলিটি আপনারা মাইনে নেন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩০



নরেন্দ্র মোদীকে আপনি যতই অপছন্দ করেন না কেন, তার একটা একটা প্রশংসনীয় গুণ আছে। সে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ নিতে এবং সেই অনুযায়ী নিজের অপছন্দের কাজটা করতেও পিছপা হয় না।
সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×