somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নামহীন অনুগল্প

০২ রা জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খুব ঘরকুনো আর অলস আমি।বাসায় বসে মাসের পর মাস কাটাতেও খুব একটা সমস্যা হয়না আমার।আসলে কোলাহল,হৈচৈ তেমন একটা ভালো লাগেনা।তবু মাঝেমধ্যে বের হই।যেদিন আকাশটা মেঘলা থাকে,তবে বৃষ্টি থাকেনা।যেদিন গোধূলি লগ্নে পুরো পশ্চিমটা রক্তিম হয়ে উঠে সেদিন।সবচেয়ে ভালো লাগে শীতের বিকেলে হাঁটতে।মৃদু আলো থাকে,তাপ থাকেনা।শীতল বাতাস নেই অথচ হিম হিম ভাব থাকে।কিছু পছন্দের জায়গায় হেঁটে বেড়াই।মানুষ দেখি,আনন্দ দেখি,জীবন দেখি।সবচেয়ে ভালো লাগে বেইলি রোডের নাটক পাড়ার রাস্তাটা দিয়ে হাঁটতে।রমনার দিকে চলে গেসে যে রাস্তাটা।সুযোগ পেলেই এ রাস্তা ধরে হেঁটে বেড়াই।গাছ গাছালি ঘেরা,শান্ত,নিরিবিলি।ফুটপাতের ধার ঘেঁষে বসে থাকার মানুষগুলোর বন্ধুত্ব দেখি,প্রেম দেখি।আমার খুব ইচ্ছে করে কোন একদিন দেখব মেয়েটা ছেলেটার জন্য লুকিয়ে লুকিয়ে নিজ হাতে রান্না করা পায়েস নিয়ে এসেছে।ছেলেটা মুখে দিয়েই বলবে
-আচ্ছা তোমার বাবা তো জানি ব্যাংকে চাকরী করে।এছাড়া কোন ব্যবসা আছে তোমাদের?
-না তো!!কেন?
-না পায়েসে যে পরিমাণ চিনি দিয়েছ ভাবলাম চিনির ব্যবসা আছে নাকি।
-বেশি হয়েছে?কই আমিতো দেখলাম ঠিকই আছি।নতুন নতুন তো।ঠিক শিখে যাব।নিজের উপর করা অভিমানের সুরে বলবে মেয়েটা।
-বড় মায়া লাগবে ছেলেটার।বলে উঠবে,আরে বোকা তুমি দেখি কেঁদে দিচ্ছ!আমিতো মজা করলাম।তোমার হাতের রান্নাতো এমনিতেই মিষ্টি।বাড়তি চিনি লাগে বুঝি?
-ফাজিল।তাই বলে এত সিরিয়াস হয়ে বলে কেউ?ছেলেটার গায়ে নরম হাতে কিল ঘুষি দিতে থাকবে মেয়েটা।দুজন খুব হাসবে।প্রকৃতি তাদের দেখবে আর মুগ্ধ হবে।
এসব কিছুই দেখিনা আমি।সব প্রেম আর ভালোবাসাগুলো নামি দামী কফিশপে বন্দী।আচ্ছা ভালোবাসা কি বন্দী করে রাখার মত এত সংকীর্ণ?!

সেদিন অভিকের সাথে গিয়েছিলাম ওদিকটায়।ভাবলেশহীনভাবে বলল "এখনো আসিস এখানে?হাসি দিয়েই সিগারেটটা ধরালো।বেশ আয়েশি ভঙ্গিতে কয়েকটা টান দিয়ে বলল।এসব পাগলামি রাখ।চাকরী বাকরি কিছু একটা কর।
-চাকরী তো করিই আমি।
-ওসবকে চাকরী বলে?কর্মচারীর মত খাটাখাটনি।বিরহতো আমারও ছিল।কিন্তু তোর মত হয়েছি?চিল মামা চিল।জীবন একটাই।বলেই আবার সুখটান দেয় সে।
-এদিকে কৃষ্ণচূড়া গাছ থাকলে ভালো হত নারে?রোদের আলোয় খুব ভালো একটা আভা পড়ত।
-আজকাল লেখার কাগজ ছেড়ে আঁকার ক্যানভাস ধরলি নাকি?তুই পারিসও বটে।
আমি হেসে উঠলাম।কিছু বলার আগেই একটা থমথমে ভাবের মধ্যে পড়লাম আমরা।এটা পারমিতা না?আরে পারমিতাই তো।খুব সম্ভব অফিসারস ক্লাবে কোন অনুষ্ঠানে এসেছে।বেশ সেজেছে মেয়েটা।অভিকের দিকে তাকাতেই দেখলাম একটা ফ্যাকাসে আর অপ্রস্তুত ভাব।বেশ শান্ত গলায় আসতে করে বলে উঠলো,
-আজ কত তারিখরে?
-৫ ডিসেম্বর,২১শে অগ্রহায়ণ।আর কিছু?
-নারে।আজ পারমিতার বিয়ে।মেয়েটাকে ইন্দ্রাণীর মত লাগছে নারে?
-জানিনা বন্ধু।ইন্দ্রাণী দেখি নাইতো কোনদিন।হালকা রসিকতায় কাজ হলো না।বরং ছেলেটাকে দেখে খারাপ লাগছে।
আঁধারে মিলিয়ে গেছে চারদিক।চায়ের দোকানে এসে দুটো চা দিতে বললাম।
অভিক বেশ চুপচাপ।"দেখলি তো?ভালোবাসার ক্ষত সে যে ক্ষত না?খুব মারাত্মক আর পচে যাওয়া ক্ষত।চিন চিনে একটা ব্যথা মাঝে মধ্যেই উঠে।আর দাগটা তো থেকেই যায়।সেই দাগ সময়ে সময়েই বলবে,ফেঁসে গেছিসরে পাগলা।"

অভিকের চোখ ছলছল করছে।কখনো এই ছেলেকে এতটা অসহায় দেখিনি।ও কাঁদতে চাইছে।কাঁদাটা দরকার।মনের বিষগুলো চোখের পানি হয়ে বের হয়ে যাওয়াটা খুব দরকার।আটকাবো না ওকে।বরং উসকে দিতেই গরম চায়ে চুমুক দিয়ে বেসুরো গলায় গান ধরলাম
ছেড়ে গেলে সোনার গৌর আর তো পাবে না
ছেড়ে যাব না
তোমায় হৃদ মাজারে রাখবো ছেড়ে যাব না
তোমায় মন মাজারে রাখবো ছেড়ে যাব না...
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১:৩০
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে ফিরে আসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬


সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?

আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত‍্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্পত্তি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৭

সম্পত্তি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

মায়ের কোলে থাকা অবস্থায়
বাবা ইন্তেকাল করেন।
দিগবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েন মা
বাবার অর্জিত কোনো সম্পত্তি ছিল না।
ওয়ারিশ সূত্রে কিছু খণ্ড খণ্ড জমি
এখনও বিদ্যমান বা আছে।
শৈশবে দেখেছি একটি জমিতে
চার-পাঁচটি কদম গাছ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×