somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্বকাপ ও অনেক স্মৃতি

১১ ই জুন, ২০১৮ বিকাল ৩:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




আর কদিন পরে রাশিয়ায় শুরু হয়ে যাবে বিশ্বকাপ ফুটবল । একসময় এই ফুটবল নিয়ে কত মাতামাতি করেছি ।আজ কত কথাই মনে পড়ে যাচ্ছে !
আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখি । সেটা ১৯৮২ সালের কথা ।সেই সময়টাতে দেশের ফুটবল লীগও তখন জমজমাট । সালাহূউদ্দীন, চুন্নু , সালাম,বাদল,গাফফার,আশিস ভদ্র, খোরশেদ বাবুল ,টুটুল, ওয়াসিম তখন দেশের সুপার স্টার । আবাহনী- মোহামেডান-ব্রার্দাস ঢাকার মাঠ দাবড়িয়ে বেড়ায় । ১৯৮১ সাল থেকেই আমি ঢাকা স্টেডিয়ামে নিয়মিত আবাহনীর খেলা দেখতে যেতাম। ঝড়-বৃস্টি আমাকে আটকে রাখতে পারত না। আমার বাবাও নিয়মিত স্টেডিয়াম গিয়ে খেলা দেখতেন । তিনি ছিলেন মোহামেডানের ঘোর সমর্থক। আমি আবাহনী, বড়ভাই ও বোন ছিল মোহামেডানের সমর্থক । বাসায় খেলা নিয়ে তিনভাই বোনের মধ্যে তুমুল ঝগড়া বেধে যেত। কিন্তু প্রায় সময় আমি তর্কে হেরে যেতাম। কারন বাসায় আমি ছিলাম সংখ্যালঘু , আমার ছোটকাকাও ছিলেন মোহামেডানের সমর্থক, তিনি আমার বড়ভাই ও বোনের পক্ষ নিতেন। তারপরেও তিনি আমাকে আবাহনীর খেলা দেখার জন্য টাকা দিতেন ,সেই টাকা নিয়ে আমি স্কুল থেকে টিফিনের পর সোজা স্টেডিয়াম চলে যেতাম ।
পরিবারের সবাই খেলা পাগল বলেই বাসায় নিয়মিত রাখা হত পাক্ষিক ক্রীড়াজগত । ম্যাগাজিনটি যখন হকার দিয়ে যেত, তখন কে কার আগে পড়ব এই নিয়েও কাড়াকাড়ি পড়ে যেত ।
১৯৮২ সালে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার আসর হবে স্পেনে ,তখনো আমাদের বাসায় রঙিন টেলিভিশন আসেনি ।পাড়ায় হাতে গোনা ২/৪টি বাসায় রংগীন টিভি ছিল। বিটিভি বেশ কয়টি খেলা দেখাবে শুনেই আমাদের তিনভাই বোনের প্রচন্ড মন খারাপ , সাদাকালো টিভিতে খেলা দেখতে হবে বলে !
আমাদের মনের অবস্থা বাবা বুঝতে পেরেছিলেন কিনা জানি না। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর আগের রাতে আমাদের বাসায় চলে আসে ১৭ ইঞ্চি ফিলিপসের রংগীন টিভি । যদ্দুর মনে পড়ে আমরা তিনভাই বোন পড়া শেষ করে রাতের খাবার খেয়ে ১০টা সাড়ে ১০টায় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। বাবা টিভি নিয়ে বাসায় এসেছিলেন অনেক রাত করেই। সেই রাতে আমাদের ঘুম থেকে উঠিয়ে বাবা সারপ্রাইজই দিয়েছিলেন।
বাসায় রঙ্গীন টিভি দেখে আমাদের কি আনান্দ, সেটা বলে বোঝানো যাবে না ! সবে মাত্রই তখন বিটিভি রংগীন হতে শুরু করেছে ।
জ্ঞান হবার পর প্রথম টিভিতে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখেছি ১৯৮২ সালে, যা স্পে্নে অনুস্টিত হয়েছিল । মনে পড়ে পোল্যান্ডের লেটো, বনিয়েক, ফ্রান্সের মিশে্ল প্লাতিনি, ব্রাজিলের জিকো,সক্রেটিস,ফ্যালকাও , ইংল্যান্ডের কেভিন কিগান, ইতালীর দিনো জফ, মালদিনির খেলা কিশোর মনে দাগ কেটেছিল ।যা আজও সৃতিতে ভাস্বর হয়ে আছে । বিশ্বকাপ নিয়েও বাসায় আমাদের তিনভাই-বোনের মধ্যে প্রচন্ড ঝগড়া ঝাটি লেগেই থাকতো। সেইবারও আমি ছিলাম সংখালঘু। বাসায় সবাই আর্জেন্টিনার সমর্থক ছিলেন।কিন্তু এইবার সেই চিত্র উল্টো ।বাবা-মা-ভাই ও আমিসহ সবাই ব্রাজিল সমর্থক। বিশ্বকাপ এলে আমার ছোট বোনটাকেও খুব মিস করি ।আর বাবা পক্ষাঘাতে শয্যাশায়ী। তার মধ্যে ফুটবল নিয়ে সেই উন্মাদনা নেই।এখন তিনি নিরব দর্শক!
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০১৮ বিকাল ৩:২৯
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাকিস্তান পারল, বাংলাদেশ পারল না কেন: আরও একটি প্রশ্ন

লিখেছেন মুনতাসির, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫০

প্রথম আলোতে মুনির হাসানের ‘পাকিস্তান পারল, বাংলাদেশ পারল না কেন’ লেখাটি পড়লাম। পাকিস্তানে Google-এর নিজস্ব অফিস চালু হওয়াকে সামনে রেখে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন: তথ্যপ্রযুক্তি খাতে একসময় খুব বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্ব্বহারা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়।
১৯৪৩ সালে জাপান ভারতে আচমকা বেশ কিছু বোমা হামলা করে। সম্ভবত হিটলারকে খুশি করতেই জাপান এই কাজ করে। একের পর এক বোমা ফেলে মাদ্রাজে (বতর্মান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×