somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মন্দ দুর বটিকা !!

১৬ ই অক্টোবর, ২০১৪ রাত ১১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২০০৬ অথবা ২০০৭ সালের দিকের ঘটনা ; একদিন এক বন্ধু ফোন দিয়ে বলল -সে দুইটা টিকেট কিনেছে তাই ওর সাথে বিকেলে শিল্পকলা একাডেমিতে মঞ্চ নাটক দেখতে যেতে হবে ।
পূর্বে আমি কখনো মঞ্চ নাটক দেখিনি , দেখার প্রতি কোন আগ্রহ নাই । আর কিশোর বয়সে মঞ্চ নাটক দেখার ফিলিংস থাকার কথাও নয় । জিবনে কোনদিন সিনেমা হলে প্রবেশ করনি , আর টিকিট হাতে মঞ্চ নাটক দেখতে যাবো ভাবতেই হাসি পাচ্ছে । তবুও বন্ধুকে খুশী করার জন্য যেতে রাজি হলাম ।

বিকালে চিপস এর প্যাকেট হাতে নিয়ে শিল্পকলা একাডেমি ভবনে প্রবেশ করলাম মঞ্চ নাটক দেখার জন্য । ড্রেসিং রুমে দেখলাম নাটকের অধিকাংশ কাস্ট আমাদেরই ক্লাসমেট । আর ১৫ মিনিট পর নাটক শুরু হবে , সবাই যার যার আসনে বসে পেড়েছে । শুধু মঞ্চ এর লাইট বাদে সমস্ত লাইট নিভে গেল । আমি অবাক হয়ে ভাবছি মঞ্চ নাটক দেখতে এত এত লোক এসেছে ? অথচ আমি আজই প্রথম জানলাম আমার এই ছোট্ট শহরে মঞ্চ নাটক ও হয় ? তাও নাটকের কাস্ট আমারই ক্লাসমেটরা !!! কত কিছু জানা বাকি আছে ।

নাটক শুরু হল কিন্তু নাটকের নাম বললনা । আকর্ষন রেখে দিল । নাটকের কাহিনী এমন …………………..

একদেশে এক রাজা ছিল । রাজা ন্যয়পরায়ন ছিল But দেশে শান্তি ছিল না । রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার জমিদাররা প্রজাদের কাছথেকে অতিরিক্ত কর আদায় করতো । আর কোষাগারে জমাদিত কম । অতিরিক্ত কর আদায় করার ফলে প্রজাদের ভিতর খোভ সৃষ্টি হতে থাকে । রাজারা সচারচর রাজমহল থেকে বের হতেন না । রাজার পরেই সেনাপতি ক্ষমতাবান ছিলেন , তারপর উজির ,নাজির , জমিদার । একমাত্র রাজা মহাশয় ব্যতিত আর বাকি সকলেই নীতিভ্রষ্ট ছিল , যা রাজা মহাশয় বুঝতে পারছিলেন না । দেশে অনাহার , অন্যায় অত্যাচার , চুরি ডাকাতি ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে । কিছুতেই থামানো যাচ্ছেনা ।

এমতাবস্তায় রাজা মহাশয় হেকিম ও জ্যোতিসিকে ডেকে পাঠালেন ।
সে সময় হেকিম ও জ্যোতিসির মতামতের খুব গুরুত্ব দিতেন রাজা বাদশারা । এবং সেই পরামর্শ অনুযায়ী অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতেন রাজা বাদশারা ।

রাজা বললেন কি করে এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ?

হেকিম : আমার কাছে একটি মহাঔষোধ আছে । যার নাম “মন্দ দুর বটিকা” । যেটা কেউকে সেবন করালে সেই ব্যাক্তির সমস্ত খারাপ / মন্দ দিক গুলো ভাল হয়ে যাবে । সে একজন ন্যয় নিষ্ঠাবান ব্যক্তিতে পরিনত হবে ।

রাজা : তাহলে সেই বটিকা রাজ্যের সকলকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হোক ।

হেকিম : হুজুর রাজ্যের সকলকে খাওয়ানো সম্ভব নয় । আমার কাছে মাত্র একটি বটিকা আছে , আর এই বটিকা নতুন করে তৈরি করা সম্ভব নয় ।

রাজা : তাহলে কি করা যায় ? তবে কি আমার এই রাজ্য থেকে মন্দ দুর করা সম্ভব নয় ?

হেকিম : একটা উপায় আছে । রাজ্যের এমন একজনকে এই বটিকা সেবন করাতে হবে যার মাধ্যমে সকলের উপকার হওয়া সম্ভব ।

পরেরদিন রাজ দরবারে জরুরী সভা ডাকা হল , যেখানে সেনাপতি , উজির ,নাজির , জমিদার সবাই উপস্থিত হল । রাজা সেনাপতিকে বটিকা টি সেবন করতে বললেন ।

সেনাপতি : হুজুর আম…আমি কেন ? উজির সাহেব খাওক !!

উজির : হুজুর আ..আম…আমি কেন ? নাজির সাহেব খাওক !!

নাজির : হুজুর ইয়ে মানে ইয়ে … আমি কেন ? জমিদার সাহেব খাওক !!

জমিদার : উস খুস উস খুস করতেই রাজা ধমক দিয়ে বললেন …….. থামো … আমি যা বলি তাই করো …… সেনাপতি !!

সেনাপতি : জ্বি হুজুর !

রাজা : সেবন করো বটিকা ।

বটিকা সেবন করার সাথে সাথে সেনাপতি ক্যাড়ব্যাড় করা শুরু করলেন , তাই দেখে উজির সাহেব দৌড়ে এসে সেনাপতি সাহেবকে ধরলেন ।

ধরার সাথে সাথে উজির সাহেব ও ক্যাড়ব্যাড় করা শুরু করলেন । তাই দেখে নাজির সাহেব দৌড়ে এসে উজির সাহেবকে ধরলেন ।

ধরার সাথে সাথে নাজির সাহেব ও ক্যাড়ব্যাড় করা শুরু করলেন । তাই দেখে জমিদার সাহেব দৌড়ে এসে নাজির সাহেবকে ধরলেন । ধরার সাথে সাথে জমিদার সাহেব ও ক্যাড়ব্যাড় করা শুরু করলেন ।
তাই দেখে রাজ্য সভার সকল সদস্য দৌড়ে এসে সেনাপতি ,উজির, নাজির, জমিদার সাহেবকে ধরলেন । আস্তে আস্তে সবই ক্যাড়ব্যাড় করা শুরু করলেন । আত্ব:পর সবাই অচেতন হয়ে মাটিতে ঢলে পড়লেন ।

১০ মিনিট পর ,উজির, নাজির, জমিদার সাহেব ও রাজ্য সভার সকল সদস্য জ্ঞান ফিরে পেলেন এবং গা ঝাড়া দিয়ে উঠলেন ।

১ মাস পর ……. ….. রাজ্যে আবার শান্তি ও সমৃদ্ধি ফিরে এসেছে । রাজ্যে সুশাসন চলছে । প্রজারা সস্তুষ্ট ।

দু:খের বিষয় আমাদের দেশে উক্ত বটিকা থাকলেও সম্ভাব্য ফল পাওয়া সম্ভব নয় । কারন …

• রাজার আমলে রাজ্য সভার সদস্য ছিল কম । আর এখন মন্ত্রীসভা অনেক বড় । তখনকার সময় রাজার পরেই ক্ষমতাবান ছিল সেনাপতি । আর এখন প্রধানমন্ত্রী বড় না রাষ্ট্রপতি বড় ? তার নীচের ক্ষমতাবান কে ? প্রধানমন্ত্রীর পিএ / সরকার দলের সাধারন সম্পাদক / এজিআরডি মন্ত্রী /স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ?? কে কার খালু বোঝা মুশকিল ।

• তখনকার সময় বিরধীরাজা ছিল না । এখন বিরধীদল আছে । তাই বটিকা ২ টা প্রয়োজন ।আমাদের দেশে, ভাগে দেয়া কোরবানির গরুটা ছাড়া বাকি সবকিছুই দুই ভাগ হয়; দেখা যাবে, লীগের কর্মীরা বটিকা খেয়ে ভাল হয়ে গেছে কিন্তু বিএনপি’র কর্মীরা বটিকা না পেয়ে হরতাল ডেকছে ।

• দেখাযাচ্ছে আ:লীগ বিএনপি বটিকা খেয়ে ভাল হয়ে গেছে , কিন্তু বিচারপতিরা পায় নাই । ফলে দেশের মানুষ ন্যয় বিচার পাচ্ছেনা ।

• দেখাযাচ্ছে চায়না কোম্পানি মন্দ দুর বটিকা সাপ্লাই দিচ্ছে , যা খেয়ে কাজ হচ্ছে না ।

• সরকার তৃনমুল পর্যায়ে মন্দ দুর বটিকা সাপ্লাইয়ের কাজ দিছে এমপি বোদির হাতে ; আর বদি মন্দ দুর বটিকার বদলে ইয়াবা সাপ্লাই দিয়ে জাতীকে মাতাল করে ফেলেছে ।

• দেখাযাচ্ছে জামাত স্বাধীনতা বিরধী দল বলে তাদের মন্দ দুর বটিকা দেওয়া হয়নি ; ফলে দেশে ১০০% মন্দ দুর হচ্ছে না ।

• শিক্ষামন্ত্রী বলছেন … আগে তো মন্দ দুর বটিকার মানই ছিল না । তাই দেশে মন্দ দুর হয়নি ।

হঠাৎ আজ সেই মঞ্চ নাটকের কথা মনে পড়ে গেল । আজ দেশে মন্দ দুর বটিকার সত্যিকারের প্রয়োজন । আজ টাকা ও ক্ষমতার দাপটে কিছু লোকজন মাতাল হয়ে গেছেন । কখন কোথায় কি বলছেন আর কি করছেন সব দিশা হারিযে ফেলছেন ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হায়ার সেলফ্‌

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


শীতের সময়ে রাত ১০ টা অনেক রাত। আর তা যদি হয় শহর থেকে দূরে শহরতলীতে,আবাসিক এলাকার আশপাশে,তাহলে তো কথাই নেই। রাত আটটা বাজতে না বাজতেই পাড়ার সকলে সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিরনাম হীন

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮

তুমি চাইলেই মুঠোর ভেতর
একটা গোটা চাঁদ লুকিয়ে রাখতে পারো,
ইচ্ছে করলেই মেঘের গায়ে
শুকোতে দিতে পারো তোমার ভেজা চুল।
পুরো পৃথিবীর বিস্ময়
তোমার কাছে এসে দাঁড়ায় হাতজোড় করে,
শুধু আমার বুকের কাঁপনে
তোমার এত ভয় কেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×