রাত ১ঃ১৫মিনিট । হোটেল সোনারগাঁয়ের মোড় । অনেকটাই জনশুন্য । একজন সিএনজি ড্রাইভারকে একটি চলন্ত ট্রাক থেকে নেমেই ড্রাইভারের নেতৃত্বে ৫/৬ জন শ্রমিক বেলচা ,কোদাল দিয়ে এলোপাথারি মারধোর করছে । ঠিক রাস্তার উল্টোদিকে একুশে টিভির সামনে দাঁড়িয়ে একুশে রাতের একজন সম্মানিত অথিতির সাথে পান্না ভাই কথা বলছেন , পাশে দাঁড়িয়ে আমি কথা শুনছি ।কিন্তু আমার চোখ রাস্তার ওপাড়ে ঘটতে থাকা ঘটনাটি এড়ায় না । চারিদিকে ২/৪ জন রিক্সাওলা ছাড়া আর কেউ নেই । কিন্তু কেউ লোকটিকে বাচাতে এগিয়ে গেল না ।
১জন নিরস্ত্র মানুষকে ৬/৭ জন বেলচা,কোদাল দিয়ে মারছে দেখে নিজেকে সংযত রাখাটা কঠিন হয়ে পড়ে । কোন কথা না বলেই দৌড়ে চিৎকার দিয়ে লোকটাকে বাঁচতে ঝাপিয়ে পড়ি । আমার পিছনে পিছনে কামরুল ও আমার ড্রাইভার আনোয়ার ভাই চলে আসেন । আমাদের তৎপরতায় ট্রাকের ড্রাইভার ও অন্য শ্রমিকরা দৌড়ে পালানোর চেস্টা করে ব্যর্থ হয় । ধরা পড়ে উত্তম-মধ্যম যা দেয়ার দিতেই পান্না ভাই ও আমার অথিতি আমাদের টেনে নিবৃত্ত করেন । এর মধ্যে লোকটিকে বাঁচাতে গিয়ে টানাহেঁচড়ায় আমার বা হাতের কনুই ও বা পায়ের হাঁটু সামান্য ছিলে যায় ।
রোগী মারা যাবার পর যেমন চিকিৎসক আসেন তেমনি একটু দূরে দাড়িয়ে তামশা দেখতে থাকা পুলিশ ঘটনার সবশেষে আসেন ।
সামান্য ছিলে যাওয়া নিয়ে দুঃখ নেই । কামরুল সহ আমরা দুইজন যদি এগিয়ে না যেতাম আজ হয়তো সিএনজি ড্রাইভারকে রক্তাক্ত করে মেরেই ফেলা হতো । আফসোস একটাই ফাইভ স্টার হোটেলের সামনে এই পুলিশ রাতেরবেলা কিসের ডিউটি দেয় ? শুধু দূর থেকে তামশা দেখার জন্য? নাকি ঘটনা ঘটে যাবার পর ঘটনাস্থলে যাবেন ?
হায় কি কর্তব্যপরায়ন আমাদের পুলিশ !




সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ২:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


