somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুমনের ভালোবাসা

১৩ ই জুন, ২০১৪ রাত ৯:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“সুমনের ভালোবাসা”
By….নিশীথের নিশাকর


অপরাহ্ণের ক্লান্ত রোদে নদীর কিনারায় উদাস মনে বসে আছে সুমন।একটু পর পর পানিতে ঢিল দিচ্ছে আর দু’নয়নে অশ্রু ঝরাচ্ছে।প্রত্যেকের জীবনে কিছু না কিছু কষ্ট থাকে যার কারনে মানুষ এক সময় কেদে হালকা হয়।সুমন কখনো কারো সামনে কাঁদে না, কারন অনেকেই কষ্টের কথা অন্যকে বলে- একটু সান্ত্বনা, ভালোবাসা ও সহানুভূতি পাওয়ার প্রত্যাশায়।কিন্তু সত্যি তাদের মধ্যে কতো জন কষ্টে থাকে, তা বোঝা মুশকিল।
গোধূলির ক্ষণে একলা বসে সুমন কখনো ঢিল ছুরে, কখনো আকাশের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।ভাবছে-কোন ভুলে আজ সে এতটা একা?সবাই যখন এতো আনন্দে, তখন কেন তার মুখে হাসি নেই?বার বার কোথায় জেনো হাড়িয়ে যাচ্ছে..................।।হাড়িয়ে যাচ্ছে ঠিকি কিন্তু খুজে নেওয়ার কোন আগ্রহ নেই তার।আজ জীবন জেনো বিষাদময় হয়ে উঠেছে।সময়ের সামনে থমকে দাড়িয়ে নিরুপায় হয়ে পরাজিতের কাতারে স্থান নিয়েছে।একেই বলে জামাতের সহিত কষ্ট পাওয়া।যাক গে যা বলছিলাম......।।



পানিতে ঢিল দিয়ে বলছে (নদীকে উদ্দেশ্য করে)—কি খুব হাসছও মনে হচ্ছে?কারো কষ্ট দেখে হাসতে হয় না, তাতে তার কষ্ট আরও বৃদ্ধি পায়, বুঝেছ!!!
ওহ তুমি তো নদী, কথা বলবে কেমনে?ঠিক আছে, তোমাকে বলতে হবে না, আমিই বলছি।দুই বছর আগে একটা মেয়ের সাথে আমার প্রেম হয়, সে অনেক ভালো মেয়ে।এই যে তোমাকে বলছি, কারন তার নামও নদী।তুমি বয়ে চলেছ সাগরের খোঁজে আর সেও অনেক ভাবে খুঁজে চলেছে আমাকে।তুমি সাগরকে যত ভালোবাসো তার থেকেও মেয়েটা বেশি ভালবাসে আমাকে।তার সাথে স্বপ্নে দেখা হয়েছে কতো।তুমি জানো ভালোবাসা কি?সে আমাকে শিখিয়েছে।ভালোবাসা হল এক পবিত্র বন্ধন, যার ভিতর সব কিছু প্রচুর পরিমাণে থাকে।কষ্ট হোক আর সুখ হোক।ও বলেছে ভালোবাসার রাস্তাটা অনেক কঠিন, অনেকটা বরফের পাহাড়ে খালি পায়ে হাটার মত।আবার এটাও বলেছে আমাদের মিলনে অনেক বাঁধা, ঝড় আসতে পারে, আর আমি জেনো সেদিন তাকে সঙ্গে নিয়ে শত বাঁধা পেড়িয়ে নতুন করে জীবন শুরু করি।এভাবে শত পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে কেটে গেলো একটা বছর।
অন্ধকার নেমে আসছে আমি যাই.........বলে, সুমন উঠে দাঁড়ালো, কি জেনো ভেবে আবার বসলো...।না থাক বলেই যাই।



জানো আমরা দুজনেই বাস্তবতায় বিশ্বাসী।আমাদের মাঝে নেকামি ছিল না।ঐ যে জানু, বাচ্চাটা ও সব ছাড়াই প্রেম।আমি নদীকে অন্ধের মত বিশ্বাস এবং ভালবাসি।তাই খুব অল্প সময়ে আমরা অনেক গভীর ভাবে দুজনাতে মিলে যাই।আমার মনে হয় তেইশটি বসন্ত পার করেছি যার অপেক্ষায়, সেই হল নদী।কি ভাবছ সে আমায় ভালবাসে কি না?, সেও ভালবাসে আমারি মত করে।হয়তো একটু বেশি।জানো, তখন ভাবতাম জীবন কেন এতো সীমিত?আমার যে নদীর সাথে থাকতে মন চায় হাজার হাজার বছর।জানো মরার কথা ভাবতেই চাইতাম না।মৃত্যুকে বাদ দিয়ে জীবন ভাবতাম।অসম্ভব আর ভয়ংকর এক অনুভুতি।
কেউ না জানুক, তুমিতো জানো প্রেমে পড়লে বেঁচে থাকা কত প্রয়োজন।তুমিতো সাগরের অপেক্ষায় হাজার বছর ধরে ছুটে চলেছ।এই, মোহনায় তোমার আর সাগরের সন্ধির সময় কি রকম লাগে?আচ্ছা না বল নাই, আরে তোমার দেখি লজ্জাও আছে।হে হে হে লজ্জা পেলে তোমাকে তো অনেক সুন্দর লাগে।ওকে, ওকে আমার কথাই বলছি......
অন্যের কোন কিছুর উপর আমার তেমন লোভ নেই, কিন্তু সত্যি বলছি---নদীর ভালবাসার লোভ আমি সামলাতে পারছি না।আজ মনে হচ্ছে পৃথিবীতে যদি কেউ লোভীদের প্রতিযোগিতা করে, তাহলে প্রথম পুরুস্কার আমিই পাবো।গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি।
কি সন্দেহ আছে, ধরবা বাজী?জানি ধরবে না।




আচ্ছা আমাকে দেখে কি তোমার পাগল মনে হয়?আমি মানুষ হয়ে তোমার সাথে কথা বলছি।না, আমি পাগল না।আসলে আজ আমার আর কোন ঠিকানা নেই, যেখানে আমি যাইতে পারি, এমন কেউ নেই যার কাছে সান্ত্বনা পেতে পারি।জীবন যুদ্ধে হেরে আজ তোমার সামনে দারিয়েছি।দিবে একটু আশ্রয়, তোমার কোলে?আমি মুক্তি চাই এই জগত থেকে আমি তোমার মতো করে বাঁচতে চাই, যে জীবনে পাওয়াটা অনেক দূরে হলেও হারানোর ভয় নেই।কি দেবে না?আমি ছুটতে চাই অবিরাম ভাবে।থেমে থাকা জীবন থেকে মুক্তি চাই।


সুমন একা একা কথাগুলো বলছে আর কাঁদছে।কি আশ্চর্য চিৎকার করে কাঁদতেও পাচ্ছে না।নিঃশব্দে আঁখি জলে ভেসে যাচ্ছে তার দুটি গাল।চোখের পানি মুছতে মুছতে বলল—কি ভাবছ, এতো প্রেম পাওয়ার পরেও কেন আমি কাঁদছি?শেষে এসে কেন সব উল্টো বলছি, তাই তো?এতো সময় যে সম্পর্কের বর্ণনা দিলাম, সেই সুমন আমিই আর আজ ভাগ্য আমাকে এমন পর্যায় এনে দাঁর করিয়েছে যে, আমি অপেক্ষায় আছি মৃত্যুর।এখন মৃত্যু আমার কাম্য।ভাবতে পারও মানুষ কখন এই সুন্দর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে, যমরাজের জন্য অপেক্ষা করে?আমি বুঝতে পাচ্ছি।

জানো যার জন্য আমার বেঁচে থাকা।যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি রোজ।যাকে এত্ত, এত্ত ভালবাসি, যে আমাকে ভুলবে না বলে প্রতিজ্ঞা করেছে।আজ তার বিয়ে।আজ আমার ভালবাসার শেষ দিন, আজ আমার খুব কষ্টের দিন।আজ একটা নতুন সম্পর্কের শুরু হচ্ছে।চারিদিকে সবাই যাকে নিয়ে ব্যস্ত, সে আমার চোখের আলো।সে আমার জীবনে অন্ধের যষ্টি।তাকে একটু বোঝাও, অট্টালিকায় যে সুখ পাবে তার থেকে বেশি সুখ আমি তাকে দিবো।তার কোন চাওয়া অপূর্ণ রাখবো না।
একবার তো বলে যাক, কি দোষ করেছি আমি।কোন ভুলের শাস্তি আমায় দিচ্ছে?




না থাক তোমাকে বলতে হবে না, আমিই বলেছি।
নদীর সাথে শেষ কথা বলার সময় জিজ্ঞেস করেছি কেন এই বিচ্ছেদ?সে বলেছে—সুমন তুমি বড্ড ছেলে মানুষ।তুমি অনেক ভালো ছেলে কিন্তু ভার্চুয়াল লাইফে।তোমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা যায় সংসার নয়।কান খুলে শুনো...রিয়াল লাইফে তোমাকে আমার কোন দরকার নেই।ভালো থেকো...............।
সুমনঃ এই নদী, এই ভার্চুয়াল লাইফ কি?বলে যাও।আমার একটাই লাইফ আর সেই লাইফে তোমাকে ভালবেসেছি।প্লিজ বলে যাও, তুমি মিথ্যে কথা বলছো।এ তোমার মনের কথা নয়।



আমার শত কান্না আর আকুলতা নদীকে ফেরাতে পারেনি।ততোক্ষণে কষ্টের শিকলে বেঁধে নিয়েছে আমার দুটি পা।আমি হতবাক আর অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি।কিন্তু নদী একবারের জন্য ফিরে দেখল না।সে চলেছে তার নতুন ঠিকানায়।সুখি হওয়ার অভিপ্রায়।আমিও চাই সুখে থাক সে।


হালকা বাতাস বইছে আর তার সাথে দূর থেকে ভেসে আসছে পরিচিত এক গানের সুর......।
“জানি তুমি আসবে না ফিরে।
বাসবে না ভালো আমাকে ।।
জানি তুমি ভেঙ্গেছো হৃদয়......সেই আশাতে দুঃখ যে পেলাম।
এ হৃদয়ে...এতো কাছে...ছিলে তুমি-মনে কি পরে?”




বিঃ দ্রঃ জীবনে নদীরা আসবেই এটা সত্যি কিন্তু চলে যাওয়াটা চরম সত্যি।আসার কারন লাগে কিন্তু যাওয়ার কারন লাগে না।কিছু নদী চলে যায় নিঃশব্দে।আশা-যাওয়ার দুনিয়ায় জীবন থেকে অনেক কিছুই চলে যায়, এক সময় আমরা তা মেনেও নেই কিন্তু যদি ভালোবাসা জীবনে এসে অল্প কিছু দিন আমাদের সাথে থেকে চলে যায় তাহলে বাঁচাটাই মুশকিল হয়ে যায়।............।চলে যাওয়ার সময় অনেকেই বলে ভালো থেকো...কিন্তু একটা মেয়ে যখন একটা ছেলেকে বলে তখন তার অর্থটা কঠিন হয়ে যায়।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×