somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তুমি আছো বলে

১৪ ই জুলাই, ২০১৪ সকাল ৯:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

—হা, সুমা বল?
—তুমি ব্যস্ত?
—হুম, জরুরী কিছু থাকলে বল।
—আমি কল দিলেই তুমি বিজি হয়ে যাও, না কি?
—বল কি, এখন তিনটা বাজে এর মধ্যে দশবার কল দিয়েছো।কাজ করবো না?
—দশবারই তো দিয়েছি, হাজার বার তো দেইনি।
—আচ্ছা, কাল এক হাজার বার কল দিয়ো।এখন বল কেন কল দিয়েছো?
—রাতে কি রান্না করবো?ফ্রিজ তো খালি হয়ে আছে।
—উফফ, তোমার যা ভালো লাগে তাই রান্না কর।
—আচ্ছা, গরুর গোস্ত রাঁধি তোমার প্রিয় খাবার  ।শোন আজ একটু আগেই এসো।
—আচ্ছা তাই কর।ঠিক আছে আমি চেষ্টা করবো।এখন রাখি, সমস্যা মনে হলে কল দিয়ো।

ফোন টেবিলে রেখে জুয়েল আবার কাজে মন দিলো, তার এক সহকর্মী এসে বলল—ভাই কে, ভাবি?
জুয়েল একটু হাসি দিয়ে বলল—হা, একদম পাগল মেয়ে।একটু পর পর কল করে।
—আমি তো দেখি ফ্রি হলে, আপনিও কল দেন।
জুয়েল লজ্জায় মাথা নিচু করে বলল—আসলে বাসায় সুমা একা তো, তাই একটু চিন্তা হয়।ওকে তো ঠিকমত সময় দিতে পারি না।
—ভাই, সত্যি ভাবি খুব ভাগ্যবতী।তাই আপনার মত একজন স্বামী পেয়েছে।
—হা হা হা হা তাই, ওকে জহির ভাই একটু কাজ করবো।
—ওকে ভাই কাজ করেন।

খুব চেষ্টা নিয়ে হাতের কাজ শেষ করে বসের কাছে গেলো ছুটি নিতে কিন্তু বস একটা ফাইল ধরিয়ে বলল—প্লীজ জুয়েল এই রিপোর্ট টা দিয়ে যাও, নইলে খুব সমস্যায় পরে যাবো।
বস জুয়েলকে খুব ভালোবাসে তাছাড়া বসের কথা অমান্য করাও জুয়েলের সাঁজে না।তবুও স্ত্রীর কথা ভেবে আবার দৌড় দিয়ে তার রুমে বসে খুব তাড়াতাড়ি রিপোর্ট করলো।কিন্ত ততক্ষণে অফিসের প্রায় সবাই চলে গেছে, মানে আজকেও জুয়েলের বাসা যেতে লেট।কাজের দিকে জুয়েল একটু অন্য রকম, ইনকমপ্লিট কাজ তার দারা হয় না।কিন্তু সুমাকে কি বলবে?সুমা তো তার কথাই শুনবে না।

খুব তাড়াতাড়ি অফিস থেকে নিচে নেমে অটো ধরে রওনা হল বাসার উদ্দেশ্যে।কিন্তু রাস্তায় প্রচন্ড জ্যাম, জুয়েল ভাবছে হায়রে জ্যাম তুই জালিয়ে মারছিস কিন্তু বউয়ে বিশ্বাস করে না।মন চাচ্ছে গাড়ি থেকে নেমে দৌড় দিয়ে বাসায় যেতে কিন্তু সেতো অনেক দূরের পথ।

অবশেষে জুয়েল বাসা পৌছালো রাত দশটায়।দরজায় দাড়িয়ে কলিং বেলের সুইচ দেখছে আর ঘড়ির দিকে দেখছে।নিশ্চিত মোবাইল বন্ধ দেখে বসে কাঁদছে মেয়েটা।এখন কি করবে, মোবাইল অন করে কল দিলো।সুমা কল না ধরে দরজা খুলে দিয়ে অন্য রুমে গেলো।

জুয়েল ব্যাগটা রেখে সুমার সামনে গিয়ে, কানে ধরে বলছে—সরি, সরি ভুল হয়ে গেছে।শেষ বারের মত ক্ষমা করে দাও।
সুমা জুয়েলকে কানে ধরে থাকতে দেখে হেসে বলছে—হয়েছে ফ্রেশ হয়ে এসো, আমি খাবার রেডি করতেছি।
জুয়েল চরম শান্তি পেল তার হাসিভরা মুখটা দেখে।তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে টেবিলে বসে দুজনে গল্প করতে করতে খাওয়া শেষ করল।

জুয়েল ও সুমাইয়া ছাঁদে দাড়িয়ে ঐ দূর আকাশের বুকে জেগে উঠা চাঁদটাকে দেখছে।
সুমাইয়া জুয়েলের হাত শক্ত করে ধরে বলছে—তোমার মনে আছে আজকের কথা?
—হুম মনে আছে।আজ থেকে চার বছর আগে তোমাদের বাসার ছাঁদে তোমাকে বলেছিলাম, আমি তোমাকে ভালবাসি সুমা।
—উহু, তোমার মনে নেই।তুমি বাসা এসে বুঝে গেছো।
—হা হা হা হা আচ্ছা আমি তোমার সাজুগুজু দেখে বুঝেছি।ঠিক আছে।
—শয়তান একটা কথাও মনে রাখতে পারো না।(হাত দিয়ে মারছে আর বলছে)
—পারলেও মনে রাখবো না।
—কেন?
—যদি সব মনে রাখি তাহলে তোমার মাইর মিস করবো যে।আই লাভ ইউ সুমা।
—আই লাভ ইউ ঠু মনি।

জুয়েল প্রায়ই অফিসের কাজে দেরি করে।এসেই দরজার এপাশে দাড়িয়ে ভাবে দরজা খোলে না কেন আর ওপাশে সুমাইয়া ভাবে জুয়েল এখনো আসছে না কেন।দুজন দুজনকে পাওয়ার চরম এক অনুভূতি ভুলিয়ে দেয় সারাদিনের ক্লান্তিগুলোকে।নিশীথের রাজ্যে রাজকীয় ভাবে কেটে যায় তাদের জীবন।



লিখাঃ নিশীথের নিশাকর

২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×