প্রিয় শেখ হাসিনা,
নিজেকে কোনদিন আপনার ভক্তের কাতারে দাঁড় করাইনি বরং প্রয়োজনমতো সমালোচনা করেছি। আমার কাছে আপনার সকল কথা বা কাজ ভালো লাগতেই হবে এমন কোন দায়বদ্ধতা আপনার ছিলো না বা আমাকেও যে আপনাকে অন্ধের মতো সমর্থন দিতে হবে এমন প্রতিজ্ঞাও আমি কোথাও করিনি!রাজনীতি নিয়ে আমার আগ্রহ বেশ আগে থেকেই, প্রথমবারের মতো ভোট দেই ২০০৮ সালে; বলার অপেক্ষা রাখে না যে আপনার দলকে ভোট দিয়েছি শুধুমাত্র 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার' সম্পন্ন করবেন বলে।এরপর অনেক অনেক রাজনৈতিক পালাবদল হলো; কখনও কখনও হতাশ হতাম এইভেবে যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বুঝি এবারও হলো না!মনে পড়ে ৫ ফেব্রুয়ারি যখন কাদের মোল্লার রায় হলো তখন আমার নিষ্ফল ক্ষোভ কিংবা বিষণ্নতা আমার কাছের মানুষেরা দেখেছেন; নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে পারিনি বলে সেই তুমুল ফেব্রয়ারিতে প্রায় সাড়ে তিন বছর পর দেশে ফিরি অথবা বলা চলে শাহবাগে ফিরি। এক আকাশের চেয়েও বড় আশা নিয়ে ফিরে এসেছি আর অপেক্ষার প্রহর গুণেছি কবে আসবে সেই মহেন্দ্রক্ষণ?জানতাম এত সহজে সবকিছু হবেনা। চারপাশে শত্রুর অভাব নেই, ঘরের শত্রু, বাইরের শত্রু, প্রকাশ্য শত্রু, ছদ্মবেশধারী শত্রু।যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করার পর থেকেই অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হয়েছে; হরতাল, অবরোধ, সাক্ষীদের হত্যা, নৈরাজ্য সৃষ্টির পায়তারা সবই আমরা দেখেছি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমাদের এও জানা আছে কিভাবে জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইট ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ব্রিটেনের সাঈদা ওয়ার্সি, ডেভিড বার্গম্যান, টবি ক্যাডম্যান, নাভি পিল্লাই, জন কেরি, বান কি মুন, গ্যাব্রয়েলা নোল আরও কত নাম বলবো যারা জামাতের টাকা খেয়ে নির্লজ্জভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর যড়যন্ত্রে মেতেছে। নিজেকে দিয়েই দেখেছি, বৃটেনে বাংলা কমিউনিটি রেডিওতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে 'গৌরবের ৪০ বছর নামে একটা অনুষ্ঠান শুরু করেছিলাম ২০১১তে। এখানকার জামাত ও অন্যান্য সুবিধাভোগীদের জন্য কয়েক মাস পরে অনুষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়! সেখানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের যড়যন্ত্রের তীব্রতা আর কউ না পারুক আমি উপলব্ধি করতে পারি।
প্রিয় শেখ হাসিনা, আপনি আমাদের মনের দ্বিধাকে জয় করেছেন, সাহস দিয়েছেন আর সারা বিশ্বের তথাকথিত মানবতাবাদীদের মায়া কান্না উপেক্ষা করে বাংলার তরুন সমাজের বৃহত অংশ যে রায় দেখার জন্য প্রবল আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিলো আজ ১২-১২-১৩ দিনে আপনি আমাদের এই জীবনের সবচেয়ে বড় উপহারটি দিলেন। ধন্যবাদ। শেখ হাসিনা আপনাকে ধন্যবাদ।
আমার বিশ্বাস আপনি ছিলেন বলেই আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ যড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এমন সাহসী লড়াই লড়তে পেরেছেন- এ আমার সারা জিবনের শিক্ষা হয়ে থাকবে। আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একজন পিতা হিসেবে আপনাকে নিয়ে নিশ্চয়ই ভীষন গর্বিত।
পরিশেষ: ভোটের লড়াইয়ে আপনি হয়তো হেরে যাবেন, আপনি হয়তো এইসব ঘাতকদের বুলেটের লক্ষ্য হবেন কিন্তু থেমে যাবেন না। আপনাকে একটি কথা জানিয়ে দিতে চাই আপনি বিরোধীদলে থাকেন, রাজপথে কিংবা জেলখানায় থাকেন আমাকে আপনার পাশে পাবেন, আপনাকে লক্ষ্য করে ঘাতকের ছোড়া প্রতিটি বুলেট আমার মত হাজারো তরুণকে ভেদ করে তবেই আপনি পর্যন্ত পৌঁছাবে। আপনি এই প্রজন্মকে দেয়া আপনার কথা রেখেছেন, আপনাকে আশ্বস্ত করতে চাই এই বলে যে এই প্রজন্মও আপনাকে দেয়া কথা রাখতে প্রস্তুত। এই বাংলাদেশে আপনি একা নন।
জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



