somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টেলিভিশন নিয়া বিভীষণ খেলতে চাইতাছে

০৩ রা জুন, ২০১৩ বিকাল ৩:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টেলিভিশন নিয়া বিভীষণ খেলতে চাইতাছে
টেলিভিশন পেশাজীবী ঐক্য পরিষদ ‘টিভি বাঁচাও-অনুষ্ঠান বাঁচাও’ আহ্বান জানিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেখানে উপস্থিত নামগুলো দেশের প্রখ্যাত অভিনেতা-অভিনেত্রী, প্রযোজক এবং নিমার্তারাদের। তারা টিভি ও অনুষ্ঠান বাঁচাতে কয়েকটি প্রস্তাবনা রেখেছেন। বেশ আগ্রহ নিয়ে সংবাদটি পড়তে গিয়ে যেটা দেখলাম, তা হলো সেই সমাবেশে কোনো টেলিভিশনের কর্মীদের নাম নেই। এটা যদি টেলিভিশন পেশাজীবী পরিষদ হয়ে থাকে তবে তো তাদের অংশগ্রহণ থাকা আবশ্যক ছিল। এই না থাকার অর্থ কি? যারা এই সমাবেশের আয়োজক তারা কি তবে টেলিভিশনে কর্মরতদেরকে তাদের সহযোগি ভাবেন না? এমন প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবে উঠে আসে। যদি না ভেবে থাকেন তবে তা স্পষ্ট হওয়া দরকার। আর এত বৃহৎ একটা অংশকে বাদ দিয়ে কিভাবে আন্দোলন এগিয়ে যাবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়; সংশয় দেখা দেয় যখন দেখি মালিক-শ্রমিকের ঐকের কথা বলা হয়। যারা প্রযোজক বা পরিচালক তাদের সাথে কিভাবে শিল্পী বা কলাকুশলীদের ঐক্য গড়ে উঠতে পারে? তারা তো প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে নিজের দিকে ঝোলা টানতে ব্যস্ত। কি করে শিল্পীর পারিশ্রমিক কম দেয়া যায় বা ক্যামেরাম্যানের টাকাটা না দিয়ে পারা যায় এই ভাবতেই ব্যস্ত! এদের প্রত্যেককে যদি অভিযোগ জানাতে বলা হয় তবে দেখা যাবে, টেকনিক্যাল ক্রুরা পরিচালকের বিরুদ্ধেই অভিযোগ দাখিল করবে? শিল্পীরা প্রযোজকের বিরুদ্ধেই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ দাখিল করবে? আর এভাবে একসময় দায়টা এসে পড়বে টেলিভিশনের উপর যে, তারা অর্থ না দেয়াই এই অনাসৃষ্টি। কিন্তু সবাংর্শে কি এটি সত্য? এমন অনেক কাহিনীই শোনা যায় যে, নির্মাতা টেলিভিশনের টাকা নিয়ে ভেগে গেছে, বা অনুষ্ঠান নির্দিষ্ট সময়ে সরবরাহ করতে গড়িমসি করছে কিংবা টাকা পাওয়ার পরও কলাকুশলীদের বলে যে টাকা পাই নি বলে তোমাদের টাকা দিতে পারছি না।
আপনারা বলছেন, সব কটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠান বিভাগকে দক্ষ ও মেধাসম্পন্ন ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালনার নিশ্চয়তা বিধান করতে। তার অর্থ দাঁড়ায় যে, প্রত্যেকটি টিভি কিছু অদক্ষ, মেধাহীনদের দিয়ে এত ব্যাপক কর্মযজ্ঞ এতকাল পরিচালনা করে আসছে! এবং তাদের সাথেই এই আপনারা অনুষ্ঠান বা নাটক নিয়ে কথা বলছেন, তাদের মতামত শুনছেন এবঙ কার্যনির্বাহ করছেন। এর চেয়ে আসলে বড় দুভার্গ্য আর কি হতে পারে টেলিভিশনের দর্শকদের জন্য? টেলিভিশন আপনাদের পরিপূরক সংস্থা। তাকে বা তার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছোট করে নিশ্চয় শুভ কোনো ফল আশা করা যায় না। আপনারা আরো অভিযোগ করেছেন যে, টেলিভিশন অনুষ্ঠান ক্রয়ে দুর্নীতি বন্ধ করতে? যেহেতু কোনো টিভির নাম উল্লেখ করেন নি সেহেতু ধরে নিতে হবে যে, সব টিভিই দৃর্নীতিযুক্ত। তার মানে দাঁড়াল, আপনারা নিম্নমানের অনুষ্ঠান নির্মাণ করে টিভির কর্তাব্যক্তিদেরকে ঘুষ দিয়ে অনুষ্ঠানটি প্রচারের ব্যবস্থা করেন, এই তো? যদি মানসম্পন্ন অনুষ্ঠান নির্মাণ করে থাকেন তবে তো দুর্নীতির আশ্রয় নিতে হয় না। এক টিভি প্রচার না করলে অন্য টিভির দরজা তো খোলাই রয়েছে, তাই না। আর যদি সব টিভিতেই একই দুর্নীতি চলে তবে তখন তো তাকে আর দুর্নীতি বলা যাবে না, নীতিই বলতে হবে। তবে কিছু দাবীর প্রতি মনে হয় আমরা সকলেই একমত হবো যে, বিদেশি চ্যানেল থেকে দর্শকদের ফিরিয়ে আনা এবং এর জন্য ভালো মানের অনুষ্ঠান তৈরির ওপর জোর দেয়া; বেসরকারি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান ক্রয়ের ওপর আরোপিত শতকরা ১০ ভাগ হারে অগ্রিম আয়কর কর্তন বাদ দেওয়া, দক্ষ ও মেধাসম্পন্ন টেলিভিশন কর্মী, নির্মাতা, শিল্পী, কলাকুশলী তৈরির জন্য অবিলম্বে ‘টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ চালু করা ইত্যাদি। কিন্তু দুর্ভাগ্য যেন আমাদের পিছু ছাড়ে না। সংশয় ঘোচে না। কেননা অতীতে দেখা গেছে এইরকম সংগঠন তৈরি করে কর্তাব্যক্তিরা বিভিন্ন টিভিতে তাদের আর্থিক সুযোগ সুবিধা (দু/তিনটা সিরিয়াল প্রচারের প্রতিশ্রুতি, পাওনা টাকা পরিশোধ) আদায় করে নিয়ে আন্দোলনটিকে ধ্বংস করে দিতে। এবারও কি তাই ঘটবে? আর আমরা যারা দর্শক তারা কি এভাবেই বঞ্চিত হতে থাকব ভালো অনুষ্ঠান দেখা থেকে?
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেটিকুলাস ডিজাইনের নিজেরা নিজেরা নির্বাচন

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:৩৬

বাংলাদেশের জামাতের সমর্থন কতটুকু?
এযাবৎ পাকিস্তান আমল থেকে ৭৫ বছরের ইতিহাসেএ দেশে বর্তমানে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে কোন নির্বাচনে জামাত ৪ - ৫% এর বেশি ভোট পায়নি।
২০০৮ এর ফটো আইডি ভিত্তিক ভোটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

******মায়ের শ্রেষ্ঠ স্মৃতি******

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:১৫


মায়ের স্মৃতি কোনো পুরোনো আলমারির তাকে
ভাঁজ করে রাখা শাড়ির গন্ধ নয়
কোনো বিবর্ণ ছবির ফ্রেমে আটকে থাকা
নিস্তব্ধ হাসিও নয়
সে থাকে নিঃশব্দ এক অনুভবে।

অসুস্থ রাতের জ্বরজ্বালা কপালে
যখন আগুনের ঢেউ খেলে
একটি শীতল... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন ভোরের প্রত্যাশা; উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে জাতীয় নির্বাচন

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৩৩

নতুন ভোরের প্রত্যাশা; উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে জাতীয় নির্বাচন

ছবি সংগৃহিত।

টানা ১৮ বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পাতানো নির্বাচনের পর আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ফ্যাসিবাদের পতনের পরে এটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাতানো নির্বাচনে বিএনপিকে কিভাবে ক্ষমতায় বসানো হল-(৩) অথচ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনের পর চাওয়া ছিল একটি সুষ্ঠ নির্বাচন।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৫




এনসিপির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী (নোয়াখালী ৬ হাতিয়া) জনাব হান্নান মাসুদের স্ত্রী'র উপর বিএনপির সন্ত্রাসীদের হামলা। ভোট কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার সময় তার উপর লোহার রড দিয়ে আক্রমণ করা হয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণ এবার কোন দলকে ভোট দিতে পারে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৬


আজ বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। সকাল সাতটা থেকেই মানুষ ভোট দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বিএনপি জোট বনাম এগারো দলীয় জোট (এনসিপি ও জামায়াত)। নির্বাচনের পরপরই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×